মূল কন্টেন্টে যান

শাইখ মান্না‘আ আল-কাত্তান রাহিমাহুল্লাহ

সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

এক নজরে

বিষয় তথ্য
পূর্ণ নাম মান্না‘ খলীল আল-কাত্তান (مناع خليل القطان)
জন্ম ১৯২৫ সালের অক্টোবর (দিন তারিখ সুনির্দিষ্ট নয়)
জন্মস্থান শানশুর গ্রাম, আশমুন কেন্দ্র, মেনুফিয়া, মিশর
মৃত্যু ১৯ জুলাই ১৯৯৯, সৌদি আরব
জাতীয়তা মিশরীয় (পরবর্তীতে সৌদি নাগরিকত্ব লাভ)
পেশা ইসলামী পণ্ডিত, অধ্যাপক, শিক্ষা-প্রশাসক
শিক্ষা মক্তবে কুরআন হিফজ; আল-আজহার ধর্মীয় ইনস্টিটিউট, শিবিন আল-কোম; উসূলুদ্দীন অনুষদ, কায়রো (আল-আজহার)
উল্লেখযোগ্য পদ হাই ইনস্টিটিউট অব জুডিসিয়ারির পরিচালক (সৌদি আরব); ইমাম মুহাম্মাদ বিন সাউদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের পোস্টগ্র্যাজুয়েট বিভাগের প্রধান
উল্লেখযোগ্য কর্ম মাবাহিস ফি উলূমিল কুরআন, তারিখুত তাফসীর ওয়া মানাহিজুল মুফাসসিরীন, তাফসীরু আয়াতিল আহকাম, ইতিহাসুত তাশরী‘ইল ইসলামী

পরিচিতি

শাইখ মান্না‘ খলীল আল-কাত্তান (১৯২৫–১৯৯৯) বিংশ শতাব্দীর একজন প্রভাবশালী মিশরীয় সুন্নি ইসলামী পণ্ডিত। কুরআন বিজ্ঞান (উলূমুল কুরআন), তাফসীর-বিষয়ক ইতিহাস ও ইসলামী আইনশাস্ত্রের ওপর তাঁর রচনা আধুনিক ইসলামী উচ্চশিক্ষার পাঠ্যসূচিতে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছে। মিশরে জন্ম নিলেও তাঁর কর্মজীবনের বৃহত্তর অংশ কেটেছে সৌদি আরবে — সেখানে তিনি শুধু অধ্যাপনাই করেননি, বিচার-শিক্ষা ও স্নাতকোত্তর শিক্ষার প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। বাংলা ভাষাভাষী পাঠকের কাছে তিনি *মাবাহিস ফি উলূমিল কুরআন* গ্রন্থের লেখক হিসেবে বিশেষভাবে পরিচিত, যার বাংলা অনুবাদ বাংলাদেশে বহুল প্রচলিত।

জন্ম ও শিক্ষা

১৯২৫ সালের অক্টোবরে (১৩৪৫ হিজরি) মিশরের মেনুফিয়া গভর্নরেটের আশমুন কেন্দ্রের শানশুর গ্রামে একটি মধ্যবিত্ত ধর্মপ্রাণ পরিবারে তাঁর জন্ম। শৈশবে মক্তবে তিনি পবিত্র কুরআন হিফজ করেন, এরপর প্রাথমিক বিদ্যালয় শেষে শিবিন আল-কোম শহরের আল-আজহার ধর্মীয় ইনস্টিটিউটে ভর্তি হন এবং পরে কায়রোর আল-আজহারের উসূলুদ্দীন অনুষদে উচ্চশিক্ষা লাভ করেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য শিক্ষকদের মধ্যে ছিলেন শাইখ আবদুর রাজ্জাক আফীফী, শাইখ আবদুল মুতাআল সাইফুন নাসর, আলী শালাবী, মুহাম্মাদ জায়দান, ড. মুহাম্মাদ আল-বাহী ও ড. মুহাম্মাদ ইউসুফ মূসা। তিনি নিজে বলতেন, তাঁর চিন্তায় সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছেন তিন ব্যক্তি — তাঁর পিতা খলীল আল-কাত্তান, শাইখ আবদুর রাজ্জাক আফীফী এবং হাসান আল-বান্না।

কর্মজীবন

আরবি উইকিপিডিয়ার জীবনী অনুযায়ী তিনি ১৯৪৮ সালে ফিলিস্তিনে যুদ্ধে অংশ নেন। ১৯৫৩ সালে বাদশাহ আবদুল আজিজ বিন সাউদের আহ্বানে তিনি সৌদি আরবে শিক্ষাদানের উদ্দেশে যান এবং সেখানেই বাকি জীবন কাটান। প্রথমে তিনি আল-আহসায় ধর্মীয় ইনস্টিটিউট চালু করেন, পরে কাসীম অঞ্চলে প্রথম ধর্মীয় ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে তিনি রিয়াদের শরিয়াহ অনুষদে অধ্যাপক, হাই ইনস্টিটিউট অব জুডিসিয়ারির পরিচালক এবং ইমাম মুহাম্মাদ বিন সাউদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে পোস্টগ্র্যাজুয়েট পড়াশোনার প্রতিষ্ঠাতা-প্রধান হন। সৌদি আরবের শিক্ষানীতি-সংক্রান্ত উচ্চ কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ উপদেষ্টা হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেন। মুহাম্মাদ বিন সাউদ, উম্মুল কুরা ও মদীনার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি ১১৫টি মাস্টার্স ও ডক্টরেট থিসিস তত্ত্বাবধান করেন। ১৯৯৩ সালে নিজের অর্থায়নে তিনি নিজ গ্রাম শানশুরে একটি বড় দাতব্য ইসলামী কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠা করেন।

সাহিত্যজীবন ও রচনাবলি

তাঁর সর্বাধিক বিখ্যাত গ্রন্থ মাবাহিস ফি উলূমিল কুরআন — কুরআন নাযিলের ইতিহাস, সংকলন, কিরাআত, নাসিখ-মানসূখ, মুহকাম-মুতাশাবিহসহ কুরআন বিজ্ঞানের নানা শাখাকে সহজবোধ্য ভাষায় উপস্থাপন করে এই বই আরব বিশ্বের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রামাণ্য পাঠ্যবই হিসেবে গৃহীত হয়। অন্যান্য উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে আছে তারিখুত তাফসীর ওয়া মানাহিজুল মুফাসসিরীন (তাফসীরের ইতিহাস ও মুফাসসিরদের পদ্ধতি), তাফসীরু আয়াতিল আহকাম, ইতিহাসুত তাশরী‘ইল ইসলামী — আত-তাশরী‘উ ওয়াল ফিকহু ফিল ইসলাম তারিখান ওয়া মানহাজান, মাবাহিস ফি উলূমিল হাদীস, আদ-দা‘ওয়াতু ইলাল ইসলাম, নিযামুল উসরাহ ফিল ইসলাম এবং মাওকিফুল ইসলাম মিনাল ইশতিরাকিয়্যাহ। তাঁর কিছু পাণ্ডুলিপি অপ্রকাশিত রয়ে গেছে।

ব্যক্তিগত জীবন

তাঁর স্ত্রী ড. রাজা শাবল আরবি ভাষার অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান (বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত)। এই দম্পতির তিন পুত্র ও দুই কন্যা — পাঁচ সন্তানই রিয়াদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত (আরবি উইকিপিডিয়া অনুযায়ী)। তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের মধ্যে শাইখ মুহাম্মাদ আল-গাজালী, শাইখ সাইয়্যিদ সাবিক ও শাইখ আহমাদ হাসান আল-বাকূরীর নাম উল্লেখ করা হয়।

মৃত্যু ও উত্তরাধিকার

দীর্ঘ তিন বছরেরও বেশি সময় লিভার ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে ১৪২০ হিজরির ৬ রবিউস সানি (১৯ জুলাই ১৯৯৯) সোমবার তিনি রিয়াদে ইন্তেকাল করেন; বয়স হয়েছিল প্রায় ৭৪ বছর। রিয়াদের আল-জাজিরা এলাকার আর-রাজি মসজিদে জানাজা শেষে তাঁকে আন-নাসিম কবরস্থানে দাফন করা হয়। তাঁর গ্রন্থাবলি, বিশেষত মাবাহিস ফি উলূমিল কুরআন, আজও বিশ্বের ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়ানো হয় এবং একাধিক ভাষায় অনূদিত হয়েছে — এটাই তাঁর স্থায়ী উত্তরাধিকার।

বাংলা সাহিত্যের সঙ্গে থাকুন

নতুন বই, কবিতা ও লেখক আপডেট পেতে আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন।