মূল কন্টেন্টে যান
সাইয়েদ কুতুব

সাইয়েদ কুতুব

সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

এক নজরে

বিষয় তথ্য
পূর্ণ নাম সাইয়েদ ইবরাহিম হুসাইন শাজলি কুতুব
জন্ম ৯ অক্টোবর ১৯০৬ (একটি সূত্রে ৮ অক্টোবর)
জন্মস্থান মুশা গ্রাম, আসিউত প্রদেশ, মিশর (তৎকালীন মিশরীয় খেদিভাতে)
মৃত্যু ২৯ আগস্ট ১৯৬৬, কায়রো, মিশর (ফাঁসিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর)
জাতীয়তা মিশরীয়
পেশা লেখক, সাহিত্য-সমালোচক, চিন্তাবিদ, শিক্ষক ও শিক্ষা-প্রশাসক
শিক্ষা দার আল-উলুম, কায়রো; কলোরাডো স্টেট কলেজ অব এডুকেশন, যুক্তরাষ্ট্র (শিক্ষায় স্নাতকোত্তর)
উল্লেখযোগ্য কর্ম ফি জিলাল আল-কুরআন (কুরআনের ছায়াতলে), মাআলিম ফি আত-তারিক, আল-আদালা আল-ইজতিমাইয়্যা ফি আল-ইসলাম, আত-তাসবির আল-ফান্নি ফি আল-কুরআন
পুরস্কার জানা যায়নি

পরিচিতি

সাইয়েদ কুতুব (Sayyid Qutb, ১৯০৬–১৯৬৬) একজন মিশরীয় লেখক, সাহিত্য-সমালোচক, চিন্তাবিদ ও শিক্ষাবিদ। আরবি সাহিত্যের বিশ্লেষণ, কুরআনের তাফসির এবং ইসলাম-ভিত্তিক সামাজিক ও রাজনৈতিক চিন্তাধারা — এই তিন ক্ষেত্রেই তার লেখনি ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছে। তিনি ২৪টি প্রকাশিত গ্রন্থ ও পাঁচ শতাধিক প্রবন্ধ-নিবন্ধের রচয়িতা। তার জন্মতারিখ নিয়ে সূত্রে সামান্য ভিন্নতা আছে: উইকিপিডিয়ায় ৯ অক্টোবর ১৯০৬ উল্লেখ আছে, আর একটি জীবনীসূত্রে ৮ অক্টোবর ১৯০৬।

জন্ম ও শিক্ষা

১৯০৬ সালের অক্টোবরে মিশরের আসিউত প্রদেশের মুশা গ্রামে সাইয়েদ কুতুবের জন্ম। তার পূর্ণ নাম সাইয়েদ ইবরাহিম হুসাইন শাজলি কুতুব। বাবা হাজ কুতুব ইবরাহিম ছিলেন গ্রামের সুপরিচিত ধার্মিক ব্যক্তিত্ব, আর মাও ছিলেন ধার্মিক পরিবারের কন্যা। দুই বোন হামিদা ও আমিনা এবং ছোট ভাই মুহাম্মদসহ পরিবারের পাঁচ সন্তানের মধ্যে তিনি ছিলেন বড়। প্রায় দশ বছর বয়সেই তিনি পুরো কুরআন মুখস্থ করেন।

১৯২০ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি কায়রো যান এবং চাচা আহমাদ হুসাইন উসমানের কাছে থাকেন। কায়রোর দার আল-উলুম থেকে তিনি শিক্ষা-প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন। ১৯৪৮ সালে শিক্ষাব্যবস্থা অধ্যয়নের বৃত্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যান; সেখানে কলোরাডো স্টেট কলেজ অব এডুকেশন থেকে শিক্ষায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন এবং ওয়াশিংটন ডিসির উইলসন টিচার্স কলেজ ও স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা-কার্যক্রমে যুক্ত হন।

কর্মজীবন

শিক্ষাজীবন শেষে ১৯৩০ ও ১৯৪০-এর দশকে সাইয়েদ কুতুব মিশরের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে স্কুল-পরিদর্শক হিসেবে কাজ করেন। একই সময়ে লেখক হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ার চেষ্টা করেন এবং একাধিক গ্রন্থ প্রকাশ করেন। ১৯৪০-এর দশকের মাঝামাঝি নাগাদ তার অনেক রচনা স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত হয়।

১৯৫১ সালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরে তিনি মুসলিম ব্রাদারহুডে যোগ দেন এবং সংগঠনের মুখপত্রসহ বিভিন্ন পত্রিকায় লেখেন; তিনি সংগঠনের প্রচার-বিভাগের দায়িত্বেও ছিলেন।

সাহিত্যজীবন

সাইয়েদ কুতুবের সাহিত্যজীবনের শুরু সাহিত্য-সমালোচনা দিয়ে। কুরআনের শৈল্পিক উপস্থাপন বিশ্লেষণকারী আত-তাসবির আল-ফান্নি ফি আল-কুরআন তার প্রাথমিক উল্লেখযোগ্য রচনা। পরে তিনি উপন্যাস, শিক্ষা-বিষয়ক প্রবন্ধ ও সামাজিক বিশ্লেষণ লেখেন। আল-আদালা আল-ইজতিমাইয়্যা ফি আল-ইসলাম (ইসলামে সামাজিক ন্যায়বিচার) গ্রন্থে ইসলামের দৃষ্টিকোণে সামাজিক ন্যায়বিচারের বিশ্লেষণ তুলে ধরেন।

তার সর্বাধিক পরিচিত রচনা ফি জিলাল আল-কুরআন (কুরআনের ছায়াতলে) — কুরআনের ৩০ খণ্ডের তাফসির, যার প্রথম খণ্ড প্রকাশিত হয় ১৯৫২ সালে। এই তাফসিরের বড় অংশ কারাবন্দী অবস্থায় রচিত হয়। আরেকটি বহুল-প্রচারিত গ্রন্থ মাআলিম ফি আত-তারিক (মাইলস্টোনস)। সব মিলিয়ে তিনি ২৪টি গ্রন্থ এবং পাঁচ শতাধিকের বেশি প্রবন্ধ-নিবন্ধ রচনা করেন।

মৃত্যু

১৯৫৪ সালে মুসলিম ব্রাদারহুডের অনেক সদস্যের সঙ্গে সাইয়েদ কুতুব গ্রেপ্তার হন এবং দীর্ঘ কারাদণ্ড পান। প্রায় দশ বছর কারাভোগের পর ১৯৬৪ সালে তিনি মুক্তি পান। ১৯৬৫ সালে মিশরের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট গামাল আবদেল নাসেরকে হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে তাকে আবার গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়ে ১৯৬৬ সালের ২৯ আগস্ট কায়রোতে ফাঁসিতে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়; মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ৫৯ বছর।

বাংলা সাহিত্যের সঙ্গে থাকুন

নতুন বই, কবিতা ও লেখক আপডেট পেতে আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন।