লেজলি হেইজেলটোন
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
এক নজরে
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| পূর্ণ নাম | লেজলি অ্যাডেল হেইজেলটোন (Lesley Adele Hazleton) |
| জন্ম | ২০ সেপ্টেম্বর ১৯৪৫, রিডিং, বার্কশায়ার, ইংল্যান্ড |
| মৃত্যু | ২৯ এপ্রিল ২০২৪, সিয়াটল, ওয়াশিংটন, যুক্তরাষ্ট্র — বয়স ৭৮ |
| জাতীয়তা | ব্রিটিশ-আমেরিকান |
| পেশা | লেখক, সাংবাদিক, কলামিস্ট |
| শিক্ষা | ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয় (মনোবিজ্ঞানে বিএ); হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয়, জেরুজালেম (মনোবিজ্ঞানে এমএ) |
| উল্লেখযোগ্য কর্ম | দ্য ফার্স্ট মুসলিম: দ্য স্টোরি অব মুহাম্মাদ (২০১৩); আফটার দ্য প্রফেট: দ্য এপিক স্টোরি অব দ্য শিয়া-সুন্নি স্প্লিট (২০০৯); মেরি: আ ফ্লেশ-অ্যান্ড-ব্লাড বায়োগ্রাফি (২০০৪); জেজেবেল (২০০৭); অ্যাগনস্টিক: আ স্পিরিটেড ম্যানিফেস্টো (২০১৬) |
| পুরস্কার | আমেরিকান জিউইশ কমিটি/প্রেজেন্ট টেন্স বই পুরস্কার (১৯৮৭); ওয়াশিংটন বুক অ্যাওয়ার্ড (২০০৫); দ্য স্ট্রেঞ্জার্স জিনিয়াস অ্যাওয়ার্ড — সাহিত্য (২০১১) |
পরিচিতি
লেজলি অ্যাডেল হেইজেলটোন (১৯৪৫–২০২৪) ছিলেন ব্রিটিশ-আমেরিকান লেখক ও সাংবাদিক, যিনি ধর্মীয় জীবনী-সাহিত্যের জন্য আন্তর্জাতিক পরিচিতি পান। পেশাগত জীবন শুরু করেছিলেন মনোবিজ্ঞানী হিসেবে; পরে সাংবাদিকতায় এসে জেরুজালেমে এক যুগেরও বেশি সময় সংবাদদাতা হিসেবে কাজ করেন। অটোমোবাইল থেকে রাজনীতি — নানা বিষয়ে লিখলেও তার সবচেয়ে প্রভাবশালী কাজ ধর্ম ও ইতিহাসের সংযোগস্থলে: মুহাম্মাদ (সা.)-এর জীবনী, মরিয়মের জীবনী, জেজেবেলের পুনর্মূল্যায়ন এবং মুহাম্মাদ (সা.)-এর মৃত্যু-পরবর্তী শিয়া-সুন্নি বিভাজনের ইতিহাস। নিজেকে তিনি “অ্যাগনস্টিক” হিসেবে বর্ণনা করতেন — সংগঠিত ধর্মের প্রতি অনুরাগ না থাকলেও ধর্মীয় রহস্যের প্রতি গভীর অনুভূতির কথা লিখে গেছেন।
জন্ম ও শিক্ষা
১৯৪৫ সালের ২০ সেপ্টেম্বর ইংল্যান্ডের রিডিংয়ে একটি অর্থোডক্স ইহুদি পরিবারে হেইজেলটোনের জন্ম। বাবা জেসেল হেইজেলটোন ছিলেন চিকিৎসক, মা সিবিল (সিলভারম্যান) হেইজেলটোন। তিনি রিডিংয়ের সেন্ট জোসেফ কনভেন্ট স্কুলে পড়াশোনা করেন। ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মনোবিজ্ঞানে বিএ এবং জেরুজালেমের হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মনোবিজ্ঞানে এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন। সাংবাদিকতায় আসার আগে তিনি পরামর্শদাতা (কাউন্সেলর) হিসেবে এবং একটি পরীক্ষামূলক উচ্চবিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে কাজ করেন।
কর্মজীবন
১৯৬৬ সালে, বিশ বছর বয়সে, হেইজেলটোন জেরুজালেমে চলে যান এবং ১৯৬৬ থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করেন — দ্য জেরুজালেম পোস্ট-এর সাংবাদিক এবং টাইম ম্যাগাজিনের স্ট্রিংগার হিসেবে। এই সময়ে তিনি দুটি যুদ্ধ ও একটি শান্তিচুক্তির সাক্ষী হন। ১৯৭৯ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে (নিউইয়র্ক) চলে যান; টাইম, দ্য নিউইয়র্ক টাইমস, দ্য নিউইয়র্ক রিভিউ অব বুকস, হার্পার্স, দ্য নেশন ও দ্য নিউ রিপাবলিক-এ মধ্যপ্রাচ্য-বিষয়ক লেখা লিখতেন এবং ডেট্রয়েট ফ্রি প্রেস-এ অটোমোবাইল নিয়ে লিখতেন। পরে তিনি মার্কিন নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৯২ সালে সিয়াটলে স্থায়ী হন, যেখানে একটি ভাসমান বাড়িতে (হাউসবোটে) বসবাস করতেন। ২০১০ সালের এপ্রিলে তিনি “দ্য অ্যাক্সিডেন্টাল থিওলজিস্ট” নামে একটি ব্লগ চালু করেন, যেখানে ধর্ম, রাজনীতি ও অস্তিত্ব নিয়ে লিখতেন। তিনি একাধিক TED ও TEDx বক্তৃতা দেন, যার মধ্যে “দ্য ডাউট এসেনশিয়াল টু ফেইথ” (TEDGlobal 2013) ও “হোয়াটস রং উইথ ডাইং?” (TEDxSeattle 2017) উল্লেখযোগ্য।
সাহিত্যজীবন
তার প্রথম বই ইজরায়েলি উইমেন: দ্য রিয়ালিটি বিহাইন্ড দ্য মিথস (১৯৭৭) ইসরায়েলে নারীবাদের জটিল চিত্র তুলে ধরে। এরপর প্রকাশিত হয় হোয়্যার মাউন্টেনস রোর (১৯৮০, সিনাই-বিষয়ক ব্যক্তিগত প্রতিবেদন) এবং জেরুজালেম, জেরুজালেম: আ মেমোয়ার অব ওয়ার অ্যান্ড পিস, প্যাশন অ্যান্ড পলিটিকস (১৯৮৬), যা ১৯৮৭ সালে আমেরিকান জিউইশ কমিটি/প্রেজেন্ট টেন্স বই পুরস্কার জেতে। অটোমোবাইল-বিষয়ক বই ড্রাইভিং টু ডেট্রয়েট: অ্যান অটোমোটিভ ওডিসি (১৯৯৮) ও কনফেশনস অব আ ফাস্ট উইম্যান (১৯৮৬) তার বহুমুখী আগ্রহের সাক্ষ্য দেয়।
ধর্মীয় জীবনী-সাহিত্যে তার প্রধান কাজগুলো: মেরি: আ ফ্লেশ-অ্যান্ড-ব্লাড বায়োগ্রাফি অব দ্য ভার্জিন মাদার (২০০৪; ২০০৫ সালের ওয়াশিংটন বুক অ্যাওয়ার্ড বিজয়ী); জেজেবেল: দ্য আনটোল্ড স্টোরি অব দ্য বাইবেলস হারলট কুইন (২০০৭; ২০০৮ ওয়াশিংটন বুক অ্যাওয়ার্ডের চূড়ান্ত তালিকা); আফটার দ্য প্রফেট: দ্য এপিক স্টোরি অব দ্য শিয়া-সুন্নি স্প্লিট ইন ইসলাম (২০০৯; ২০১০ PEN-USA বই পুরস্কারের চূড়ান্ত তালিকা); দ্য ফার্স্ট মুসলিম: দ্য স্টোরি অব মুহাম্মাদ (২০১৩; নিউইয়র্ক টাইমস এডিটর্স চয়েস)। তার শেষ বই অ্যাগনস্টিক: আ স্পিরিটেড ম্যানিফেস্টো (২০১৬) ছিল পাবলিশার্স উইকলি-র বসন্ত ২০১৬-এর সর্বাধিক প্রত্যাশিত বইগুলোর একটি এবং নিউইয়র্ক টাইমস এডিটর্স চয়েস। ২০১১ সালে তিনি দ্য স্ট্রেঞ্জার-এর জিনিয়াস অ্যাওয়ার্ড (সাহিত্য) পান এবং ২০১২ সালে টাউন হল সিয়াটলের প্রথম স্কলার-ইন-রেসিডেন্স হন।
ব্যক্তিগত জীবন
১৯৭৭ সালেই হেইজেলটোন ঘোষণা করেছিলেন যে তার বিয়ে করার বা সন্তান নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই; তিনি অবিবাহিত ছিলেন এবং তার কোনো সন্তান ছিল না। তার একমাত্র জীবিত নিকটাত্মীয় ছিলেন ভাই ইয়ান।
মৃত্যু
টার্মিনাল কিডনি ক্যানসার ধরা পড়ার পর হেইজেলটোন চিকিৎসা না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং ২০২৪ সালের ২৯ এপ্রিল সিয়াটলের নিজ বাড়িতে মেডিকেল এইড ইন ডাইং (MAiD)-এর মাধ্যমে ৭৮ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর পর বন্ধুদের কাছে পাঠানোর জন্য তিনি আগেই একটি বিদায়ি ইমেইল লিখে রেখেছিলেন। দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এ (৭ মে ২০২৪) তার মৃত্যুসংবাদ প্রকাশিত হয়, যেখানে তাকে “ধর্ম ও দ্রুতগতির গাড়ি — দুটোই মোকাবিলা করা লেখক” হিসেবে স্মরণ করা হয়।