মূল কন্টেন্টে যান
সত্যেন সেন

সত্যেন সেন

সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

এক নজরে

বিষয় তথ্য
পূর্ণ নাম সত্যেন সেন
জন্ম ২৮ মার্চ ১৯০৭
জন্মস্থান টঙ্গিবাড়ী, মুন্সিগঞ্জ, বঙ্গ, ব্রিটিশ ভারত (বর্তমান বাংলাদেশ)
মৃত্যু ৫ জানুয়ারি ১৯৮১, শান্তিনিকেতন, পশ্চিমবঙ্গ (বয়স ৭৩)
জাতীয়তা বাংলাদেশি
পেশা ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, ইতিহাসবিদ, রাজনীতিবিদ
শিক্ষা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় — ইতিহাসে এমএ (কারাবাসে থাকাকালীন)
উল্লেখযোগ্য কর্ম ভোরের বিহঙ্গী, অভিশপ্ত নগরী, পাপের সন্তান, বিদ্রোহী কৈবর্ত, কুমারজীব, অালবেরুনী, অপরাজেয়
পুরস্কার বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৭০); একুশে পদক (১৯৮৬, মরণোত্তর)

পরিচিতি

সত্যেন সেন (২৮ মার্চ ১৯০৭ – ৫ জানুয়ারি ১৯৮১) ছিলেন বাঙালি বিপ্লবী, ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, ইতিহাসবিদ ও সাংস্কৃতিক কর্মী। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে যুগান্তর বিপ্লবী সংগঠনের সদস্য হিসেবে এবং পরে কমিউনিস্ট আন্দোলনে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন; কারাবাসেও তার লেখাপড়া ও সংগ্রাম থেমে থাকেনি। বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রগতিশীল লেখক আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা হিসেবে তিনি সাহিত্য, শ্রমিক-সংগঠন ও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। ইতিহাসভিত্তিক উপন্যাসের জন্য তিনি বিশেষভাবে পরিচিত — প্রায় বারোটি উপন্যাস, ইতিহাসের আটটি বই ও অন্যান্য বিষয়ের বিশটি বই তিনি রচনা করেন।

জন্ম ও শিক্ষা

১৯০৭ সালের ২৮ মার্চ মুন্সিগঞ্জের টঙ্গিবাড়ীতে সত্যেন সেনের জন্ম। পিতা দরিনীমোহন সেন। ১৯২৪ সালে তিনি প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এরপর কলকাতায় গিয়ে বামপন্থী আন্দোলনে যুক্ত হন এবং যুগান্তর দলে যোগ দেন। এফএ ও বিএ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাস পড়া শুরু করেন। যুগান্তরের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কারণে ১৯৩১, ১৯৪৯, ১৯৫৪, ১৯৫৮ ও ১৯৬৫ সালে তিনি গ্রেপ্তার হন — কারাগারে থাকাকালীনই তিনি এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন।

রাজনৈতিক জীবন

যুগান্তরের সদস্য হিসেবে সত্যেন সেন ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশ নেন এবং বহুবার কারাবরণ করেন। পরবর্তীতে তিনি কমিউনিস্ট আন্দোলনে যুক্ত হন ও মার্কসবাদ-লেনিনবাদ গ্রহণ করেন। তার এই মতাদর্শ তার সাহিত্যকর্মে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়। প্রগতিশীল লেখক আন্দোলনের অন্যতম মুখ্য ব্যক্তিত্ব হিসেবে তিনি সারাজীবন ন্যায়, সাম্য ও সাধারণ মানুষের উন্নতির জন্য সংস্কৃতি ও সক্রিয়তার পথে অটল ছিলেন।

সাংবাদিকতা ও সাংস্কৃতিক কর্ম

সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি সত্যেন সেন দ্য সংবাদ পত্রিকার সহকারী সম্পাদক হিসেবে সাংবাদিকতা করেন। তিনি বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা — এই সাংস্কৃতিক সংগঠন পরবর্তীতে বাংলাদেশের প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের অন্যতম প্রধান প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়।

সাহিত্যজীবন

সত্যেন সেন উপন্যাস লেখা শুরু করেন বেশ বয়সে — তবু মাত্র দুই দশকের মধ্যে তিনি ১২টি উপন্যাস, ইতিহাসের ৮টি বই ও অন্যান্য বিষয়ের ২০টি বই রচনা করেন, যা তাকে দেশের অগ্রগণ্য ঔপন্যাসিকদের সারিতে স্থান দেয়। তার বেশিরভাগ রচনাই ঐতিহাসিক চরিত্র ও ঘটনাকে আধুনিক দৃষ্টিতে ব্যাখ্যা করে। ঐতিহাসিক উপন্যাসের মধ্যে উল্লেখযোগ্য: অভিশপ্ত নগরী (১৯৬৭), পাপের সন্তান (১৯৬৯), বিদ্রোহী কৈবর্ত (১৯৬৯), পুরুষমেধ (১৯৬৯), অালবেরুনী (১৯৬৯), কুমারজীব (১৯৬৯) ও অপরাজেয় (১৯৭০)। অন্যান্য উপন্যাসের মধ্যে আছে ভোরের বিহঙ্গী (১৯৫৯), পদচিহ্ন (১৯৬৮), সেয়ানা (১৯৬৮), সাত নম্বর ওয়ার্ড (১৯৬৯), উত্তরণ (১৯৭০), মা (১৯৭০), একূল ভাঙে ওকূল গড়ে (১৯৭১) ও রুদ্ধদ্বার মুক্তপ্রাণ (১৯৭৩)। এছাড়া তিনি মনোরমা বসুর জীবনী মনোরমা মাসিমা রচনা করেন।

পুরস্কার ও সম্মাননা

  • বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৭০)
  • একুশে পদক (১৯৮৬, মরণোত্তর)

মৃত্যু ও উত্তরাধিকার

১৯৮১ সালের ৫ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের শান্তিনিকেতনে সত্যেন সেনের মৃত্যু হয়; বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর। বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী আজও তার নামে “সত্যেন সেন গণসংগীত উৎসব” আয়োজন করে — প্রগতিশীল সংস্কৃতির প্রতি তার আজীবন প্রতিশ্রুতির স্মারক হিসেবে। ইতিহাসকে সাহিত্যের উপজীব্য করে তিনি বাংলা উপন্যাসে যে ধারার সূচনা করেন, তা তাকে বাংলাদেশের সাহিত্য-ইতিহাসে স্থায়ী আসন দিয়েছে।

বাংলা সাহিত্যের সঙ্গে থাকুন

নতুন বই, কবিতা ও লেখক আপডেট পেতে আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন।