সিলভিয়া এন হিউলেট
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
এক নজরে
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| পূর্ণ নাম | সিলভিয়া এন হিউলেট |
| ইংরেজি রূপ | Sylvia Ann Hewlett |
| জন্ম | ১৯৪৬ (সুনির্দিষ্ট তারিখ প্রকাশ্যে জানা নেই) |
| শৈশব | দক্ষিণ ওয়েলসের এক খনি-উপত্যকা, যুক্তরাজ্য |
| জাতীয়তা | ব্রিটিশ (ওয়েলসে জন্ম ও বেড়ে ওঠা; প্রকাশ্য সূত্রে জাতীয়তার আনুষ্ঠানিক উল্লেখ পাওয়া যায়নি) |
| পেশা | অর্থনীতিবিদ, লেখক, পরামর্শক, প্রভাষক |
| শিক্ষা | গার্টন কলেজ, কেমব্রিজ; কেনেডি স্কলার; লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে পিএইচডি |
| উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ | When the Bough Breaks (১৯৯১), Off-Ramps and On-Ramps (২০০৭), Forget a Mentor, Find a Sponsor (২০১৩), Executive Presence (২০১৪) |
| পুরস্কার | ২০১৪ সালের এইচআর ম্যাগাজিন “মোস্ট ইনফ্লুয়েন্সিয়াল ইন্টারন্যাশনাল থিঙ্কার” |
পরিচিতি
সিলভিয়া এন হিউলেট (জন্ম ১৯৪৬) একজন অর্থনীতিবিদ, লেখক, পরামর্শক ও প্রভাষক, যিনি কর্মক্ষেত্রে লিঙ্গবৈষম্য, নারীর ক্যারিয়ার ও প্রতিভা-ব্যবস্থাপনা নিয়ে গবেষণা ও লেখালেখির জন্য আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত। তিনি নিউইয়র্কভিত্তিক থিংক ট্যাংক সেন্টার ফর ট্যালেন্ট ইনোভেশনের প্রতিষ্ঠাতা-সভাপতি এবং হিউলেট কনসাল্টিং পার্টনার্সের প্রধান নির্বাহী। তথ্য-নির্ভর কঠোর বিশ্লেষণের মাধ্যমে তিনি “পার্থক্যের শক্তি” (power of difference) ধারণাকে প্রতিষ্ঠানগুলোর নেতৃত্ব-চিন্তায় তুলে এনেছেন।
জন্ম ও শিক্ষা
হিউলেটের শৈশব কেটেছে যুক্তরাজ্যের দক্ষিণ ওয়েলসের একটি দরিদ্র খনি-উপত্যকায়। তিনি কেমব্রিজের গার্টন কলেজ থেকে স্নাতক হন, কেনেডি স্কলার হিসেবে পড়াশোনা করেন এবং লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
কর্মজীবন
হিউলেট কেমব্রিজ, কলাম্বিয়া ও প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন এবং লন্ডনের ইনস্টিটিউট ফর পাবলিক পলিসি রিসার্চ ও হার্ভার্ডের সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব ভ্যালুজ ইন পাবলিক লাইফে ফেলো হিসেবে কাজ করেছেন। ১৯৮০-এর দশকে তিনি জাতিসংঘ সংস্থার (ইউনাইটেড নেশন্স অ্যাসোসিয়েশন) অর্থনৈতিক নীতি কাউন্সিলের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী প্রথম নারী হন — ১২৫ জন ব্যবসায়ী ও শ্রমিক-নেতার সমন্বয়ে গঠিত এই থিংক ট্যাংকের নেতৃত্ব তার ক্যারিয়ারের একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক।
পরবর্তীতে তিনি অলাভজনক সংগঠন সেন্টার ফর ওয়ার্ক-লাইফ পলিসির প্রতিষ্ঠাতা-সভাপতি হন এবং নিউইয়র্কে সেন্টার ফর ট্যালেন্ট ইনোভেশন প্রতিষ্ঠা করেন — নারী, সংখ্যালঘু ও আগে বাদ পড়া গোষ্ঠীগুলোর কর্মক্ষেত্র-অন্তর্ভুক্তি নিয়ে কাজ করা এই থিংক ট্যাংকের সঙ্গে তিনি যুক্ত। ২০১২ সাল পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী তিনি কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড পাবলিক অ্যাফেয়ার্সের জেন্ডার অ্যান্ড পাবলিক পলিসি প্রোগ্রামের পরিচালক ছিলেন এবং কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশন্স ও ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের উইমেন্স এমপাওয়ারমেন্ট কাউন্সিলের সদস্য ছিলেন। তার পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হিউলেট কনসাল্টিং পার্টনার্স আমেরিকান এক্সপ্রেস, গুগল, গোল্ডম্যান স্যাকস, জনসন অ্যান্ড জনসনসহ বহু বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করেছে।
সাহিত্যজীবন
হিউলেট এক ডজনেরও বেশি গ্রন্থের লেখক। তার প্রথম উল্লেখযোগ্য বই When the Bough Breaks: The Cost of Neglecting Our Children (১৯৯১) যুক্তরাষ্ট্রে শিশু-অবহেলার অর্থনৈতিক মূল্য নিয়ে আলোচনা করে ব্যাপক সাড়া ফেলে। কর্নেল ওয়েস্টের সঙ্গে যৌথভাবে লেখা The War Against Parents (১৯৯৮), Creating a Life (২০০২), Off-Ramps and On-Ramps: Keeping Talented Women on the Road to Success (২০০৭) এবং Top Talent (২০০৯) তার কর্মজীবন-গবেষণার ধারাবাহিকতা বহন করে।
২০১০-এর দশকে তার দুটি বই তাকে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি এনে দেয়: Forget a Mentor, Find a Sponsor: The New Way to Fast-Track Your Career (২০১৩) — যেখানে তিনি দেখান, ক্যারিয়ারে শুধু পরামর্শদাতার (মেন্টর) চেয়ে ক্ষমতাশালী পৃষ্ঠপোষক (স্পনসর) বেশি কার্যকর — এবং Executive Presence: The Missing Link Between Merit and Success (২০১৪), যার হালনাগাদ সংস্করণ Executive Presence 2.0 পরবর্তীতে প্রকাশিত হয়। এরপর আসে The Sponsor Effect (২০১৯) ও MeToo in the Corporate World (২০২০)। তার প্রবন্ধ নিউইয়র্ক টাইমস, ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস, স্ট্র্যাটেজি+বিজনেস ও হার্ভার্ড বিজনেস রিভিউয়ে প্রকাশিত হয়েছে; টেলিভিশনে তিনি ৬০ মিনিটস, টুডে শো, গুড মর্নিং আমেরিকা, চার্লি রোজ, অপরাহ ও দ্য ভিউসহ বহু অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছেন — এমনকি স্যাটারডে নাইট লাইভে তাকে নিয়ে ব্যঙ্গও প্রচারিত হয়েছে।
ব্যক্তিগত জীবন
হিউলেট বিবাহিত; স্বামীর নাম রিচার্ড। এই দম্পতির পাঁচ সন্তান, যাদের বয়সের ব্যবধান ২৫ বছর — সবচেয়ে ছোট সন্তানের জন্ম হয় যখন হিউলেটের বয়স ৫১। তিনি নিউইয়র্ক সিটিতে সেন্ট্রাল পার্ক ওয়েস্টের দিকে মুখ করা একটি অ্যাপার্টমেন্টে বাস করেন।
পুরস্কার ও সম্মাননা
২০১৪ সালে তিনি এইচআর ম্যাগাজিনের “মোস্ট ইনফ্লুয়েন্সিয়াল ইন্টারন্যাশনাল থিঙ্কার” পুরস্কারে ভূষিত হন।
বর্তমান অবস্থা ও উত্তরাধিকার
সিলভিয়া এন হিউলেট জীবিত আছেন এবং লেখালেখি, বক্তৃতা ও পরামর্শকাজে সক্রিয় — তার ওয়েবসাইটে ২০২৬ সালের পডকাস্ট-অতিথি হিসেবে তার সাম্প্রতিক উপস্থিতির ঘোষণা রয়েছে। কর্মক্ষেত্রে স্পনসরশিপ, এক্সিকিউটিভ প্রেজেন্স ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নেতৃত্ব নিয়ে তার গবেষণা ও বই আধুনিক করপোরেট নীতি-আলোচনার স্থায়ী অংশ হয়ে আছে।