লুইসা মে এলকট
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
এক নজরে
| পূর্ণ নাম | লুইসা মে এলকট |
| জন্ম | ২৯ নভেম্বর ১৮৩২, জার্মানটাউন, পেনসিলভানিয়া, যুক্তরাষ্ট্র |
| মৃত্যু | ৬ মার্চ ১৮৮৮, বস্টন, ম্যাসাচুসেটস, যুক্তরাষ্ট্র (বয়স ৫৫) |
| সমাধি | স্লিপি হলো সেমেটারি, কনকর্ড, ম্যাসাচুসেটস |
| জাতীয়তা | আমেরিকান |
| পেশা | ঔপন্যাসিক, গল্পকার, কবি |
| শিক্ষা | পিতা ও ট্রান্সেনডেন্টালিস্ট মহলের কাছে বাড়িতেই শিক্ষা |
| উল্লেখযোগ্য কর্ম | লিটল উইমেন (১৮৬৮), হসপিটাল স্কেচেস (১৮৬৩), লিটল মেন (১৮৭১), জো’স বয়েজ (১৮৮৬) |
| ছদ্মনাম | এ. এম. বার্নার্ড, ফ্লোরা ফেয়ারফিল্ড |
পরিচিতি
লুইসা মে এলকট (২৯ নভেম্বর ১৮৩২ – ৬ মার্চ ১৮৮৮) ছিলেন আমেরিকান ঔপন্যাসিক, গল্পকার ও কবি; লিটল উইমেন (১৮৬৮) উপন্যাসের জন্য তিনি বিশ্বব্যাপী পরিচিত। মেগ, জো, বেথ ও এমি — এই চার বোনের বেড়ে ওঠার গল্প শিশুসাহিত্যে প্রচলিত আদর্শায়িত চরিত্রের ধারা ভেঙে বাস্তবসম্মত ও প্রাণবন্ত তরুণী নায়িকা উপহার দেয়। তিনি ত্রিশের বেশি বই এবং অসংখ্য গল্প ও কবিতা লিখেছেন।
জন্ম ও শিক্ষা
পেনসিলভানিয়ার জার্মানটাউনে লুইসা মে এলকটের জন্ম। বাবা এমোস ব্রনসন এলকট ছিলেন ট্রান্সেনডেন্টালিস্ট দার্শনিক ও শিক্ষাবিদ; মা অ্যাবিগেইল মে এলকট। তিন বোন — অ্যানা, এলিজাবেথ ও অ্যাবিগেইল মে — সহ তিনি ম্যাসাচুসেটসের বস্টন ও কনকর্ডে বেড়ে ওঠেন। পারিবারিক বন্ধু ও প্রতিবেশী মহলে ছিলেন রালফ ওয়াল্ডো এমারসন, হেনরি ডেভিড থোরো, ন্যাথানিয়েল হথর্ন, মার্গারেট ফুলারের মতো বুদ্ধিজীবীরা। শিক্ষা মূলত বাড়িতে পিতা ও এই মহলের কাছে। পরিবার ছিল দরিদ্র; অল্প বয়স থেকেই তিনি সেলাই, শিক্ষকতা, গৃহকর্মসহ নানা কাজ করে সংসারে সাহায্য করতেন।
সাহিত্যজীবন
১৮৫১ সালে ‘ফ্লোরা ফেয়ারফিল্ড’ ছদ্মনামে পিটারসন’স ম্যাগাজিনে তার প্রথম কবিতা ‘সানলাইট’ প্রকাশিত হয়; ১৮৫৪ সালে গল্পসংকলন ফ্লাওয়ার ফেবলস বের হয়। ক্যারিয়ারের শুরুতে তিনি প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য রোমাঞ্চকর ‘সেনসেশন’ গল্প ও উপন্যাস লিখতেন ‘এ. এম. বার্নার্ড’ ছদ্মনামে। মার্কিন গৃহযুদ্ধের সময় ১৮৬২ সালে তিনি ইউনিয়ন সেনাবাহিনীর স্বেচ্ছাসেবী নার্স হিসেবে কাজ করেন; এই অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখা হসপিটাল স্কেচেস (১৮৬৩) তাকে প্রথম স্বীকৃতি এনে দেয়। যুদ্ধের সময় তিনি টাইফয়েডে আক্রান্ত হন এবং এরপর আর কখনো পুরোপুরি সুস্থ হননি। ১৮৬৮ সালে প্রকাশিত লিটল উইমেন — নিজের তিন বোনের সঙ্গে কাটানো শৈশবের স্মৃতিভিত্তিক — তাৎক্ষণিক সাফল্য পায় এবং তাকে আর্থিক স্বাধীনতা এনে দেয়। এর সিক্যুয়েল গুড ওয়াইভস (১৮৬৯), লিটল মেন (১৮৭১) ও জো’স বয়েজ (১৮৮৬)। উপন্যাসটি বহুবার চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনে রূপায়িত হয়েছে।
ব্যক্তিগত জীবন ও সমাজসংস্কার
লুইসা মে এলকট কখনো বিয়ে করেননি। তিনি দাসপ্রথার বিলোপের সমর্থক ও নারীবাদী ছিলেন; টেম্পারেন্স ও নারী ভোটাধিকার আন্দোলনে আজীবন সক্রিয় ছিলেন। কনকর্ডে ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত প্রথম নারী ছিলেন তিনি। জীবনের শেষ আট বছর তিনি মৃত বোনের কন্যাকে লালনপালন করেন।
মৃত্যু ও উত্তরাধিকার
১৮৮৮ সালের ৬ মার্চ বস্টনে স্ট্রোকে লুইসা মে এলকটের মৃত্যু হয় — পিতার মৃত্যুর মাত্র দুই দিন পর; তাকে কনকর্ডের স্লিপি হলো সেমেটারিতে সমাহিত করা হয়। তার জীবন নিয়ে অসংখ্য জীবনী, উপন্যাস ও একটি প্রামাণ্যচিত্র নির্মিত হয়েছে। থিওডোর রুজভেল্ট থেকে উরসুলা কে. লে গুইন পর্যন্ত বহু লেখক ও জননেতা তার দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন বলে জানা যায়।