নামাজ : আনুগত্যের সর্বশ্রেষ্ঠ মাধ্যম : শাইখ আহমদ ফরিদ | Prayer: The Greatest Means of Obedience: Shaykh Ahmad Farid
বই সম্পর্কে
- নামাজ : আনুগত্যের সর্বশ্রেষ্ঠ মাধ্যম
- লেখক : শাইখ আহমদ ফরিদ (মিশর)
- প্রকাশনী : দারুল আরকাম
- বিষয় : সালাত/নামায
- পৃষ্ঠা : 96, কভার : হার্ড কভার
At A Glance
লেখক শাইখ আহমদ ফরিদ রচিত “নামাজ আনুগত্যের সর্বশ্রেষ্ঠ মাধ্যম” বইটি মূলত নামাজের মাধ্যমে স্রষ্টার প্রতি কিভাবে আনুগত্য প্রকাশ করা যায় তা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। নামাজ যে আনুগত্যের সর্বশ্রেষ্ঠ মাধ্যম তা বোঝাতে গিয়ে লেখক অসংখ্য তথ্য ও উদাহরণ তুলে ধরেছেন এই বইটিতে। বইটির অনুবাদ করেছেন মুফতি মনিরুজ্জামান এবং বইটিতে মূল পৃষ্ঠা সংখ্যা রয়েছে ৯৬।
নিশ্চয়ই নামাজ দ্বীনের মূল স্তম্ভ ও ঈমানের মজবুত রজ্জু। মহান প্রভুর নৈকট্য লাভের প্রধান মাধ্যম ও আনুগত্যতার উজ্জ্বল নিদর্শন। আর নিঃসন্দেহে ইবাদতের মর্যাদা, শক্তিমত্তা ও ফজিলত সম্পর্কে জানা অত্যাবশ্যক। যা কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে ইচ্ছাশক্তিকে আরও দৃঢ় ও মজবুত করে তোলে। সুনিপুণভাবে উদ্দেশ্য হাসিলে আপ্রাণ চেষ্টা-প্রচেষ্টায় নিয়োজিত করে এবং পরিপূর্ণতা অর্জনে ইবাদতের পূর্বশর্ত আদায়ে পূর্ণতা দান করে। আর আল্লাহ তাআলা প্রদত্ত সৌভাগ্য প্রাপ্তির নিদর্শন হলো এই যে, বান্দা ইবাদতে নিয়োজিত হওয়ার ব্যাপারে সাহায্যপ্রাপ্ত হবে। অর্থাৎ, ইবাদত করা তাঁর জন্য সহজ হয়ে যায়।
এমনইভাবে এতেও কোনো সন্দেহ নেই যে, নিশ্চয়ই নামাজ হলো ইবাদতসমূহের মূল ও আনুগত্যতার মুখ্য বিষয়। ইসলামে ব্যক্তির মর্যাদাবান হওয়া, ব্যক্তির নামাজ আদায়ের সৌভাগ্য লাভের ওপর নির্ভরশীল। আর কেউ যদি ব্যক্তির দ্বীনদারি সম্পর্কে জানতে চায়, সে যেন ব্যক্তির নামাজের প্রতি লক্ষ করে । এ মর্মে হজরত হাসান বসরি রহ. বলেন,
إذا هانت عليك صلاتك فما الذي يعز عليك.
‘যখন তোমার নামাজ অবহেলিত হবে, তখন তা তোমাকে লাঞ্ছিত করবে। ‘নামাজ : আনুগত্যের সর্বশ্রেষ্ঠ মাধ্যম’ নামক এই সংক্ষিপ্ত গ্রন্থটি আমার নিজের জন্য এবং আমার মুসলিম ভাইদের জন্য নামাজের প্রতি যথাযথ গুরুত্বারোপের ব্যাপারে এক মহা মূল্যবান উপদেশগ্রন্থ এবং নামাজের মধ্যে একাগ্রতা বৃদ্ধির এক অনন্য মাধ্যম ও গাইডলাইন। আল্লাহ তাআলার দয়া ও অনুগ্রহে আমি এই গ্রন্থটি নিয়ে আশাবাদী যে, তিনি আমাকে ও আমার মুসলিম ভাইদেরকে নামাজের প্রতি যত্নবান হওয়া এবং নির্ধারিত সময়ে নামাজ আদায় করার তাওফিক দান করবেন।
নিশ্চয়ই নামাজ তাঁর নির্ধারিত সময়ই আদায় করা উচিত। কারণ, তাতেই নামাজের প্রতি প্রকৃত একাগ্রতা প্রকাশ পায় আর আল্লাহ তাআলার পূর্ণ হক আদায় হয়। কেননা, যে ব্যক্তি নামাজকে সংরক্ষণ করবে অর্থাৎ, সময় অনুযায়ী তা আদায় করবে, তাঁর নামাজ তাকেও হেফাজত করবে। অর্থাৎ, জাহান্নাম থেকে রক্ষা করবে। এই মর্মে মহান আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারিমে ইরশাদ করেন,
إن الصلاة تنهى عن الفحشاء والمنكر ولذكر الله أكبر والله يعلم ما
“নিশ্চয়ই নামাজ যাবতীয় অশ্লীল ও গর্হিত কাজ থেকে বিরত রাখে। আল্লাহ তাআলার স্মরণই সর্বশ্রেষ্ঠ। তোমরা যা কিছু করো তার ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা জানেন। ২
হজরত হাসান আল-কাসেমি রহ. বলেন, যদি তুমি বলো, কত নামাজ আদায়কারী তো নিয়মানুবর্তিতার সাথে নামাজ আদায় করছে! তাদের নামাজ তো তাদেরকে গুনাহ থেকে বিরত রাখছে না? আমি উত্তরে বলব, প্রকৃত নামাজ তো হলো ওই নামাজ, যার দ্বারা আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে প্রতিদান লাভের যোগ্যতা অর্জন হয়। আর এমন নামাজ আদায়ের পূর্বশর্ত হলো, পরিপূর্ণভাবে আন্তরিকতার সাথে তাওবা করে নেওয়া।
অর্থাৎ, এমন তাওবা করা, যা লৌকিকতা থেকে মুক্ত। তাতে কেবল আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জন ও তাঁর আজাবের ভয়ে ভীত হয়ে এবং গুনাহের কারণে অনুতপ্ত হয়ে গুনাহ পরিত্যাগ করার অঙ্গীকার করা হয়। কেবল এমন নামাজই অশ্লীলতা থেকে বিরত রাখবে।
এই মর্মে আল্লাহ তাআলা কুরআনে বলেন,
১. বায়হাকি শরিফ : ৩/১৫৩।
২. সুরা আনকাবুত : ৪৫।
إنّما يتقبل الله من المتقين.
‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা মুত্তাকি তথা পরহেজগার ব্যক্তিদের পক্ষ থেকেই কবুল করেন।
যে ব্যক্তি একাগ্রচিত্তে, একনিষ্ঠতার সাথে নামাজ পড়ে, অতঃপর নামাজ আদায়ের এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখে। আর কোনোভাবেই তা বিনষ্ট হতে দেয় না। এমতাবস্থায় তাঁর নামাজই ওই প্রকৃত নামাজ হয়, যা যাবতীয় অশ্লীল ও গর্হিত কাজ থেকে বিরত রাখে।
হজরত হাসান বসরি রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, من له تنهه صلاته عن الفحشاء والمنكر فليست صلاته، بصلاة وهي
وبال عليه.
‘যে ব্যক্তির নামাজ তাকে যাবতীয় অশ্লীল ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে না, তাঁর ওই নামাজ নামাজ নয় । বরং ওই নামাজ তাঁর জন্য অভিশাপ।” আল্লামা যামাখশারি রহ. থেকেও এমনটি বর্ণিত আছে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,
ولذكر الله أكبر والله يعلم ما تصنعون.
‘আল্লাহ তাআলার স্মরণই সর্বশ্রেষ্ঠ। তোমরা যা করো তাঁর ব্যাপারে আল্লাহ
আল্লামা যামাখশারি রহ. উক্ত আয়াতের তাফসিরে লেখেন যে, নামাজ অন্য
তাআলা জানেন।৫ সকল ইবাদতের তুলনায় আবদিয়্যাত তথা আনুগত্যতা প্রকাশের সর্বশ্রেষ্ঠ মাধ্যম। আর এই জন্যই আল্লাহ তাআলা নামাজকে সর্বশ্রেষ্ঠ জিকির বলে নামকরণ করে কুরআনে পাকে ইরশাদ করেন,
فاسعوا إلى ذكر الله.
‘তখন তোমরা আল্লাহ তাআলার স্মরণের দিকে দ্রুত ধাবিত হও।৬ তথা নামাজের দিকে দ্রুত ধাবিত হও। “
৩. সুরা মায়েদা: 29।
৪. তাবরানি শরিফ : ১১/৫৪।
৫. সুরা আনকাবুত : ৪৫।
৬. সুরা জুমুআ : ৯।
৭. মাহাসিনুত তাভিল : ১৩/১৫২-১৫৩।
সর্বোপরি আল্লাহ তাআলাই আমাদের অভিভাবক ও প্রতিপালক । যিনি তাঁর রহমত ও অফুরান নেয়ামতের উপকরণ দ্বারা আমাদেরকে দয়া ও অনুগ্রহ করেছেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বোত্তম কর্তব্যপরায়ণ ও সর্বাপেক্ষা আকাঙ্ক্ষাস্থল।
শাইখ আহমদ ফরিদের “নামাজ : আনুগত্যের সর্বশ্রেষ্ঠ মাধ্যম” বইটিতে নামাজের মর্যাদা, ঈমানের পর নামাজের অবস্থান এবং নামাজের মাধ্যমে স্রষ্টার প্রতি আনুগত্য প্রকাশের বিষয়টি দলিলসহ আলোচিত হয়েছে।
লেখক পরিচিতি
বর্তমান বিশ্বের প্রখ্যাত দাঈ ইলাল্লাহ শাইখ আহমদ ফরিদ ১৯৫২ সালের এপ্রিল মাসে মিশরের রাজধানী কায়রোর উত্তরের শহর মিনইয়া কামাহে এক সাধারণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
শিক্ষাজীবন : অল্প বয়সেই তাঁর মাতার ইন্তেকালের পর তাঁর সম্মানিত পিতা-ই ছিলেন তাঁর একমাত্র অভিভাবক। তাই তিনি তাঁর পিতার কাছেই খুব অল্প বয়সেই শিক্ষাজীবন শুরু করেন। বাল্যকাল থেকেই পড়াশুনায় অত্যন্ত মেধাবী ও মনোযোগী ছিলেন। তাই মাধ্যমিকের পাঠ চুকিয়ে তিনি চিকিৎসাবিদ্যায় উচ্চতর জ্ঞান লাভের জন্য মানসুরাহ কলেজে মেডিসিন অনুষদে এক বছর পড়াশুনা করেন। অতঃপর মিশরের বিখ্যাত আলেকজান্দ্রিয়া ইউনিভার্সিটিতে মেডিসিনের ওপর স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের লক্ষ্যে ভর্তি হন । অনন্য কীর্তির সাথে তিনি ডিগ্রি লাভ করেন।
কর্ম জীবন : মিশর সরকার কর্তৃক আরোপিত আইনের কারণে পড়াশুনা শেষ করে বাধ্যতামূলকভাবে তিনি মিশরের সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। কিন্তু সেখানে তিনি বৈষম্যের শিকার হন। দাড়ি ছেঁটে না ফেলা ও সুন্নতি লেবাস পরিবর্তন না করার কারণে তাকে ওয়েটিং লিস্টে রাখা হয়। অনেক হেনস্থা করা হয়। পরবর্তীতে তাঁর এই নববি আদর্শ লালনের কারণে সেনাবাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত করা হয় এবং জেল-জুলুমের স্বীকার হন। যা পরবর্তীকালে তাঁকে দ্বীনের পথে দাওয়াতের কাজে আরও অগ্রসর হওয়ার উৎসাহ ও উদ্দীপনা জুগিয়েছে। শাইখ আহমদ ফরিদ সালাফি মাসলাকের আকিদা ও মানহাজের অনুসারী ছিলেন।
রচনাবলি : সমগ্র আরব ও মুসলিম বিশ্বে সালাফি মাসলাকের মুখপাত্র হিসেবে ড. আহমদ ফরিদ রচনা করেছেন কালজয়ী বহু গ্রন্থ ও প্রবন্ধ । তাঁর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো : আল বাহরুর রায়েক ফি যুহুদ ওয়াল রাকায়িক, কিতাবু তাজকিয়াতুন নুফুস, শাজারাতুল ঈমান, তাজিমু কাদরিস সালাত, নাজরুর দুরুর, আল-ফাতওয়া : আদাব ওয়া আহকাম। এ ছাড়াও প্রায় অর্ধশতাধিক গ্রন্থের রচয়িতা এই স্বনামধন্য লেখক ।
আশির দশক থেকে দ্বীন ইসলামের দাওয়াতে মিশনে মিশর ও মিশরের বাহিরে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন ৭০ বছর বয়সি এই দাঈ ইলাল্লাহ । আল্লাহ তাআলা তাঁর নেক হায়াত এবং তাঁর মহতি কাজকে দীর্ঘায়ু করুন আমিন।
নামাজ : আনুগত্যের সর্বশ্রেষ্ঠ মাধ্যম : শাইখ আহমদ ফরিদ | Prayer: The Greatest Means of Obedience: Shaykh Ahmad Farid –
