শাইখ মাহমুদ আল
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
এক নজরে
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| পূর্ণ নাম | শাইখ মাহমুদ আল-মিসরী (Mahmoud Al-Masri; আরবি: محمود المصري) |
| ডাকনাম / কুনিয়াত | আবু আম্মার (أبو عمار) |
| জন্ম | ৫ জুন ১৯৬২ |
| জন্মস্থান | কায়রো, মিশর |
| জাতীয়তা | মিশরীয় |
| পেশা | ইসলামি প্রচারক (দাঈ) ও লেখক |
| শিক্ষা | হেলওয়ান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজসেবায় স্নাতক; মিশর ও সৌদি আরবের আলেমদের কাছে শরিয়ত শিক্ষা |
| উল্লেখযোগ্য কর্ম | সীরাতুর রাসুল; আসহাবুর রাসুল; মাওসূআতুয যাওয়াজিল ইসলামিয়্যিস সাঈদ; রিহলাতুন ইলাদ দারিল আখিরাহ; কিসাসুল কুরআন (আরবি সূত্র অনুযায়ী) |
পরিচিতি
শাইখ মাহমুদ আল-মিসরী (আরবি: محمود المصري; কুনিয়াত: আবু আম্মার) মিশরের একজন সুপরিচিত সালাফি ইসলামি প্রচারক ও লেখক। আরবি উইকিপিডিয়া ও আরবি জীবনী-সূত্র অনুযায়ী তিনি ধর্মপ্রাণ মিশরীয় পরিবারে কায়রোতে জন্মগ্রহণ করেন এবং দাওয়াতি কর্মকাণ্ড ও গ্রন্থরচনার মাধ্যমে আরব বিশ্বে পরিচিতি লাভ করেন। লক্ষণীয়: BoiInfo-এর এই লেখক-পাতার শিরোনাম “শাইখ মাহমুদ আল” সম্ভবত “শাইখ মাহমুদ আল-মিসরী” নামের সংক্ষিপ্ত রূপ; বিবাহ-পাঠ বইটির প্রকাশনা-সূত্রে (ইখলাস স্টোর, রুহামা শপ) লেখক হিসেবে “শাইখ মাহমুদ আল-মিসরী”-এর নামই উল্লেখ আছে, এবং তাঁর বিবাহ-বিষয়ক আরবি রচনার অনুবাদই ওই বইয়ের অংশ।
জন্ম ও শিক্ষা
আরবি উইকিপিডিয়া অনুযায়ী তাঁর জন্ম ১৯৬২ সালের ৫ জুন, মিশরের কায়রোতে। তিনি হেলওয়ান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজসেবা (সোশ্যাল সার্ভিস) বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর মিশরের আলেমদের কাছে শরিয়তের সব শাখায় শিক্ষা নেন এবং সৌদি আরব গিয়ে সেখানকার উসুলুদ্দীন ও ইসলামি দাওয়াতের আলেমদের কাছে জ্ঞানার্জন করেন। আরবি সূত্রের দাবি অনুযায়ী তিনি ছয়খানা প্রধান হাদিসগ্রন্থসহ শরিয়তের সব জ্ঞানে মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল আল-মুকাদ্দামের কাছ থেকে ইজাজা (সনদ) লাভ করেন। একই সূত্রে বলা হয়, তিনি মানবসম্পদ উন্নয়নে একটি আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি পেয়েছেন।
কর্মজীবন
শিক্ষা শেষে তিনি কয়েক বছর ইমাম ও খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং কায়রোর বিভিন্ন মসজিদে — যেমন আল-আজিজ বিল্লাহ ও আল-ফাতহ মসজিদে — দাওয়াতি ধারাবাহিক কর্মসূচি পরিচালনা করেন। আরবি জীবনী-সূত্র (nouraldeen.alafdal.net) অনুযায়ী তিনি ইসলামি সম্মেলনে অংশ নেন, যুক্তরাষ্ট্রের ইসলামিক সেন্টারে বক্তৃতা দেন এবং দুবাই আন্তর্জাতিক কুরআন পুরস্কারসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত হন। টেলিভিশনেও তাঁর ধর্মীয় অনুষ্ঠান প্রচারিত হয়েছে — যেমন কানাতুন নাস চ্যানেলে “ইউসুফুল আহলাম”, আর-রিসালা চ্যানেলে “আস-সাবিকুন” এবং ইকরা চ্যানেলে “লাইলাতুন ফি বাইতিন নাবি”।
সাহিত্যজীবন ও রচনাবলি
আরবি সূত্র অনুযায়ী শাইখ মাহমুদ আল-মিসরী প্রায় দেড় শতাধিক ইসলামি গ্রন্থের রচয়িতা (সংখ্যাটি সূত্রের দাবি; স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা হয়নি)। আরবি উইকিপিডিয়ায় তালিকাভুক্ত তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে আছে: সীরাতুর রাসুল (রাসুলের জীবনী), আত-তারিকু ইলা জান্নাতিল ফিরদাউস, সুওয়ারুম মিন হায়াতিল আম্বিয়া ওয়াস সাহাবা ওয়াত তাবিঈন, আসহাবুর রাসুল, সাহাবিয়াতুন হাওলার রাসুল, কিসাসুল কুরআন, রিহলাতুন ইলাদ দারিল আখিরাহ, মাওসূআতুয যাওয়াজিল ইসলামিয়্যিস সাঈদ (সুখী ইসলামি বিবাহ-বিশ্বকোষ), লা তাহযান ওয়াবতাসিম লিলহায়াহ এবং শিশুদের জন্য হিকায়াতু আম্মু মাহমুদ। বাংলাদেশে মাকতাবাতুল আসলাফ থেকে প্রকাশিত বিবাহ-পাঠ (১৬৬ পৃষ্ঠা) গ্রন্থে তাঁর বিবাহ-বিষয়ক রচনার অংশের বাংলা অনুবাদ (অনুবাদক: শরীফুল ইসলাম) ডা. শামসুল আরেফীনের রচনার পাশাপাশি অন্তর্ভুক্ত হয়েছে — এই বইটির সূত্রেই তিনি BoiInfo-এর লেখক-তালিকায় এসেছেন।
বর্তমান অবস্থা ও উত্তরাধিকার
তিনি জীবিত আছেন বলে আরবি সূত্রে জানা যায় এবং দাওয়াতি কর্মকাণ্ডে সক্রিয়। সহজ-সরল ভাষায় দাওয়াত পৌঁছে দেওয়াকে তিনি তাঁর দাওয়াতি নীতি হিসেবে বর্ণনা করেন বলে একটি আরবি জীবনী-সূত্রে উল্লেখ আছে। তাঁর বহু গ্রন্থ আরব বিশ্বের ইসলামি পাঠকদের মধ্যে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছে বলে দাবি করা হয়।