মূল কন্টেন্টে যান
শাইখ আহমদ ফরিদ (মিশর)

শাইখ আহমদ ফরিদ (মিশর)

সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

এক নজরে

বিষয় তথ্য
পূর্ণ নাম শাইখ আহমদ ফরিদ
জন্ম ১৯৫২ (সুনির্দিষ্ট তারিখ প্রকাশ্য সূত্রে পাওয়া যায়নি; একটি সূত্রে জন্মস্থান হিসেবে মিনইয়াত আল-কামহ, মিশর উল্লেখ আছে)
জাতীয়তা মিশরীয়
পেশা ইসলামি আলেম, দাঈ, লেখক
শিক্ষা চিকিৎসাবিদ্যায় স্নাতক, আলেকজান্দ্রিয়া বিশ্ববিদ্যালয়
উল্লেখযোগ্য কর্ম আল-বাহর আর-রাঈক ফি আয-যুহদ ওয়ার-রাকাঈক (যুহদ ও রাকাঈক বিষয়ক গ্রন্থ) সহ বহু গ্রন্থ ও দাওয়াতি বক্তৃতা

পরিচিতি

শাইখ আহমদ ফরিদ (জ. ১৯৫২) মিশরের আলেকজান্দ্রিয়া-কেন্দ্রিক সালাফি আন্দোলনের প্রথম প্রজন্মের অন্যতম প্রধান আলেম। আকীদা ও মানহাজ-সংক্রান্ত দাওয়াতি কাজের মাধ্যমে তিনি ১৯৭০-এর দশকের শেষ থেকে মিশরের ধর্মীয় অঙ্গনে একটি প্রভাবশালী মুখ হিসেবে পরিচিতি পান। তার জীবনী নিয়ে বিস্তারিত নির্ভরযোগ্য সূত্র সীমিত বলে এই পরিচিতি প্রধানত প্রকাশ্য জীবনীসংক্ষেপ ও গবেষণামূলক প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে লেখা।

জন্ম ও শিক্ষা

আহমদ ফরিদ ১৯৫২ সালে মিশরে জন্মগ্রহণ করেন। একটি জীবনীসূত্র (Assabile) অনুযায়ী তিনি মিনইয়াত আল-কামহ এলাকায় একটি সাধারণ পরিবারে বেড়ে ওঠেন; শৈশবেই তার মা মারা যান এবং তিনি বাবার তত্ত্বাবধানে লালিত হন। চিকিৎসাবিদ্যা পড়ার জন্য তিনি প্রথমে মানসুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন অনুষদে এক বছর পড়েন, পরে আলেকজান্দ্রিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে সেখান থেকে চিকিৎসাবিদ্যায় স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। ছাত্রজীবনেই তিনি ইব্রাহিম জাফরানির সংস্পর্শে আসেন এবং তার সঙ্গে মিলে আলেকজান্দ্রিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘আল-জামাআতুল ইসলামিয়া’ গঠনে ভূমিকা রাখেন।

দাওয়াতি ও কর্মজীবন

স্নাতক শেষে বাধ্যতামূলক সামরিক সেবায় যোগ দিলেও নিয়মভঙ্গের অভিযোগে তাকে কয়েক দফায় কারাদণ্ড ভোগ করতে হয়; শেষ পর্যন্ত তিনি সেনাবাহিনী থেকে বহিষ্কৃত হন। কারামুক্তির পর তিনি দেখেন আল-জামাআতুল ইসলামিয়া দুই ধারায় বিভক্ত — একটি অংশ মুসলিম ব্রাদারহুডে যোগ দিয়েছে, অন্য অংশ সালাফি দাওয়ার ধারায় কাজ করছে। আহমদ ফরিদ দ্বিতীয় ধারায় যুক্ত হন।

১৯৭০-এর দশকের শেষভাগে আলেকজান্দ্রিয়ায় গড়ে ওঠা সালাফি বিদ্যালয় (Salafist School) আন্দোলনের কেন্দ্রীয় ব্যক্তিদের একজন ছিলেন তিনি। জেমসটাউন ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী শাইখ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাঈল আল-মুকাদ্দাম, ইয়াসির বুরহামি, সাঈদ আব্দুল আজিম ও আব্দুল মুনইম আশ-শাহহাতের সঙ্গে আহমদ ফরিদ ছিলেন মিশরের সবচেয়ে খ্যাতনামা সালাফি আলেমদের অন্যতম। ১৯৮০ সালের ঘটনাবলির প্রেক্ষিতে তিনি গ্রেপ্তার হন বলে একটি গবেষণাপত্রে উল্লেখ আছে। পরবর্তীকালে তার রচনা ও বক্তৃতা মিশরের ভেতরে ও বাইরে ব্যাপক প্রচার পায়। ২০১১-এর মিশরীয় বিপ্লবের পর আল-শুরূক পত্রিকায় দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি সালাফিদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণের পক্ষে মত প্রকাশ করেন।

সাহিত্যজীবন ও রচনাবলি

আহমদ ফরিদ বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন এবং মিশরের ভেতরে ও বাইরে অসংখ্য বক্তৃতা দিয়েছেন। তার রচনার মধ্যে সবচেয়ে বেশি উল্লেখ পাওয়া যায় আল-বাহর আর-রাঈক ফি আয-যুহদ ওয়ার-রাকাঈক গ্রন্থটির, যেখানে যুহদ (ত্যাগ), পরকাল-স্মরণ ও হৃদয়-পরিশুদ্ধির বিষয়ে কুরআন-হাদীসভিত্তিক আলোচনা আছে। তার অন্যান্য গ্রন্থের পূর্ণাঙ্গ নির্ভরযোগ্য তালিকা এই পরিচিতিতে যুক্ত করা হয়নি, কারণ প্রকাশ্য সূত্রে সেগুলোর সুনির্দিষ্ট যাচাই সম্ভব হয়নি।

তথ্য-সীমাবদ্ধতা

শাইখ আহমদ ফরিদের জন্মের সুনির্দিষ্ট তারিখ, জন্মস্থান এবং পূর্ণ জীবনবৃত্তান্ত নিয়ে নির্ভরযোগ্য প্রকাশ্য সূত্র সীমিত। উপরে দেওয়া তথ্য Assabile-এর জীবনীসংক্ষেপ, জেমসটাউন ফাউন্ডেশনের বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন এবং জেনেভা-ভিত্তিক একটি গবেষণাপত্রের ওপর ভিত্তি করে দেওয়া; যেসব তথ্য যাচাই করা যায়নি সেগুলো এই পরিচিতিতে ইচ্ছাকৃতভাবে বাদ রাখা হয়েছে।

বাংলা সাহিত্যের সঙ্গে থাকুন

নতুন বই, কবিতা ও লেখক আপডেট পেতে আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন।