আঠারো বছর বয়স
“কবিতা আঠারাে বছর বয়স কী দুঃসহ স্পর্ধায় নেয় মাথা তােলবার ঝুঁকি, আঠারাে বছর বয়সেই…”
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| পূর্ণ নাম | সুকান্ত ভট্টাচার্য |
| উপাধি | কিশোর কবি, কিশোর বিদ্রোহী কবি, ইয়ং নজরুল, বাংলার জন কিটস |
| জন্ম | ১৫ আগস্ট ১৯২৬ |
| জন্মস্থান | ৪২ নং মহিম হালদার স্ট্রিট, কালীঘাট, কলকাতা (মামার বাড়ি); পৈতৃক নিবাস কোটালীপাড়া, ফরিদপুর (বর্তমান গোপালগঞ্জ, বাংলাদেশ) |
| মৃত্যু | ১৩ মে ১৯৪৭, যাদবপুর যক্ষ্মা হাসপাতাল, কলকাতা |
| দাহস্থল | কাশী মিত্র শ্মশানঘাট, কলকাতা |
| জাতীয়তা | ব্রিটিশ ভারতীয় |
| পেশা | কবি, নাট্যকার, গল্পকার, সাংবাদিক |
| শিক্ষা | কমলা বিদ্যামন্দির; বেলেঘাটা দেশবন্ধু হাই স্কুল |
| উল্লেখযোগ্য কর্ম | ছাড়পত্র (১৯৪৭, মরণোত্তর), ঘুম নেই (১৯৫০), পূর্বাভাস (১৯৫০), মিঠে-কড়া (১৯৫১), অভিযান (১৯৫৩), হরতাল (১৯৬২) |
| পুরস্কার | জীবদ্দশায় বা মরণোত্তর কোনো প্রাতিষ্ঠানিক পুরস্কারের তথ্য পাওয়া যায়নি |
সুকান্ত ভট্টাচার্য (১৫ আগস্ট ১৯২৬ – ১৩ মে ১৯৪৭) বাংলা সাহিত্যের সবচেয়ে অকালপ্রয়াত ও সবচেয়ে বিদ্রোহী কণ্ঠস্বরগুলোর একটি। মাত্র বিশ বছর বয়সে যক্ষ্মায় মৃত্যুর আগে তিনি যে কবিতা লিখে গেছেন, তার প্রায় সবই প্রকাশিত হয়েছে মৃত্যুর পর — তবু সেই কবিতাই তাকে বাংলা কবিতার ইতিহাসে অমর করে রেখেছে। ‘কিশোর কবি’, ‘কিশোর বিদ্রোহী কবি’ ও ‘ইয়ং নজরুল’ — এই উপাধিগুলোতেই তিনি পরিচিত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, ১৯৪৩-এর দুর্ভিক্ষ, ফ্যাসিবাদ ও ঔপনিবেশিক শোষণের বিরুদ্ধে তার কলম ছিল শাণিত অস্ত্রের মতো। মাত্র ছয় বছরের সাহিত্যজীবনে তিনি মার্কসবাদী চেতনাকে বাংলার মাটির ভাষায় রূপ দিয়েছেন — শোষিত, ক্ষুধার্ত ও বঞ্চিত মানুষের কবি হিসেবে। ইংরেজ রোমান্টিক কবি জন কিটসের সঙ্গে তার তুলনা করে তাকে বলা হয় ‘বাংলার জন কিটস’।
জীবদ্দশায় তার কবিতা ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়নি; খ্যাতি এসেছে মৃত্যুর পর, যখন একে একে প্রকাশিত হতে থাকে তার সব কাব্যগ্রন্থ। এই মরণোত্তর প্রকাশনাই তাকে বিংশ শতাব্দীর অন্যতম জনপ্রিয় বাঙালি কবিতে পরিণত করে — মুক্তি ও সামাজিক পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষায় লেখা তার কবিতা প্রজন্মের পর প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে চলেছে।
১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতার কালীঘাটে, ৪২ নং মহিম হালদার স্ট্রিটে মামার বাড়িতে সুকান্তের জন্ম। বাবা নিবারণচন্দ্র ভট্টাচার্য ছিলেন বই ব্যবসায়ী — কলকাতায় ‘সরস্বতী লাইব্রেরি’ নামে প্রকাশনা ও বই বিক্রির প্রতিষ্ঠান চালাতেন; মা সুনীতি দেবী। পৈতৃক নিবাস ছিল ফরিদপুরের (বর্তমান গোপালগঞ্জ জেলা) কোটালীপাড়ায়। বড় বোন রানীদি তার নাম রাখেন ‘সুকান্ত’। আট-নয় বছর বয়সেই তিনি লেখালেখি শুরু করেন। ১৯৩৫ সালে পরিবারের সঙ্গে সাঁওতাল পরগনার জসিডিতে বেড়াতে গিয়ে তার খাতায় পাওয়া যায় প্রথম কবিতা — চাচা মনোজ ভট্টাচার্য সেটি আবিষ্কার করেন। শৈশবেই তিনি দুটি বড় শোক পান: প্রিয় দিদি রানীদির মৃত্যু এবং ১৯৩৭ সালে মাত্র এগারো বছর বয়সে মা সুনীতি দেবীর ক্যানসারে মৃত্যু। মায়ের মৃত্যুর পর খাতায় তিনি লেখেন বেদনার কবিতা ও ‘রাখাল ছেলে’ নামে একটি আখ্যানকাব্য। দারিদ্র্য ও শিক্ষার পরিবেশে বড় হলেও সাহিত্যের প্রতি তার আকর্ষণ ছিল সহজাত — মা তাকে রামায়ণ-মহাভারত পড়ে শোনাতেন, দিদি শোনাতেন রবীন্দ্রনাথের কবিতা।
বাবা নিবারণচন্দ্রের জীবনও ছিল সংগ্রামের: বাবা জগচ্চন্দ্রের মৃত্যুর পর মাত্র তেরো বছর বয়সে তিনি বাড়ি ছেড়ে কলকাতায় চলে আসেন; ‘অগ্রজ’ পত্রিকায় কাজ করে পরে নিজেই প্রতিষ্ঠা করেন ‘সরস্বতী লাইব্রেরি’। এই বই-ব্যবসার সুবাদেই পরিবার কলকাতায় স্থায়ী হয়।
কমলা বিদ্যামন্দিরে তার পড়াশোনা শুরু; পরে ভর্তি হন বেলেঘাটা দেশবন্ধু হাই স্কুলে। স্কুলের পড়ায় তার মন বসত না — পাঠ্যবইয়ের বদলে তিনি পড়তেন গল্পের বই, শুনতেন রেডিও, লিখতেন কবিতা। সপ্তম শ্রেণিতে বন্ধু অরুণাচল বসুর সঙ্গে তার গভীর বন্ধুত্ব হয়; দুজনে মিলে শিক্ষক নবদ্বীপ দেবনাথের উৎসাহে ‘সপ্তমিকা’ নামে একটি পত্রিকা বের করেন। অরুণাচলের মা সরলা দেবী — নিজে শিক্ষিকা ও লেখিকা — সুকান্তকে মায়ের মতো স্নেহ করতেন; তার বাড়িতে বসে সুকান্ত কবিতা নিয়ে আলোচনা করতেন। কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনায় তিনি ক্রমেই পিছিয়ে পড়েন। ১৯৪৫ সালে এনট্রান্স (ম্যাট্রিক) পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়ে তিনি স্কুল ছেড়ে দেন।
স্কুলজীবনেই তার সাহিত্যচর্চা পুরোদমে চলছিল — ‘শিখা’ পত্রিকায় ছাপা হয় বিবেকানন্দের সংক্ষিপ্ত জীবনী; বন্ধুদের সঙ্গে হাতে লেখা ‘সঞ্চয়’ পত্রিকায় লেখেন ছোটগল্প। কলকাতা বেতার থেকে তিনি কবিতা আবৃত্তি করতেন; ১৯৪১ সালে রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুর পর বেতারে তার ওপর লেখা কবিতা পাঠ করেন। সঙ্গীতশিল্পী পঙ্কজকুমার মল্লিক তার লেখা গানে সুর করে বেতারে পরিবেশন করেন।
১৯৪১ সাল নাগাদ সুকান্ত রাজনীতির দিকে ঝুঁকতে শুরু করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞ, হিটলারের আগ্রাসন, কলকাতায় জাপানি বোমারুর হানা — এসব ঘটনা কিশোর কবির মনে গভীর রেখাপাত করে। তিনি মার্কসবাদের বই পড়তে শুরু করেন এবং ১৯৪২ সালে স্কুলে ছাত্র ধর্মঘট সংগঠিত করেন। ১৯৪৪ সালে তিনি ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির আনুষ্ঠানিক সদস্যপদ লাভ করেন — সে সময় দলের সর্বকনিষ্ঠ সদস্য ছিলেন তিনি। দলের কাগজ ‘জনযুদ্ধ’ বিক্রি করা, দেয়ালে রাজনৈতিক পোস্টার লেখা — সব কাজেই তিনি সক্রিয় ছিলেন। তার সবচেয়ে বড় সাংগঠনিক কীর্তি ‘কিশোর বাহিনী’ গঠন — যুদ্ধ ও দুর্ভিক্ষের পরিবেশ থেকে বাংলার কিশোর-তরুণদের রক্ষার লক্ষ্যে গড়া এই সংগঠনে প্রায় ত্রিশ হাজার যুবক যুক্ত হয়েছিল। কমিউনিস্ট পার্টির বাংলা দৈনিক ‘স্বাধীনতা’ পত্রিকায় ‘কিশোর সভা’ বিভাগ চালু হলে তার দায়িত্ব পান সুকান্ত; এই পাতায় তিনি তরুণ লেখকদের উৎসাহ দিতেন এবং নিজের লেখাও ছাপতেন।
সুকান্তের কবিতার বিষয় ছিল যুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, শোষণ ও মুক্তির আকাঙ্ক্ষা। ১৯৪৩-এর মন্বন্তরে লাখো মানুষের মৃত্যু তাকে নাড়া দেয়; ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে তিনি লেখেন তীব্র প্রতিবাদী কবিতা। তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘ছাড়পত্র’ (১৯৪৩-৪৭ সময়ে লেখা কবিতার সংকলন) ছাপাখানায় যায় তার মৃত্যুর পর — ১৯৪৭ সালের জুন-জুলাইয়ে (বাংলা আষাঢ় ১৩৫৪) বইটি মরণোত্তর প্রকাশিত হয়; প্রচ্ছদ এঁকেছিলেন সত্যজিৎ রায়, আর বইটির নাম রাখা হয় এর প্রথম কবিতা ‘ছাড়পত্র’-এর নামে। এরপর একে একে মরণোত্তর প্রকাশিত হয় ‘ঘুম নেই’ (১৯৫০), ‘পূর্বাভাস’ (১৯৫০), ‘মিঠে-কড়া’ (১৯৫১), ‘অভিযান’ (১৯৫৩), ‘হরতাল’ (১৯৬২) ও ‘গীতিগুচ্ছ’ (১৯৬৫)। তার বিখ্যাত কবিতার মধ্যে আছে ‘ছাড়পত্র’, ‘হে মহাজীবন’, ‘রানার’, ‘দুর্মর’ ও ‘দেশলাই কাঠি’। কবিতায় তিনি ব্যবহার করতেন কথ্য বাংলার ভাষা, তীক্ষ্ণ বিদ্রূপ ও অক্ষরবৃত্ত ছন্দ। ‘হে মহাজীবন’ কবিতায় ক্ষুধার পৃথিবীতে পূর্ণিমার চাঁদকে তিনি দেখেছেন ঝলসানো রুটির মতো — এই চিত্রকল্প আজও বাংলা কবিতার সবচেয়ে আলোচিত পঙ্ক্তিগুলোর একটি। ‘দুর্মর’ কবিতায় তার ঘোষণা:
সাবাস বাংলাদেশ!
এ পৃথিবী অবাক তাকিয়ে রয়
জ্বলে পুড়ে মরে ছারখার
তবু মাথা নোয়াবার নয়।
কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায় ছিলেন তার সাহিত্য-গুরু ও পথপ্রদর্শক; তার উৎসাহেই সুকান্ত বই প্রকাশের স্বপ্ন দেখতেন। ‘পরিচয়’, ‘অরণি’ ও ‘জনযুদ্ধ’ পত্রিকায় নিয়মিত লিখতেন তিনি। শয্যাশায়ী অবস্থায়ও কলম থামেনি — তখন লেখেন ‘লেনিন’ কবিতা; তার কয়েকটি কবিতা ফরাসি ভাষায় অনূদিত হয়। ১৯৫৩ সালে চেক ভাষায় তার কবিতার সংকলন প্রকাশিত হয়।
সুকান্ত বিয়ে করেননি; মাত্র বিশ বছরের জীবনে সংসার পাতার অবকাশই পাননি তিনি। বাবা-মা হারানোর পর ভাইদের সংসারেই কেটেছে তার দিন — বড় ভাই মনোমোহনের বাড়িতে, জ্যাঠাইমার শ্যামবাজারের বাড়িতে। পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন দ্বিতীয়। পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য ছিলেন তার ভাইপো — অর্থাৎ সুকান্ত ছিলেন বুদ্ধদেবের পিতৃব্য।
জীবদ্দশায় সুকান্ত কোনো প্রাতিষ্ঠানিক পুরস্কার পাননি — তার কবিতা তখন ব্যাপকভাবে প্রচারিতও হয়নি। স্বীকৃতি এসেছে মৃত্যুর পর: ‘কিশোর বিদ্রোহী কবি’, ‘ইয়ং নজরুল’ ও ‘বাংলার জন কিটস’ উপাধিতে তিনি ভূষিত হন পাঠক ও সমালোচকদের ভালোবাসায়। তার কবিতা ফরাসি, রুশ, জার্মান, চেক ও ইংরেজিসহ বহু ভাষায় অনূদিত হয়েছে।
অনিয়মিত খাওয়া-দাওয়া ও দারিদ্র্যের জীবন তার শরীর ভেঙে দেয়। ১৯৪৪-এর শেষে বেনারস সফরে ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হন; এরপর যক্ষ্মা ধরা পড়ে। ১৯৪৬ সালে কিছুদিন রেড এইড হোমে চিকিৎসাধীন ছিলেন — গায়ক হেমন্ত মুখোপাধ্যায় ও সুচিত্রা মিত্র তার চিকিৎসার জন্য তহবিল সংগ্রহ করেছিলেন। ১৯৪৭ সালের ১ এপ্রিল তাকে ভর্তি করা হয় যাদবপুর যক্ষ্মা হাসপাতালে (মেরি হারবার্ট ওয়ার্ডের এক নম্বর ঘর)। হাসপাতালের বিছানায় শুয়েও তিনি কবিতা লিখে গেছেন — ৯ মে বন্ধু জগন্নাথ চক্রবর্তীকে শোনান তার শেষ কবিতা ‘হে মহাজীবন’। ১৯৪৭ সালের ১৩ মে ভোরে, স্বাধীনতার মাত্র তিন মাস আগে, বিশ বছর বয়সে তার মৃত্যু হয়। সেদিন কলকাতায় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা চলছিল বলে শোকমিছিল বের করা যায়নি; ট্রাকে করে তার মরদেহ নেওয়া হয় কাশী মিত্র শ্মশানঘাটে, সেখানেই দাহ করা হয়। মৃত্যুর পর বুদ্ধদেব বসু, সুভাষ মুখোপাধ্যায়, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়সহ সমসাময়িক কবি-লেখকরা তার স্মরণে লেখেন। আজও মিছিল-সমাবেশে ও স্কুলের অনুষ্ঠানে তার কবিতা পাঠ হয়; কোটালীপাড়ায় পৈতৃক ভিটায় তার স্মৃতি রক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মাত্র বিশ বছরের জীবনে তিনি যা লিখে গেছেন, তাই বাংলা কবিতাকে দিয়েছে চিরস্থায়ী বিদ্রোহের ভাষা।
তার স্মৃতি রক্ষায় নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে: চট্টগ্রামের কাদুরখিল হাই স্কুলে তার নামে স্মারক ফলক, কোটালীপাড়ার পৈতৃক ভিটায় ম্যুরাল ও গ্রন্থাগার। ২০২৫ সালে জন্মশতবর্ষে শিয়ালদহ থেকে কলেজ স্ট্রিট পর্যন্ত শোভাযাত্রা বের হয়। স্কুলপাঠ্য থেকে রাজনৈতিক সমাবেশ — সর্বত্রই আজও ধ্বনিত হয় কিশোর কবির বিদ্রোহী কণ্ঠ।
“কবিতা আঠারাে বছর বয়স কী দুঃসহ স্পর্ধায় নেয় মাথা তােলবার ঝুঁকি, আঠারাে বছর বয়সেই…”
“কবিতা হে মহামানব, একবার এসো ফিরে শুধু একবার চোখ মেলো এই গ্রাম নগরের ভিড়ে,…”
“কবিতা আমরা সিঁড়ি, তোমরা আমাদের মাড়িয়ে প্রতিদিন অনেক উঁচুতে উঠে যাও, তারপর ফিরেও তাকাও…”
“কবিতা আমি একটা ছোট্ট দেশলাইয়ের কাঠি এত নগণ্য, হয়তো চোখেও পড়ি না: তবু জেনো…”
“কবিতা যে শিশু ভূমিষ্ঠ হ’লো আজ রাত্রে তার মুখে খবর পেলুম: সে পেয়েছে ছাড়পত্র…”
“কবিতা হে-মহাজীবন, আর এ কাব্য নয় এবার কঠিন, কঠোর গদ্যে আনো, পদ-লালিত্য-ঝঙ্কার মুছে যাক…”