হ্যারিয়েট বিচার স্টো
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
এক নজরে
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| পূর্ণ নাম | হ্যারিয়েট এলিজাবেথ বিচার স্টো (জন্মনাম: হ্যারিয়েট এলিজাবেথ বিচার) |
| ছদ্মনাম | ক্রিস্টোফার ক্রোফিল্ড |
| জন্ম | ১৪ জুন ১৮১১ |
| জন্মস্থান | লিচফিল্ড, কানেকটিকাট, যুক্তরাষ্ট্র |
| মৃত্যু | ১ জুলাই ১৮৯৬, হার্টফোর্ড, কানেকটিকাট |
| সমাধিস্থল | ফিলিপস একাডেমি কবরস্থান, অ্যান্ডোভার, ম্যাসাচুসেটস |
| জাতীয়তা | আমেরিকান |
| পেশা | ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, দাসপ্রথা-বিরোধী আন্দোলনকর্মী |
| শিক্ষা | বোন ক্যাথারিন বিচারের পরিচালিত মেয়েদের স্কুল; ক্লাসিক সাহিত্য, ভাষা ও গণিত |
| উল্লেখযোগ্য কর্ম | আঙ্কেল টম’স কেবিন (১৮৫২), ড্রেড (১৮৫৬), দ্য মিনিস্টার’স উয়িং (১৮৫৯), দ্য কি টু আঙ্কেল টম’স কেবিন (১৮৫৩) |
পরিচিতি
হ্যারিয়েট বিচার স্টো (১৪ জুন ১৮১১ – ১ জুলাই ১৮৯৬) ছিলেন মার্কিন বিলোপবাদী লেখক ও সমাজসংস্কারক। তার উপন্যাস আঙ্কেল টম’স কেবিন (১৮৫২) দাসত্বের বিরুদ্ধে লেখা পৃথিবীর অন্যতম প্রভাবশালী গ্রন্থ — প্রকাশের এক বছরেরও কম সময়ে এটি তিন লক্ষাধিক কপি বিক্রি হয়, দাসবিরোধী আন্দোলনকে বেগবান করে এবং উত্তরে জনমতকে দাসত্বের বিরুদ্ধে সুসংহত করে। মার্কিন গৃহযুদ্ধ-পূর্ব ইতিহাসে সাহিত্যের এমন রাজনৈতিক প্রভাবের দ্বিতীয় উদাহরণ বিরল।
জন্ম ও শৈশব
১৮১১ সালের ১৪ জুন কানেকটিকাটের লিচফিল্ডে হ্যারিয়েট এলিজাবেথ বিচারের জন্ম। তার বাবা লাইম্যান বিচার ছিলেন কংগ্রেগেশনাল চার্চের প্রচারক ও ‘সেকেন্ড গ্রেট অ্যাওয়েকেনিং’ ধর্মীয় আন্দোলনের নেতা; মা রক্সানা (ফুট) বিচার। হ্যারিয়েটের বয়স যখন পাঁচ বছর, তখন মায়ের মৃত্যু হয়। তেরো ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সপ্তম — তার বোন ক্যাথারিন বিচার ছিলেন শিক্ষাবিদ ও লেখক, আর ভাই হেনরি ওয়ার্ড বিচার ছিলেন বিখ্যাত প্রচারক।
শিক্ষা ও যুবজীবন
হ্যারিয়েট পড়াশোনা করেন বোন ক্যাথারিনের পরিচালিত মেয়েদের স্কুলে — সেখানে তিনি ক্লাসিক সাহিত্য, ভাষা ও গণিত অধ্যয়ন করেন; তৎকালীন মেয়েদের জন্য এ ছিল বিরল মানের শিক্ষা। ২১ বছর বয়সে (১৮৩২) তিনি ওহাইওর সিনসিনাটিতে বাবার কাছে চলে যান — লাইম্যান বিচার তখন লেন থিওলজিক্যাল সেমিনারির সভাপতি। সেখানে তিনি ‘সেমি-কোলন ক্লাব’ নামের সাহিত্য-সেলুনে যোগ দেন এবং গল্প-প্রবন্ধ লিখতে শুরু করেন। সিনসিনাটিতে বসেই তিনি পালিয়ে আসা দাসদের সংস্পর্শে আসেন — এই অভিজ্ঞতা পরবর্তীতে তার লেখার ভিত্তি হয়।
বিবাহ ও পারিবারিক জীবন
১৮৩৬ সালের ৬ জানুয়ারি তিনি বিধবা ক্যালভিন এলিস স্টোকে বিয়ে করেন — ক্যালভিন ছিলেন সেমিনারির অধ্যাপক ও দাসত্বের সমালোচক। এই দম্পতির সাত সন্তান ছিল (যমজ কন্যাসহ)। স্টো দম্পতি ‘আন্ডারগ্রাউন্ড রেলরোড’ আন্দোলনকে সমর্থন করতেন এবং তাদের বাড়িতে কয়েকজন পালিয়ে আসা দাসকে সাময়িক আশ্রয়ও দেন।
সাহিত্যজীবন
তার প্রথম গ্রন্থ মে-ফ্লাওয়ার (১৮৪৩) ছিল গল্প-সংকলন। ১৮৫০ সালে পরিবার মেইনের ব্রান্সউইকে বোডইন কলেজের কাছে চলে আসে। ১৮৫১ সালের ৫ জুন দাসত্ব-বিরোধী সাপ্তাহিক ন্যাশনাল ইরা-তে আঙ্কেল টম’স কেবিন-এর ধারাবাহিক প্রকাশ শুরু হয় — চলেছিল ১৮৫২ সালের ১ এপ্রিল পর্যন্ত। ধারাবাহিকটির জন্য তিনি পেয়েছিলেন মাত্র ৪০০ ডলার। ১৮৫২ সালের ২০ মার্চ জন পি. জুয়েট বই আকারে এটি প্রকাশ করেন — প্রথম মুদ্রণ ছিল ৫,০০০ কপি; এক বছরেরও কম সময়ে বিক্রি হয় তিন লক্ষাধিক কপি।
এরপর তিনি দাসত্ব-বিরোধী দ্বিতীয় উপন্যাস ড্রেড (১৮৫৬), দ্য কি টু আঙ্কেল টম’স কেবিন (১৮৫৩, উপন্যাসের বাস্তব উৎস নিয়ে তথ্যপ্রবন্ধ) এবং ক্যালভিনবাদের ওপর ব্যঙ্গাত্মক উপন্যাস দ্য মিনিস্টার’স উয়িং (১৮৫৯) লেখেন। ক্রিস্টোফার ক্রোফিল্ড ছদ্মনামে তিনি গৃহজীবন-বিষয়ক প্রবন্ধও লিখতেন। জীবদ্দশায় তিনি প্রায় ত্রিশটি গ্রন্থ রচনা করেন — উপন্যাস, ভ্রমণস্মৃতি, প্রবন্ধ-সংকলন, কবিতা ও শিশুতোষ বই।
আঙ্কেল টম’স কেবিন ও দাসপ্রথা-বিরোধী আন্দোলন
১৮৫০ সালের ‘ফিউজিটিভ স্লেভ আইন’-এর প্রতিক্রিয়ায় স্টো এই উপন্যাস লেখেন — আইনটি উত্তরের রাজ্যগুলোকেও দাসত্ব-ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করে দিয়েছিল। বইটি উত্তরাঞ্চলে দাসত্বের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলতে ব্যাপক ভূমিকা রাখে, আর দক্ষিণাঞ্চলে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয়। গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ১৮৬২ সালের ২৫ নভেম্বর তিনি হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। প্রচলিত বর্ণনা অনুযায়ী লিংকন তাকে বলেন — ‘So this is the little lady who made this big war’ (তাহলে এই সেই ছোট্ট মহিলা, যিনি এই বড় যুদ্ধ বাধিয়েছেন) — যদিও স্টোর নিজের বিবরণ এ বিষয়ে অস্পষ্ট।
পরবর্তী জীবন ও মৃত্যু
১৮৬৪ সালে স্টো পরিবার কানেকটিকাটের হার্টফোর্ডে চলে যায়, যেখানে তিনি লেখালেখি চালিয়ে যান। তিনি মদ্যপান-বিরোধী আন্দোলন ও নারী ভোটাধিকারেরও সমর্থক ছিলেন। ১৮৯৬ সালের ১ জুলাই ৮৫ বছর বয়সে হার্টফোর্ডে তার মৃত্যু হয়; তাকে ম্যাসাচুসেটসের অ্যান্ডোভারে ফিলিপস একাডেমির কবরস্থানে দাফন করা হয়।