লোইস লোওরি
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
এক নজরে
| বিষয় | তথ্য |
| পূর্ণ নাম | লোইস অ্যান লোওরি (জন্মসূত্রে হ্যামার্সবার্গ) |
| ইংরেজি নাম | Lois Lowry |
| জন্ম | ২০ মার্চ ১৯৩৭ |
| জন্মস্থান | হনোলুলু, হাওয়াই, যুক্তরাষ্ট্র |
| জাতীয়তা | মার্কিন |
| পেশা | শিশুসাহিত্যিক, লেখক |
| শিক্ষা | ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন মেইন (ইংরেজি সাহিত্যে বিএ, ১৯৭২) |
| উল্লেখযোগ্য কর্ম | দ্য গিভার (১৯৯৩), নাম্বার দ্য স্টারস (১৯৮৯), অ্যানাস্টেশিয়া সিরিজ |
| পুরস্কার | নিউবেরি মেডেল (১৯৯০, ১৯৯৪), মার্গারেট এডওয়ার্ডস পুরস্কার (২০০৭) |
পরিচিতি
লোইস লোওরি (জন্ম ২০ মার্চ ১৯৩৭) একজন মার্কিন শিশু ও কিশোরসাহিত্য লেখিকা। শিশুতোষ সাহিত্যে কঠিন ও জটিল বিষয় — বর্ণবাদ, প্রান্তিক রোগ, মৃত্যু, হলোকস্ট, ডিস্টোপিয়া এবং কর্তৃত্বের প্রশ্ন — সাহসের সঙ্গে তুলে ধরার জন্য তিনি সুপরিচিত। নাম্বার দ্য স্টারস (১৯৮৯) ও দ্য গিভার (১৯৯৩) — দুটি বইয়ের জন্যই তিনি শিশুসাহিত্যের সর্বোচ্চ সম্মান নিউবেরি মেডেল পেয়েছেন। তার বই বিশ্বব্যাপী কোটি কোটি পাঠকের কাছে পৌঁছেছে এবং স্কুল পাঠ্যক্রমের পাশাপাশি বিতর্কিত বইয়ের তালিকাতেও নিয়মিত স্থান পায়।
জন্ম ও শিক্ষা
১৯৩৭ সালের ২০ মার্চ হাওয়াইয়ের হনোলুলুতে লোইস অ্যান হ্যামার্সবার্গের জন্ম। বাবা রবার্ট হ্যামার্সবার্গ ছিলেন মার্কিন সেনাবাহিনীর দন্তচিকিৎসক; মা ক্যাথরিন ল্যান্ডিস। বাবার চাকরির সুবাদে শৈশবে পরিবারসহ তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নানা রাজ্য ও জাপানে বসবাস করেন — দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৪৮–১৯৫২ সালে পরিবার টোকিওতে ছিল। তিন বছর বয়সে পড়তে শেখা লোওরি ছোটবেলা থেকেই লেখক হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। তিনি ব্রুকলিনের প্যাকার কলেজিয়েট ইনস্টিটিউট থেকে হাই স্কুল পাস করে ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের পেমব্রোক কলেজে লেখাপড়া বিষয়ে ভর্তি হন; কিন্তু ১৯৫৬ সালে বিয়ের পর পড়াশোনা ছেড়ে দেন। পরবর্তীতে সন্তানদের লালনপালনের পাশাপাশি তিনি পড়াশোনা শেষ করেন — ১৯৭২ সালে ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন মেইন থেকে ইংরেজি সাহিত্যে বিএ ডিগ্রি লাভ করেন।
কর্মজীবন
লেখক হওয়ার আগে লোওরি ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক ও ফটোগ্রাফার হিসেবে কাজ করতেন। ১৯৭০-এর দশকে রেডবুক ম্যাগাজিনে শিশুর দৃষ্টিকোণ থেকে লেখা একটি ছোটগল্প পাঠান তিনি; হটন মিফলিনের এক সম্পাদক তা পড়ে তাকে শিশুতোষ বই লেখার পরামর্শ দেন। ১৯৭৭ সালে, ৪০ বছর বয়সে, তার প্রথম বই আ সামার টু ডাই প্রকাশিত হয় — বইটির বিষয় ছিল প্রান্তিক রোগ, যা তার বড় বোন হেলেনের ক্যানসারে মৃত্যুর (১৯৬২) অভিজ্ঞতা থেকে অনুপ্রাণিত। একই বছর তার বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এরপর তিনি বোস্টনে চলে যান।
সাহিত্যজীবন
অটাম স্ট্রিট (১৯৮০) — বর্ণবাদ, শোক ও ভয়ের সঙ্গে শিশুর মানিয়ে নেওয়ার গল্প; এটি তার সবচেয়ে আত্মজৈবনিক বই হিসেবে বিবেচিত। একই বছর শুরু হয় হাস্যরসাত্মক অ্যানাস্টেশিয়া সিরিজ (অ্যানাস্টেশিয়া ক্রুপনিক, ১৯৭৯) যা ১৯৯৫ পর্যন্ত চলে। নাম্বার দ্য স্টারস (১৯৮৯) — নাৎসি-অধিকৃত ডেনমার্কের পটভূমিতে লেখা উপন্যাস — ১৯৯০ সালে নিউবেরি মেডেল ও ন্যাশনাল জিউইশ বুক পুরস্কার পায়।
তার সবচেয়ে বিখ্যাত বই দ্য গিভার (১৯৯৩) — বারো বছরের জোনাসের গল্প, যে এমন এক সমাজে বাস করে যেখানে স্মৃতি নিষিদ্ধ। বইটি ১৯৯৪ সালে নিউবেরি মেডেল পায়; ২০২১ সাল নাগাদ এর ১ কোটি ২০ লাখের বেশি কপি বিক্রি হয়েছে। পরে তিনি একই জগতের আরও তিনটি বই লেখেন — গ্যাদারিং ব্লু (২০০০), মেসেঞ্জার (২০০৪) ও সন (২০১২); একত্রে এগুলো “দ্য গিভার কোয়ার্টেট” নামে পরিচিত। দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর ভাষায় তিনি “সমসাময়িক তরুণ-প্রাপ্তবয়স্ক ডিস্টোপিয়ান উপন্যাসের উদ্ভাবক”। ২০১৪ সালে দ্য গিভার অবলম্বনে চলচ্চিত্র নির্মিত হয়। তার অন্যান্য বইয়ের মধ্যে রয়েছে র্যাবল স্টার্কি (১৯৮৭), গুনি বার্ড গ্রিন (২০০২), দ্য উইলোবিজ (২০০৮) ও স্মৃতিকথা লুকিং ব্যাক (১৯৯৮)।
ব্যক্তিগত জীবন
১৯৫৬ সালে মার্কিন নৌবাহিনীর কর্মকর্তা ডোনাল্ড গ্রে লোওরিকে বিয়ে করেন তিনি; এই দম্পতির চার সন্তান — দুই কন্যা ও দুই পুত্র। ১৯৭৭ সালে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। পরে তিনি দীর্ঘদিন মার্টিন স্মলের সঙ্গে সম্পর্কে ছিলেন (২০১১ সালে তার মৃত্যু পর্যন্ত)। তার পুত্র গ্রে — মার্কিন বিমানবাহিনীর মেজর ও ফ্লাইট প্রশিক্ষক — ১৯৯৫ সালে যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনায় নিহত হন; লোওরি একে তার জীবনের সবচেয়ে কঠিন দিন বলে উল্লেখ করেছেন। ২০২৩ সালের তথ্য অনুযায়ী তিনি মেইন অঙ্গরাজ্যে বসবাস করেন এবং লেখালেখি চালিয়ে যাচ্ছেন।
পুরস্কার ও সম্মাননা
দুটি নিউবেরি মেডেল (১৯৯০, ১৯৯৪) ছাড়াও তিনি পেয়েছেন ন্যাশনাল জিউইশ বুক পুরস্কার (১৯৯০), রেজিনা মেডেল (১৯৯৪), রোড আইল্যান্ড চিলড্রেনস বুক পুরস্কার (২০০২, গুনি বার্ড গ্রিন-এর জন্য) এবং আমেরিকান লাইব্রেরি অ্যাসোসিয়েশনের মার্গারেট এডওয়ার্ডস পুরস্কার (২০০৭)। শিশুসাহিত্যের সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হ্যান্স ক্রিশ্চিয়ান অ্যান্ডারসেন পুরস্কারে তিনি তিনবার মনোনীত/চূড়ান্ত তালিকায় ছিলেন (২০০০, ২০০৪, ২০১৬)। ২০১৪ সালে ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয় তাকে সম্মানসূচক ডক্টরেট দেয়।
বর্তমান অবস্থা ও উত্তরাধিকার
লোওরি এখনও সক্রিয় লেখিকা ও বক্তা। তার বই যুক্তরাষ্ট্রের স্কুলগুলোতে বহুল পঠিত পাঠ্যক্রমের অংশ, আবার একই সঙ্গে “নিষিদ্ধ বই”-এর তালিকাতেও নিয়মিত থাকে — ২০২০ সালে টাইম ম্যাগাজিন দ্য গিভার-কে “মিডল স্কুল পাঠ্যক্রম ও নিষিদ্ধ বইয়ের তালিকা — দুটোরই অবিচ্ছেদ্য অংশ” বলে বর্ণনা করে। জীবনীকার জোয়েল চ্যাস্টন তাকে “বিংশ শতাব্দীর শিশুসাহিত্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন লেখক” আখ্যা দিয়েছেন।