মূল কন্টেন্টে যান
হাসান আজিজুল হক

হাসান আজিজুল হক

সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

এক নজরে

বিষয় তথ্য
পূর্ণ নাম হাসান আজিজুল হক (Hasan Azizul Huq)
জন্ম ২ ফেব্রুয়ারি ১৯৩৯, জবগ্রাম, বর্ধমান (তৎকালীন ব্রিটিশ ভারত, বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ)
মৃত্যু ১৫ নভেম্বর ২০২১, রাজশাহী, বাংলাদেশ
জাতীয়তা বাংলাদেশি
পেশা গল্পকার, ঔপন্যাসিক, দার্শনিক-অধ্যাপক
শিক্ষা দৌলতপুর কলেজ (উচ্চমাধ্যমিক); রাজশাহী সরকারি কলেজ (দর্শনে স্নাতক, ১৯৫৮); রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (দর্শনে স্নাতকোত্তর, ১৯৬০)
উল্লেখযোগ্য কর্ম সমুদ্রের স্বপ্ন শীতের অরণ্য (১৯৬৪), আত্মজা ও একটি করবী গাছ (১৯৬৭), জীবন ঘষে আগুন (১৯৭৩), নামহীন গোত্রহীন (১৯৭৪), আগুনপাখি (উপন্যাস)
পুরস্কার বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৭০), একুশে পদক (১৯৯৯), আনন্দ পুরস্কার (২০০৮), স্বাধীনতা পুরস্কার (২০১৯)

পরিচিতি

হাসান আজিজুল হক (২ ফেব্রুয়ারি ১৯৩৯ – ১৫ নভেম্বর ২০২১) ছিলেন বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান গল্পকার ও ঔপন্যাসিক, যাকে অনেকে “জনমানুষের অমর কণ্ঠস্বর” বলে অভিহিত করেছেন। তার গল্পে ভাষার পরীক্ষা-নিরীক্ষা, আধুনিক বাগধারার ব্যবহার এবং শ্রমজীবী মানুষের জীবনের নিখুঁত পর্যবেক্ষণ বাংলা ছোটগল্পকে নতুন মাত্রা দেয়। দীর্ঘ তিন দশকের অধ্যাপনা-জীবনের পাশাপাশি তিনি কথাসাহিত্যের প্রায় প্রতিটি শাখায় লিখেছেন; তার রচনা ইংরেজি, হিন্দি, উর্দু, রুশ, চেক ও জাপানি ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

জন্ম ও শিক্ষা

হাসান আজিজুল হকের জন্ম ১৯৩৯ সালের ২ ফেব্রুয়ারি বর্ধমান জেলার জবগ্রামে। বাবা মোহাম্মদ দোয়া বখশ, মা জোহরা খাতুন; চার ভাইবোনের মধ্যে তিনি অন্যতম। শৈশবে তিনি জবগ্রামের প্রকৃতি ও রাঢ় অঞ্চলের মানুষের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত ছিলেন — এই অভিজ্ঞতা পরবর্তীতে তার সাহিত্যের ভিত্তি হয়। ১৯৫৪ সালে ভালো শিক্ষার সুযোগের জন্য পরিবার খুলনার কাছে ফুলতলায় চলে আসে। দুই বছর পর তিনি দৌলতপুর কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন, ১৯৫৮ সালে রাজশাহী সরকারি কলেজ থেকে দর্শনে স্নাতক এবং ১৯৬০ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

কর্মজীবন

১৯৬০ থেকে ১৯৭৩ সাল পর্যন্ত হাসান আজিজুল হক খুলনা গার্লস কলেজ ও দৌলতপুরের ব্রজলাল কলেজসহ বিভিন্ন কলেজে দর্শন পড়ান। ১৯৭৩ সালে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগে যোগ দেন এবং ২০০৪ সালে অবসর নেওয়া পর্যন্ত ৩১ বছর সেখানে অধ্যাপনা করেন। পরবর্তীতে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে দ্বিতীয় “বঙ্গবন্ধু চেয়ার” অধ্যাপক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

সাহিত্যজীবন

তার প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ সমুদ্রের স্বপ্ন শীতের অরণ্য (১৯৬৪)। এরপর একে একে আসে আত্মজা ও একটি করবী গাছ (১৯৬৭), জীবন ঘষে আগুন (১৯৭৩), নামহীন গোত্রহীন (১৯৭৪), পাতালে হাসপাতালে (১৯৮১), কথাকতা (১৯৮১), অপ্রকাশের ভার (১৯৮৮), মা মেয়ের সংসার (১৯৯৭) ও রাঢ়বঙ্গের গল্প (১৯৯৯)। উপন্যাস আগুনপাখি তার অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হিসেবে বিবেচিত। তিনি দুটি আত্মজীবনী লিখেছেন — ফিরে যাই ফিরে আসি ও উঁকি দিয়ে দিগন্ত। তার নিজের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি শুধু তাই লিখতে পারতেন যা তিনি পর্যবেক্ষণ করেছেন বা প্রত্যক্ষ করেছেন; তার গল্পে অগভীর বা অতিরঞ্জিত প্লটের বদলে আছে শ্রমজীবী মানুষের কণ্ঠস্বর, তাদের দৈনন্দিন সংগ্রাম ও সামাজিক-রাজনৈতিক বাস্তবতা।

পুরস্কার ও সম্মাননা

সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি পেয়েছেন বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৭০), লেখক শিবির পুরস্কার, একুশে পদক (১৯৯৯), আনন্দ পুরস্কার (২০০৮) এবং বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা স্বাধীনতা পুরস্কার (২০১৯)।

মৃত্যু ও উত্তরাধিকার

বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক সমস্যা, হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসে ভুগছিলেন তিনি; ২০২১ সালের আগস্টে গুরুতর অসুস্থ হয়ে ঢাকায় চিকিৎসা নেন। ১৫ নভেম্বর ২০২১ রাজশাহীতে ৮২ বছর বয়সে তার মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুতে দেশের সাহিত্যাঙ্গন শোকে মুহ্যমান হয়। হাসান আজিজুল হক রেখে গেছেন এমন এক সাহিত্য-ভাণ্ডার, যেখানে ভাষার পরীক্ষা ও মানুষের জীবনের সত্য একসূত্রে গাঁথা — বাংলা ছোটগল্পের ইতিহাসে তার স্থান অটুট।

বাংলা সাহিত্যের সঙ্গে থাকুন

নতুন বই, কবিতা ও লেখক আপডেট পেতে আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন।