হরিশংকর জলদাস
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
এক নজরে
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| পূর্ণ নাম | হরিশংকর জলদাস |
| জন্ম | ১২ অক্টোবর ১৯৫৫ (কিছু সূত্রে ৩ মে ১৯৫৩ — দেখুন তথ্য-সীমাবদ্ধতা) |
| জন্মস্থান | উত্তর পতেঙ্গা, চট্টগ্রাম (জেলেপল্লি) |
| জাতীয়তা | বাংলাদেশি |
| পেশা | ঔপন্যাসিক, গল্পকার, প্রাবন্ধিক, অধ্যাপক |
| শিক্ষা | পিএইচডি (চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, ১৯৮২) |
| উল্লেখযোগ্য কর্ম | জলপুত্র, দহনকাল, কসবি, রামগোলাম, মোহনা, আমি মৃণালিনী নই, একলব্য, মৎস্যগন্ধা; গল্পগ্রন্থ: জলদাসীর গল্প, লুচ্চা |
| পুরস্কার | একুশে পদক (২০১৯), বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (২০১২), প্রথম আলো বর্ষসেরা বই পুরস্কার (২০১১) |
পরিচিতি
হরিশংকর জলদাস বাংলাদেশের সমসাময়িক সাহিত্যের অন্যতম শক্তিমান ঔপন্যাসিক। জেলেপল্লির এক প্রান্তিক পরিবার থেকে উঠে এসে তিনি জেলে, কৈবর্ত, যৌনকর্মী, হরিজন-মেথর — সমাজের বঞ্চিত মানুষের জীবনকথাকে বাংলা উপন্যাসের মূলধারায় প্রতিষ্ঠা করেছেন। মধ্য বয়সে লেখালেখিতে প্রবেশ করেও তিনি অল্প সময়ে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক উপন্যাস, গল্পগ্রন্থ ও প্রবন্ধগ্রন্থ রচনা করেছেন।
জন্ম ও শৈশব
তিনি চট্টগ্রামের উত্তর পতেঙ্গার এক জেলেপল্লিতে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা যুধিষ্ঠির জলদাস পেশায় ছিলেন জেলে। তার শৈশব ও কৈশোরের পুরোটা কেটেছে পতেঙ্গার কৈবর্তপাড়ায়। জেলেপল্লির প্রথম হাইস্কুল পড়ুয়া ছাত্র হিসেবে তিনি গ্রাম থেকে দুই মাইল দূরের দেবেন্দ্রলাল দে’র পাঠশালা ও পরে পতেঙ্গা উচ্চবিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন।
শিক্ষাজীবন
পতেঙ্গা উচ্চবিদ্যালয় থেকে তিনি ১৯৭১ সালে এসএসসি (পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭২ সালে) পাস করেন। এরপর চট্টগ্রাম কলেজ হয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে ভর্তি হন। ‘নদীভিত্তিক বাংলা উপন্যাস ও কৈবর্ত জনজীবন’ বিষয়ে গবেষণা করে তিনি ১৯৮২ সালে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। পরবর্তীতে তিনি বাংলার অধ্যাপক হিসেবে শিক্ষকতা করেন এবং চট্টগ্রামের সরকারি সিটি কলেজের অধ্যক্ষের দায়িত্বও পালন করেছেন।
সাহিত্যজীবন
জীবনের মধ্যবেলায় লেখালেখিতে বসা হরিশংকর জলদাসের উপন্যাসে বারবার ফিরে এসেছে জল, নদী ও জেলেজীবন। তার উল্লেখযোগ্য উপন্যাস জলপুত্র, দহনকাল, কসবি, মোহনা, আমি মৃণালিনী নই, সেই আমি নই আমি, রামগোলাম, প্রতিদ্বন্দ্বী, একলব্য, রঙ্গশালা, সুখলতার ঘর নেই, প্রস্থানের আগে ও মৎস্যগন্ধা। গল্পগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে জলদাসীর গল্প, লুচ্চা, চিত্তরঞ্জন অথবা যযাতির বৃত্তান্ত। প্রবন্ধ-সমালোচনা গ্রন্থ হিসেবে আমার কর্ণফুলী, জলগদ্য, নতুন জুতোয় পুরনো পা, জীবনানন্দ ও তাঁর কাল, নোনাজলে ডুবসাঁতার পাঠকের প্রশংসা পেয়েছে। দহনকাল উপন্যাসের জন্য তিনি ২০১১ সালে সৃজনশীল শাখায় প্রথম আলো বর্ষসেরা বই পুরস্কার পান।
পুরস্কার ও সম্মাননা
- একুশে পদক (২০১৯) — বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অবদানের জন্য
- বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (২০১২)
- প্রথম আলো বর্ষসেরা বই পুরস্কার (২০১১ — দহনকাল)
- আলাওল সাহিত্য পুরস্কার (জলপুত্র)
- সিটি-আনন্দ আলো সাহিত্য পুরস্কার (রামগোলাম)
- ব্র্যাক ব্যাংক-সমকাল সাহিত্য পুরস্কার, বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন পদক, বাংলাদেশ লেখিকা সংঘ সাহিত্য পদক
তথ্য-সীমাবদ্ধতা
তার জন্মতারিখ নিয়ে সূত্রভেদে দুটি তারিখ পাওয়া যায়। ইংরেজি ও বাংলা উইকিপিডিয়ার ইনফোবক্স ও একাধিক ইংরেজি উৎসে জন্ম তারিখ ১২ অক্টোবর ১৯৫৫ উল্লেখ আছে; অন্যদিকে প্রকাশক-সংশ্লিষ্ট একটি বই বিক্রেতা পৃষ্ঠায় (বাতিঘর) তারিখ দেওয়া হয়েছে ৩ মে ১৯৫৩। এখানে সর্বাধিক উদ্ধৃত তারিখ (১২ অক্টোবর ১৯৫৫) ব্যবহার করা হয়েছে।