হাসসান বিন সাবিত
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
এক নজরে
| পূর্ণ নাম | হাসসান ইবনে সাবিত ইবনে আল-মুনজির আল-খাজরাজি আল-আনসারি (Hassan ibn Thabit) |
| জন্ম | আনুমানিক ৫৬৩–৫৬৪ খ্রিস্টাব্দ |
| জন্মস্থান | ইয়াসরিব (বর্তমান মদিনা), হেজাজ, আরব |
| মৃত্যু | আনুমানিক ৬৭৪ খ্রিস্টাব্দ, মদিনা |
| গোত্র | বনু খাজরাজ (আনসার) |
| পেশা | কবি |
| উল্লেখযোগ্য কর্ম | দিওয়ান (কবিতা-সংকলন); নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর পক্ষে রচিত কবিতা ও ব্যঙ্গকবিতা |
পরিচিতি
হাসসান বিন সাবিত (আনু. ৫৬৩ – আনু. ৬৭৪ খ্রিস্টাব্দ) ছিলেন আরবের প্রখ্যাত কবি এবং ইসলামের নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর সাহাবি। ‘নবীর কবি’ হিসেবে পরিচিত এই কবির জীবন জাহিলি যুগ ও ইসলামী যুগ — দুই যুগেই বিস্তৃত ছিল বলে তিনি মুখাদ্বারাম (দুই যুগের সাক্ষী) কবিদের অন্যতম হিসেবে গণ্য হন। তাকে ইসলামের প্রথম ধর্মীয় কবি হিসেবেও অভিহিত করা হয়।
জীবন
তিনি ইয়াসরিবে (পরবর্তীতে মদিনা) বনু খাজরাজ গোত্রে জন্মগ্রহণ করেন। যৌবনে তিনি আল-হিরা ও দামেস্ক ভ্রমণ করেন এবং পরে মদিনায় স্থায়ীভাবে বসতি স্থাপন করেন। মুহাম্মদ (সা.)-এর মদিনায় হিজরতের পর তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। ইসলামী ঐতিহ্যমতে তিনি ১২০ বছর জীবনযাপন করেন — ইসলাম গ্রহণের আগে ষাট বছর এবং পরে আরও ষাট বছর। আনুমানিক ৬৭৪ খ্রিস্টাব্দে উমাইয়া যুগে মদিনায় তার মৃত্যু হয়। তার স্ত্রী ছিলেন সিরিন — নবী (সা.)-এর স্ত্রী মারিয়া আল-কিবতিয়ার বোন; তাদের পুত্র আবদুর রহমান ইবনে হাসসান।
কবিজীবন
ইসলাম-পূর্ব যুগেই হাসসান খ্যাতিমান দরবারি কবি ছিলেন; সিরিয়ার গাসসানি ও ইরাকের লাখমি রাজাদের প্রশংসায় তিনি কবিতা রচনা করতেন। ইসলাম গ্রহণের পর তার কবিতা নবী (সা.)-এর পক্ষাবলম্বনের হাতিয়ারে পরিণত হয় — কুরাইশ কবিদের ব্যঙ্গের জবাবে তিনি পাল্টা ব্যঙ্গকবিতা রচনা করেন। তার রচনার মধ্যে আবু সুফিয়ান, আমর ইবনুল আস, আবু জাহল প্রমুখের ব্যঙ্গাত্মক চিত্রণ রয়েছে। বর্ণনামতে তিনি দুই হাজারের বেশি ব্যঙ্গ ও শোকগাথা এবং তিন থেকে বিশ পঙ্ক্তির প্রায় এক হাজার কবিতা রচনা করেন। নবী (সা.)-এর সমসাময়িক ঘটনাবলির উল্লেখ থাকায় তার কবিতা সেই যুগের ইতিহাস-দলিল হিসেবেও মূল্যবান।
দিওয়ান ও উত্তরাধিকার
তার কবিতা-সংকলন (দিওয়ান) উনিশ শতকে মুদ্রিত হয় — বোম্বে (১৮৬৪), তিউনিস (১৮৬৪) ও লাহোর (১৮৭৮) থেকে। ১৮৯২ সালে এইচ. হির্শফেল্ড দিওয়ানের সংস্করণ-সংক্রান্ত গবেষণা প্রকাশ করেন। ১৯১১ সালের এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা তার কবিতাকে ‘সাধারণ মানের’ বলে মন্তব্য করলেও ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে এর মূল্য স্বীকার করে।
তথ্য-সীমাবদ্ধতা
সপ্তম শতকের ব্যক্তিত্ব হওয়ায় তার জন্ম-মৃত্যুর সন আনুমানিক; ১২০ বছর আয়ুর বর্ণনাটি ইসলামী ঐতিহ্যগত সূত্রের, যা আধুনিক ঐতিহাসিকরা সতর্কতার সঙ্গে গ্রহণ করেন। তার কোনো সমসাময়িক প্রতিকৃতি নেই — পরবর্তীকালের কাল্পনিক চিত্র বা ক্যালিগ্রাফি প্রতিকৃতি হিসেবে ব্যবহারযোগ্য নয় বলে এখানে কোনো ছবি দেওয়া হয়নি।