কেউ কথা রাখেনি
“কবিতা সম্পর্কে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের 'কেউ কথা রাখেনি' আধুনিক বাংলা কবিতার সবচেয়ে বেশি উদ্ধৃত কবিতাগুলোর…”
শুধু বিঘে দুই ছিল মোর ভূঁই, আর সবি গেছে ঋণে।
বাবু বলিলেন, “বুঝেছ উপেন, এ জমি লইব কিনে।”
কহিলাম আমি, “তুমি ভূস্বামী, ভূমির অস্ত নাই;
চেয়ে দেখো মোর আছে বড়ো-জোর মরিবার মতো ঠাঁই।”
শুনি’ রাজা কহে, “বাপু, জানো তো হে, করেছি বাগানখানা
পেলে দুই বিঘে প্রস্থে ও দীঘে সমান হইবে টানা—
ওটা দিতে হবে।”—কহিলাম তবে বক্ষে জুড়িয়া পাণি
সব্জল চক্ষে, “করুন রক্ষে গরিবের ভিটেখানি।
সপ্তপুরুষ যেথায় মানুষ সে-মাটি সোনার বাড়া,
দৈন্যের দায়ে বেচিব সে-মায়ে এমনি লক্ষ্মীছাড়া?”
আঁখি করি লাল রাজা ক্ষণকাল রহিলা মৌনভাবে,
কহিলেন শেষে ক্রুর হাসি হেসে, “আচ্ছা সে দেখা যাবে॥”
পরে মাস দেড়ে ভিটেমাটি ছেড়ে বাহির হইনু পথে—
করিল ডিক্রি, সকল বিক্রি, মিথ্যা দেনার খতে।
এ জগতে, হায়, সেই বেশি চায় আছে যার ভূরি ভূরি।
রাজার হস্ত করে সমস্ত কাঙালের ধন চুরি।
মনে ভাবিলাম মোরে ভগবান রাখিবে না মোহগর্তে,
তাই লিখি’ দিল বিশ্ব নিখিল দু বিঘার পরিবর্তে।
সন্ন্যাসীবেশে ফিরি দেশে দেশে হইয়া সাধুর শিষ্য,
কত হেরিলাম মনোহর ধাম, কত মনোহর দৃশ্য।
ভূধরে সাগরে বিজনে নগরে যখন যেখানে ভ্রমি,
তবু নিশিদিনে ভুলিতে পারিনে সেই বিঘা দুই জমি।
হাটে মাঠে বাটে এই মতো কাটে বছর পনেরো ষোলো,
একদিন শেষে ফিরিবারে দেশে বড়োই বাসনা হোলো।৷
নমোনমো নমঃ সুন্দরী মম জননী বঙ্গভূমি।
গঙ্গার তীর স্নিগ্ধ সমীর জীবন জুড়ালে তুমি।
অবারিত মাঠ, গগণ-ললাট চুমে তব পদধূলি,
ছায়া-সুনিবিড় শান্তির নীড় ছোটো ছোটো গ্রামগুলি।
পল্লবঘন আম্রকানন, রাখালের খেলা-গেহ;
স্তব্ধ অতল দিঘি-কালোজল, নিশীথ-শীতল স্নেহ।
বুকভরা মধু বঙ্গের বধূ জল লয়ে যায় ঘরে,
মা বলিতে প্রাণ করে আনচান, চোখে আসে জল ভ’রে।
দুই দিন পরে দ্বিতীয় প্রহরে প্রবেশিনু নিজ-গ্রামে।
কুমোরের বাড়ি দক্ষিণে ছাড়ি’ রথ-তলা করি’ বামে,
রাখি’ হাটখোলা নন্দীর গোলা, মন্দির করি’ পাছে
তৃষাতুর শেষে পঁহুছিনু এসে আমার বাড়ির কাছে।৷
ধিক ধিক ওরে শতধিক তোরে, নিলাজ কুলটা তুমি,
যখনি যাহার, তখনি তাহার, এই কি জননী তুমি।
সে কি মনে হবে একদিন যবে ছিলে দরিদ্র-মাতা,
আঁচল ভরিয়া রাখিতে ধরিয়া ফলফুল শাকপাতা।
আজ কোন্ রীতে কারে ভুলাইতে ধরেছ বিলাস-বেশ,
পাঁচরঙা পাতা অঞ্চলে গাঁথা, পুষ্পে খচিত কেশ।
আমি তোর লাগি’ ফিরেছি বিবাগী গৃহহারা সুখহীন,
তুই হেথা বসি’ ওরে রাক্ষসী, হাসিয়া কাটাস দিন?
ধনীর আদরে গরব না ধরে, এতই হয়েছ ভিন্ন,
কোনোথানে লেশ নাহি অবশেষ সে-দিনের কোনো চিহ্ন।
কল্যাণময়ী ছিলে তুমি অয়ি, ক্ষুধা-হরা সুধারাশি;
যত হাসো আজ, যত করো সাজ, ছিলে দেবী, হোলে দাসী।৷
বিদীর্ণ-হিয়া ফিরিয়া ফিরিয়া চারিদিকে চেয়ে দেখি;
প্রাচীরের কাছে এখনো যে আছে সেই আম গাছ এ কি।
বসি’ তার তলে নয়নের জলে শান্ত হইল ব্যথা,
একে একে মনে উদিল স্মরণে বালক-কালের কথা।
সেই মনে পড়ে জ্যৈষ্ঠের ঝড়ে রাত্রে নাহিক ঘুম,
অতি ভোরে উঠি’ তাড়াতাড়ি ছুটি’ আম কুড়াবার ধুম।
সেই সুমধুর স্তব্ধ দুপুর, পাঠশালা-পলায়ন,—
ভাবিলাম হায় আর কি কোথায় ফিরে পাব সে-জীবন।
সহসা বাতাস ফেলি গেল শ্বাস শাখা দুলাইয়া গাছে;
দুটি পাকা ফল লভিল ভূতল আমার কোলের কাছে।
ভাবিলাম মনে, বুঝি এতখনে আমারে চিনিল মাতা।
স্নেহের সে-দানে বহু সম্মানে বারেক ঠেকানু মাথা।৷
হেনকালে হায় যমদূতপ্রায় কোথা হতে এল মালী।
ঝুঁটি-বাঁধা উড়ে সপ্তম সুরে পাড়িতে লাগিল গালি।
কহিলাম তবে, “আমি তো নীরবে দিয়েছি আমার সব
দুটি ফল তার করি অধিকার, এত তারি কলরব!”
চিনিল না মোরে, নিয়ে গেল ধ’রে কাধে তুলি’ লাঠিগাছ,
বাবু ছিপ হাতে পারিষদ সাথে ধরিতেছিলেন মাছ,
শুনি’ বিবরণ ক্রোধে তিনি কন্ “মারিয়া করিব খুন।”
বাবু যত বলে, পারিষদ-দলে বলে তার শতগুণ।
আমি কহিলাম, “শুধু দুটি আম ভিখ মাগি মহাশয়।”
বাবু কহে হেসে, “বেটা সাধুবেশে পাকা চোর অতিশয়।”
আমি শুনে হাসি, আঁখিজলে ভাসি, এই ছিল মোর ঘটে,
তুমি মহারাজ, সাধু হোলে আজ, আমি আজ চোর বটে।
৩১ জ্যৈষ্ঠ, ১৩০২
উপেন নামের এক দরিদ্র কৃষকের ছিল মাত্র দুই বিঘা জমি; বাকি সব ঋণে বিকিয়ে গেছে। জমিদার বাবু তার প্রাসাদের বাগান বাড়ানোর জন্য এই দুই বিঘা জমি কিনতে চান। উপেন কাতর অনুরোধ করে—‘তুমি ভূস্বামী, ভূমির অন্ত নাই; চেয়ে দেখো মোর আছে বড়ো-জোর মরিবার মতো ঠাঁই’—কিন্তু বাবু শোনেন না। মিথ্যা মামলায় জমি কেড়ে নেওয়া হয়; সর্বস্বান্ত উপেন সন্ন্যাসী হয়ে দেশে দেশে ঘুরে বেড়ান। বহু বছর পর তিনি গ্রামে ফিরে আসেন। দেখেন, তার সেই জমিতে এখন আমবাগান; গাছে ঝুলছে পাকা আম। স্মৃতিকাতর উপেন একটি আম কুড়িয়ে মুখে দিতে গেলে বাবুর লোকজন তাকে ধরে—‘চোর’ বলে গালি দেয়। কবিতার শেষে উপেনের সেই অমর উক্তি: ‘আমি শুনে হাসি, আঁখিজলে ভাসি, এই ছিল মোর ঘটে—তুমি মহারাজ, সাধু হোলে আজ, আমি আজ চোর বটে।’ এই কবিতা জমিদারি শোষণের বিরুদ্ধে এক মর্মস্পর্শী প্রতিবাদ এবং ভূমির প্রতি কৃষকের মাতৃস্নেহের কাব্য।
‘দুই বিঘা জমি’ কবিতার শক্তি এর সরল আখ্যানে—কোনো জটিল দার্শনিকতা নয়, একজন মানুষের জীবনের করুণ পরিণতির গল্প। কিন্তু এই সরলতার ভেতরেই লুকিয়ে আছে তীব্র সামাজিক সমালোচনা। উপেনের দুই বিঘা জমি শুধু সম্পত্তি নয়; তা তার পিতৃপুরুষের স্মৃতি, তার অস্তিত্বের ভিত্তি, তার ‘মরিবার মতো ঠাঁই’। জমিদার যখন বলেন ‘বুঝেছ উপেন, এ জমি লইব কিনে’, তখন তা শুধু ক্রয়-প্রস্তাব নয়—তা ক্ষমতার হুমকি। কবি দেখিয়েছেন, আইন ও ক্ষমতা কীভাবে মিলে দরিদ্রের সর্বস্ব কেড়ে নেয়: মিথ্যা মামলা, দেনার ফাঁদ—এই ছিল উনিশ শতকের বাংলার গ্রামীণ বাস্তবতা। কবিতার দ্বিতীয়ার্ধে উপেনের প্রত্যাবর্তন অত্যন্ত নাটকীয়। যে জমি একদিন তার ছিল, সেখানে এখন পরের বাগান; যে আমগাছ হয়তো তারই হাতে লাগানো, তার ফল খেতে গেলেই সে ‘চোর’। এই পরিস্থিতির মধ্যে কবি ফুটিয়ে তুলেছেন শোষিত মানুষের চরম অপমান—নিজের জিনিসে নিজেরই অধিকার নেই। শেষ দুই পংক্তিতে উপেনের হাসি ও চোখের জল একসঙ্গে—এই বৈপরীত্যে ফুটে উঠেছে পরাজিত মানুষের তিক্ত প্রজ্ঞা। ‘তুমি মহারাজ, সাধু হোলে আজ, আমি আজ চোর বটে’—এই ব্যঙ্গ শুধু জমিদারের প্রতি নয়, গোটা অন্যায় ব্যবস্থার প্রতি। ভাষার দিক থেকে কবিতাটি পয়ার ছন্দে রচিত, যা আখ্যানকবিতার জন্য উপযুক্ত; সংলাপের ব্যবহারে (বাবু-উপেনের কথোপকথন) কাহিনি প্রাণ পেয়েছে। উল্লেখ্য, রবীন্দ্রনাথ নিজে জমিদার পরিবারের সন্তান হয়েও এখানে জমিদারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন—এই নৈতিক সাহস কবিতাটিকে আরও মহৎ করে। শিলাইদহে জমিদারি পরিচালনার সময় তিনি কৃষকদের দুর্দশা নিজের চোখে দেখেছিলেন; উপেনের চরিত্রে সেই বাস্তব অভিজ্ঞতার ছাপ স্পষ্ট। আজও ভূমি-অধিকার, উচ্ছেদ, প্রান্তিক মানুষের বঞ্চনার প্রশ্নে এই কবিতা সমান প্রাসঙ্গিক। পাঠ্যপুস্তকে পড়ে প্রতিটি বাঙালি শিশু উপেনের সঙ্গে পরিচিত হয়; আর প্রাপ্তবয়স্ক পাঠক প্রতিবার পড়ে নতুন করে উপলব্ধি করেন—কবিতার শিল্পগত আরেকটি দিক হলো এর সংযত বর্ণনা—কবি কোথাও বাড়াবাড়ি করেননি; উপেনের দুঃখ বলা হয়েছে শান্ত, প্রায় সংবাদ-বিবরণীর মতো সুরে, আর তাতেই বেদনা আরও তীব্র হয়েছে। ‘মরিবার মতো ঠাঁই’—এই শব্দবন্ধে জমি ও মৃত্যুর গভীর সম্পর্ক ফুটে উঠেছে; বাঙালি কৃষকের কাছে জমি শুধু জীবিকা নয়—তা পিতৃপুরুষের ভিটা, মৃত্যুর পর শায়িত হওয়ার মাটি। জমি কেড়ে নেওয়া মানে তাই মানুষের শেকড় কেটে দেওয়া। উপেনের চরিত্রে মর্যাদাবোধ লক্ষণীয়—তিনি ভিক্ষা চাননি, ন্যায় চেয়েছিলেন; আর ন্যায় না পেয়ে তিনি প্রতিশোধ নেননি—শুধু তিক্ত হাসি হেসেছেন। এই সংযমই তাকে ট্র্যাজিক নায়কের মর্যাদা দিয়েছে। কবিতাটি আজও পাঠ্যপুস্তকে থাকার কারণ শুধু এর ভাষা-সৌন্দর্য নয়—এর নৈতিক প্রশ্ন: ক্ষমতাবানের ‘সাধু’ সাজার ভণ্ডামি আর দুর্বলের ‘চোর’ হওয়ার বাধ্যবাধকতা—এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিটি প্রজন্মকেই সোচ্চার হতে হয়।
জমিদারি শোষণ, ভূমি-অধিকার, শ্রেণিবৈষম্য, মাতৃভূমির প্রতি মমতা, দারিদ্র্য ও বঞ্চনা
কবিতাটি পয়ার ছন্দে (অক্ষরবৃত্ত) রচিত আখ্যানকবিতা; দীর্ঘ বর্ণনার জন্য এই ছন্দ অত্যন্ত উপযোগী। কবি সংলাপের মাধ্যমে কাহিনি এগিয়ে নিয়েছেন—বাবুর ঔদ্ধত্যপূর্ণ উক্তি ও উপেনের কাতর মিনতি এই সংলাপেই ফুটে উঠেছে। চরিত্রচিত্রণ সংক্ষিপ্ত কিন্তু প্রাণবন্ত: কয়েকটি পংক্তিতেই উপেনের দারিদ্র্য, মমতা ও মর্যাদাবোধ স্পষ্ট হয়। শেষের ব্যঙ্গাত্মক মোড় (‘আমি আজ চোর বটে’) কবিতাটিকে শুধু করুণ কাহিনি থেকে উন্নীত করে প্রতিবাদী ব্যঙ্গে পরিণত করেছে। ভাষা সহজ, প্রবহমান ও আবেগঘন; গ্রামীণ জীবনের চিত্র—আমবাগান, মাটির ঘ্রাণ, সন্ন্যাসীর বেশ—পাঠকের মনে জীবন্ত হয়ে ওঠে। পুনরাবৃত্তি ও ধ্বনিমাধুর্য কবিতাটিকে আবৃত্তির জন্য আদর্শ করে তুলেছে। পয়ার ছন্দের প্রতিটি পংক্তিতে চৌদ্দ মাত্রার সুষম বিন্যাস কাহিনিকে দিয়েছে মহাকাব্যিক গাম্ভীর্য। অন্ত্যমিলের ব্যবহার সংযত—কবি মিলের চেয়ে ভাবের প্রবাহকে প্রাধান্য দিয়েছেন।
কবিতাটি রচিত হয় ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৩০২ বঙ্গাব্দে (১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দ) এবং ‘চিত্রা’ কাব্যগ্রন্থে প্রকাশিত হয়। এই সময় রবীন্দ্রনাথ শিলাইদহ, শাজাদপুর ও পতিসরে জমিদারি দেখাশোনা করতেন এবং প্রজাদের—বিশেষত দরিদ্র কৃষকদের—দুর্দশা কাছ থেকে দেখার সুযোগ পান। চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের (১৭৯৩) ফলে সৃষ্ট জমিদারি ব্যবস্থায় কৃষকরা নানাভাবে শোষিত হতো—খাজনার বোঝা, বেআইনি আবওয়াব, মিথ্যা মামলা ছিল নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। রবীন্দ্রনাথ নিজে প্রজাদের প্রতি সহানুভূতিশীল জমিদার হিসেবে পরিচিত ছিলেন; তিনি খাজনা মওকুফ, পাঠশালা স্থাপনসহ বহু কল্যাণমূলক কাজ করেন। ‘দুই বিঘা জমি’ সেই বাস্তব অভিজ্ঞতারই কাব্যিক রূপ—জমিদার হয়েও জমিদারি ব্যবস্থার বিরুদ্ধে তার নৈতিক অবস্থানের সাক্ষ্য। এই কবিতা প্রকাশের পর পাঠকমহলে ব্যাপক সাড়া জাগে; অনেক সমালোচক একে রবীন্দ্রনাথের ‘প্রজাদরদি’ মানসিকতার শ্রেষ্ঠ কাব্যিক প্রকাশ বলে অভিহিত করেন।
“কবিতা সম্পর্কে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের 'কেউ কথা রাখেনি' আধুনিক বাংলা কবিতার সবচেয়ে বেশি উদ্ধৃত কবিতাগুলোর…”
“কবিতা সম্পর্কে রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর 'ভালো আছি ভালো থেকো' প্রেমিকের বিদায়-পত্র — দূরত্বের ওপার…”
“কবিতা সম্পর্কে রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর 'বাতাসে লাশের গন্ধ' মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ও স্বাধীনতা-পরবর্তী মোহভঙ্গের সবচেয়ে…”
“কবিতা সম্পর্কে আল মাহমুদের 'সোনালী কাবিন' (১৯৭৩) আধুনিক বাংলা কবিতার সবচেয়ে আলোচিত সনেট-পরম্পরাগুলোর একটি।…”
“কবিতা সম্পর্কে কাজী নজরুল ইসলামের 'দারিদ্র্য' দারিদ্র্যকে অভিশাপ নয়, মর্যাদার উৎস হিসেবে দেখার এক…”