মূল কন্টেন্টে যান
সালেহ আহমদ শামী

সালেহ আহমদ শামী

সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

এক নজরে

বিষয় তথ্য
পূর্ণ নাম শায়খ সালেহ বিন আহমদ আশ-শামী (আরবি: صالح بن أحمد الشامي)
জন্ম ১৯৩৪ (সুনির্দিষ্ট তারিখ প্রকাশ্য সূত্রে উল্লেখ নেই)
জন্মস্থান দুমা, দামেস্ক, সিরিয়া
মৃত্যু — (মৃত্যুর কোনো প্রকাশ্য রেকর্ড পাওয়া যায়নি; আরবি উইকিপিডিয়া অনুযায়ী জীবিত)
জাতীয়তা সিরীয়
পেশা আলিম, দাঈ, হাদিস-গবেষক ও লেখক
শিক্ষা মা’হাদুল উলূমিশ শারঈয়্যাহ, দামেস্ক (১৯৫৪); শরিয়া কলেজ, দামেস্ক বিশ্ববিদ্যালয় — স্নাতক (১৯৫৮; প্রথম শ্রেণীতে প্রথম স্থান)
উল্লেখযোগ্য কর্ম আল-ওয়াফী বিমা ফিস সহীহাইন, আল-জামি’ বাইনাস সহীহাইন, যাওয়াইদুস সুনান আলাস সহীহাইন, মাআলিমুস সুন্নাহ আন-নববীয়্যাহ, মাওয়ায়েযুস সাহাবাহ (বাংলা: সাহাবীদের অন্তর্দৃষ্টি), সীরাতুন নবী ফী বাইতিহী (বাংলা: নবিজির ঘর-সংসার), মাওয়ায়েযুল ইমামিল গাযযালী (বাংলা: ইমাম গাজালির নাসিহা), মাওয়ায়েযু সালামাহ বিন দীনার
পুরস্কার প্রকাশ্য সূত্রে উল্লেখ নেই

পরিচিতি

শায়খ সালেহ বিন আহমদ আশ-শামী (আরবি: صالح بن أحمد الشامي; জন্ম: ১৯৩৪) সিরিয়ার একজন প্রখ্যাত আলিম, দাঈ ও হাদিস-গবেষক। নববী হাদিসের সেবা, হাদিস-সংকলনের বিন্যাস ও সংক্ষেপণ, এবং সালাফে সালেহীনের ‘মাওয়ায়েয’ (উপদেশবাণী) সংকলনের জন্য তিনি আরব বিশ্বে সুপরিচিত। ‘ইসলামি নন্দনতত্ত্ব’ (علم الجمال الإسلامي)-এর প্রতিষ্ঠাতা হিসেবেও তাঁর নাম উল্লেখ করা হয়। তাঁর বহু গ্রন্থ বাংলায় অনূদিত হয়ে বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের পাঠকের কাছে পৌঁছেছে।

জন্ম ও শিক্ষা

১৯৩৪ সালে সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের অদূরে দুমা শহরে তাঁর জন্ম। পিতা শায়খ আহমদ আশ-শামী ছিলেন দুমার হাম্বলি মাযহাবের মুফতি; এই আলিম পরিবারের পরিবেশেই তাঁর বেড়ে ওঠা। প্রাথমিক শিক্ষা শেষে তিনি দামেস্কের ‘জামঈয়াতুল গাররা’ পরিচালিত মা’হাদুল উলূমিশ শারঈয়্যায় ভর্তি হন এবং ১৯৫৪ সালে সেখান থেকে স্নাতক হন। ওই বছরই সিরীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে (বর্তমান দামেস্ক বিশ্ববিদ্যালয়) শরিয়া কলেজ প্রতিষ্ঠিত হলে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে তিনি সেখানে ভর্তি হন; ১৯৫৮ সালে তিনি প্রথম শ্রেণীতে প্রথম স্থান অধিকার করে স্নাতক হন — তিনি ছিলেন কলেজের প্রথম ব্যাচের স্নাতকদের অন্যতম।

কর্মজীবন

স্নাতকের পর তিনি দাওয়াত, তারবিয়াত ও শিক্ষকতার ময়দানে কাজ শুরু করেন। সিরিয়ার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রথমে তিনি দ্রুজ-অধ্যুষিত আস-সুওয়াইদা প্রদেশে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান — সেখানে তাঁর শিক্ষকতায় বহু মানুষ উপকৃত হয়। পরে তিনি নিজ শহর দুমায় বদলি হন এবং ১৯৮০ সালে অবসরে যান। অবসরের পর তিনি সৌদি আরবে চলে যান এবং ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন প্রতিষ্ঠানগুলোতে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত শিক্ষকতা করেন। এরপর তিনি রিয়াদে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।

সাহিত্যজীবন

পঁয়তাল্লিশ বছর বয়সের পর তিনি লেখালেখিতে মনোনিবেশ করেন; তাঁর প্রথম গ্রন্থ মিন মাঈনিস সীরাহ। তাঁর রচনাবলি প্রধানত দুই ধারার: (১) হাদিস-বিজ্ঞানভিত্তিক সংকলন — যেমন আল-ওয়াফী বিমা ফিস সহীহাইন, আল-জামি’ বাইনাস সহীহাইন, যাওয়াইদুস সুনান আলাস সহীহাইন, যাওয়াইদুল মুয়াত্তা ওয়াল মুসনাদ আলাল কুতুবিস সিত্তাহ, মাআলিমুস সুন্নাহ আন-নববীয়্যাহ ও জামিউল উসূলিত তিসআহ; এবং (২) সালাফে সালেহীনের মাওয়ায়েয ও জীবনীভিত্তিক সংকলন — মাওয়ায়েযুস সাহাবাহ, মাওয়ায়েযুল ইমামিল আওযাঈ, মাওয়ায়েযুল ইমামিল গাযযালী, মাওয়ায়েযু সালামাহ বিন দীনার প্রভৃতি। পাশাপাশি ইমাম ইবনু কায়্যিম আল-জাওযিয়্যাহর গ্রন্থাবলির তাহযীব ও তারতীবেও তাঁর উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে।

তাঁর কয়েকটি গ্রন্থ বাংলায় অনূদিত হয়েছে: সাহাবীদের অন্তর্দৃষ্টি (মাওয়ায়েযুস সাহাবাহ), মাওয়ায়েযে ইমাম ইবনুল জাওযী, মাওয়ায়েযে আবু হাযেম সালামাহ ইবনে দীনার, ইমাম গাজালির নাসিহা, জীবনের সোনালি পাঠ (ইমাম ইবনে তাইমিয়্যার মাওয়ায়েয), আসহাবে সুফফাহ ও নবিজির ঘর-সংসার (সীরাতুন নবী ফী বাইতিহী)।

বর্তমান অবস্থা ও উত্তরাধিকার

আরবি উইকিপিডিয়া অনুযায়ী তিনি জীবিত আছেন। হাদিসের খিদমত, সালাফের বাণীসংকলন এবং ইসলামি নন্দনতত্ত্বের গোড়াপত্তনের মাধ্যমে তিনি সমসাময়িক আরবি ইসলামি সাহিত্যে স্থায়ী ছাপ রেখেছেন।

বাংলা সাহিত্যের সঙ্গে থাকুন

নতুন বই, কবিতা ও লেখক আপডেট পেতে আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন।