শাইখ আবদুল আযীয তারীফি
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
এক নজরে
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| পূর্ণ নাম | আবদুল আযীয ইবনে মারযূক আত-তারীফি |
| জন্ম | ২৯ নভেম্বর ১৯৭৬, কুয়েত |
| জাতীয়তা | সৌদি |
| পেশা | ইসলামি পণ্ডিত, হাদিস-বিশারদ, গবেষক |
| শিক্ষা | ইমাম মুহাম্মদ ইবনে সৌদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়, রিয়াদ (শরিয়া অনুষদ) |
| পরিচিতি | হাদিস ও ফিকহে গভীর জ্ঞান এবং প্রধান হাদিস-সংকলন থেকে স্মৃতিশক্তির ভিত্তিতে হাদিস উদ্ধৃতির ক্ষমতার জন্য পরিচিত |
পরিচিতি
আবদুল আযীয আত-তারীফি (জন্ম ২৯ নভেম্বর ১৯৭৬) সৌদি আরবের একজন ইসলামি পণ্ডিত, যিনি হাদিস ও ফিকহ বিষয়ে তার জ্ঞানের জন্য পরিচিতি পেয়েছেন। প্রধান হাদিস-সংকলনগুলো থেকে স্মৃতির জোরে হাদিস উদ্ধৃত করার বিরল ক্ষমতার কারণে তিনি ছাত্র ও শ্রোতাদের মধ্যে বিশেষভাবে পরিচিত হন। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের গবেষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করে তিনি পরে একটি গবেষণা-কেন্দ্রের অধ্যয়ন ও গবেষণা বিভাগের পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৬ সালের এপ্রিল মাসে সৌদি কর্তৃপক্ষের হাতে গ্রেপ্তারের পর থেকে তিনি আটক অবস্থায় আছেন বলে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
জন্ম ও শিক্ষা
১৯৭৬ সালের ২৯ নভেম্বর (৭ যিলহজ ১৩৯৬ হিজরি) কুয়েতে তার জন্ম। শৈশবে তিনি কুয়েত ও ইরাকের মসুল শহরের মধ্যে যাতায়াত করতেন; পরে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। মাত্র ১৩ বছর বয়সে তিনি ইসলামি গ্রন্থ মুখস্থ করা শুরু করেন। রিয়াদের ইমাম মুহাম্মদ ইবনে সৌদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের শরিয়া কলেজ থেকে তিনি উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেন। জীবনীসূত্রে তার শিক্ষকদের মধ্যে শাইখ আবদুল আযীয ইবনে বায, শাইখ আবদুল্লাহ ইবনে আকীল ও শাইখ আবদুল করিম আল-খুদাইরের নাম পাওয়া যায়; তিনি হাদিস, ফিকহ, উসুল ও তাফসিরসহ চার মাযহাবের ফিকহ-গ্রন্থ অধ্যয়ন করেছেন বলে উল্লেখ আছে।
কর্মজীবন
শিক্ষাজীবন শেষে তিনি সৌদি ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে গবেষক হিসেবে যোগ দেন। পরে গবেষণা ও অধ্যয়ন কেন্দ্রে (Center for Research and Studies) অধ্যয়ন ও গবেষণা বিভাগের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তীতে একই কেন্দ্রে ইসলামি গবেষক হিসেবে কাজ করেন। এ সময়ে তিনি বিভিন্ন মসজিদে বক্তৃতা দিতেন; এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, উদারতাবাদ (লিবারেলিজম) বিষয়ে বক্তৃতা দেওয়ার পর তার বক্তৃতা-কার্যক্রম স্থগিত করা হয় এবং তাকে এ বিষয়ে মন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে অবহিত করেছিলেন।
রচনাবলি ও প্রভাব
তার রচনা ও বক্তৃতা মূলত আরবি ভাষায় প্রকাশিত ও প্রচারিত হয়েছে। হাদিসের সনদ ও মতন স্মৃতি থেকে নির্ভুলভাবে উদ্ধৃত করার দক্ষতা তাকে মুহাদ্দিস হিসেবে পরিচিতি এনে দেয়। তার ছাত্ররা তার গ্রেপ্তারের পর তার রচনা ও বক্তৃতার সংকলন প্রকাশ ও প্রচারের কাজ চালিয়ে যান, ফলে তার বক্তব্য বিশ্বের নানা প্রান্তে পৌঁছায়। ইংরেজি ভাষায় তার The Islamic Faith (২০২৩) গ্রন্থের অনুবাদ প্রকাশিত হয়েছে।
গ্রেপ্তার ও বর্তমান অবস্থা
২০১৬ সালের এপ্রিল মাসে সৌদি নিরাপত্তা বাহিনী তাকে গ্রেপ্তার করে। মানবাধিকার সংস্থা আলকস্তের (ALQST) প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি মালিকানাধীন আল-আরাবিয়া টেলিভিশন চ্যানেল ও সরকারের কিছু নীতির সমালোচনামূলক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টের পর এই গ্রেপ্তার ঘটে। সংস্থাটির ২০২৬ সালের আগস্টের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, তিনি রিয়াদের আল-হায়ের কারাগারে নির্জন বন্দী অবস্থায় আটক আছেন এবং প্রসিকিউশন তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড চেয়েছিল; তবে প্রতিবেদনেই স্বীকার করা হয়েছে যে সৌদি কর্তৃপক্ষ প্রকাশ্যে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি এবং বিচার-প্রক্রিয়ার সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে সংস্থাটির কাছে পর্যাপ্ত তথ্য নেই। (উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে তার নামে পরিচালিত একটি ফেসবুক পেজে খালাসের রায়ের খবর প্রচারিত হয়েছিল; কিন্তু পরবর্তী প্রতিবেদনগুলোতে তিনি মুক্তি পাননি বলেই উল্লেখ আছে।)