লতিফুল ইসলাম শিবলী
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
এক নজরে
| পূর্ণ নাম | লতিফুল ইসলাম শিবলী (Latiful Islam Shibli) |
| জন্ম | ১৪ এপ্রিল ১৯৭১ (নিজের ওয়েবসাইটের কাব্যিক বর্ণনা থেকে ব্যাখ্যামূলক তারিখ) |
| জন্মস্থান | রংপুর — বাহাদুরাবাদ ঘাট, ফুলছড়ি এলাকা |
| জাতীয়তা | বাংলাদেশি |
| পেশা | গীতিকার, কবি, ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, অভিনেতা |
| শিক্ষা | এমএ; অভিনয়ে এক বছরের ডিপ্লোমা |
| উল্লেখযোগ্য রচনা | গান: জেল থেকে বলছি, হাসতে দেখো গাইতে দেখো, কেউ সুখি নয়, তুমি আমার প্রথম সকাল; উপন্যাস: দারবিশ, দখল, আসমান; গবেষণাগ্রন্থ: বাংলাদেশে ব্যান্ড সংগীত আন্দোলন |
পরিচিতি
লতিফুল ইসলাম শিবলী বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীত-জগতের কিংবদন্তি গীতিকার। নব্বইয়ের দশকে আইয়ুব বাচ্চু ও এলআরবি, জেমস ও নগরবাউল, মাইলস, সোলসসহ দেশের শীর্ষ ব্যান্ডগুলোর জন্য তিনি শত শত গান লিখেছেন — যার অনেকগুলোই বাংলা ব্যান্ড সংগীতের ইতিহাসে কালজয়ী হয়ে আছে। গীতিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠার পর তিনি কবি, নাট্যকার ও বেস্টসেলার ঔপন্যাসিক হিসেবেও পরিচিতি পান। বর্তমানে তিনি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালকের দায়িত্বে আছেন।
জন্ম ও শৈশব
নিজের ওয়েবসাইটের জীবনীতে শিবলী তাঁর জন্মকে কাব্যিকভাবে বর্ণনা করেছেন: ১৯৭১ সালে, মুক্তিযুদ্ধের উত্তাল সময়ে, পয়লা বৈশাখের কাকডাকা ভোরে তাঁর জন্ম — রংপুরের ফুলছড়ির বাহাদুরাবাদ ঘাট এলাকায়, মুক্তিযোদ্ধা বাবার কোলে। এই বর্ণনা থেকে জন্ম তারিখটি ব্যাখ্যামূলকভাবে ১৪ এপ্রিল ১৯৭১ ধরা হয়েছে; সুনির্দিষ্ট তারিখের স্বতন্ত্র যাচাই পাওয়া যায়নি। রংপুরে জন্ম নিলেও তাঁর শৈশব-কৈশোর কেটেছে নাটোরে; পরে ঢাকা ও লন্ডন হয় তাঁর যৌবনের শহর।
কর্মজীবন
অভিনয়ের ওপর এক বছরের ডিপ্লোমা শেষ করে নব্বইয়ের দশকের গোড়ায় তিনি গ্রুপ থিয়েটার নাট্যচক্রের সঙ্গে মঞ্চনাটকে যুক্ত হন। সেখান থেকে ধীরে ধীরে তিনি গান, নাটক, কবিতা ও চলচ্চিত্র — শিল্পের নানা মাধ্যমে নিজেকে বিকশিত করেন। একসময় সেঞ্চুরি ফেব্রিকসের কমপ্লিট ম্যান টেলিভিশন বিজ্ঞাপনে মডেল হিসেবেও তিনি ফ্যাশন-আইকন ছিলেন।
সাহিত্যজীবন
গীতিকার: ব্যান্ড সংগীতের মাধ্যমে বাংলা গানের ধারায় পরিবর্তন আনা তরুণদের অন্যতম ছিলেন শিবলী। তাঁর লেখা প্রায় তিন-চারশো জনপ্রিয় গানের মধ্যে উল্লেখযোগ্য — জেমসের জেল থেকে বলছি, নাটোর স্টেশন, প্রিয় আকাশি, মান্নান মিয়ার তিতাস মলম; আইয়ুব বাচ্চুর কষ্ট পেতে ভালবাসি, কেউ সুখি নয়, হাসতে দেখো গাইতে দেখো; তপন চৌধুরী ও শাকিলা জাফরের তুমি আমার প্রথম সকাল; মাইলসের পলাশীর প্রান্তরে; সোলসের হাজার বর্ষারাত। নিজের কথা, সুর ও কণ্ঠে তাঁর প্রথম অ্যালবাম নিয়ম ভাঙার নিয়ম প্রকাশিত হয় ১৯৯৮ সালে।
নাট্যকার ও অভিনেতা: বিটিভিতে প্রচারিত তোমার চোখে দেখি (১৯৯৫) তাঁর প্রথম সাড়া জাগানো নাটক। পরে লেখেন রাজকুমারী, হাইওয়ে টু হেভেন, দ্য গুড সিটিজেন, নুরু মিয়া দ্য পেইন্টারসহ আরও অনেক নাটক; নিজের লেখা রাজকুমারীতে (১৯৯৭) মির্জা গালিব চরিত্রে অভিনয়ও করেন।
কবি ও গবেষক: তাঁর তিনটি কাব্যগ্রন্থ — ইচ্ছে হলে ছুঁতে পারি তোমার অভিমান (১৯৯৫), তুমি আমার কষ্টগুলো সবুজ করে দাও না (২০১০) এবং মাথার উপরে যে শূন্যতা তার নাম আকাশ, বুকের ভেতরে যে শূন্যতা তার নাম দীর্ঘশ্বাস (২০১৪)। বাংলা একাডেমি থেকে ১৯৯৭ সালে প্রকাশিত বাংলাদেশে ব্যান্ড সংগীত আন্দোলন ব্যান্ড সংগীতের ওপর লেখা দেশের প্রথম গবেষণাধর্মী গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত।
ঔপন্যাসিক: ২০১৭ সালে দারবিশ দিয়ে উপন্যাস-জীবন শুরু; এরপর দখল (২০১৮), আসমান (২০১৯), রাখাল (২০২০) ও ফ্রন্টলাইন (২০২১) — প্রতিটিই বেস্টসেলার। দখল-এর ইংরেজি অনুবাদ দ্য সিজ লন্ডনের অস্টিন ম্যাকোলে প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হয়।
চলচ্চিত্র: তাঁর কাহিনি, সংলাপ, চিত্রনাট্য ও গানে নির্মিত প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র পদ্ম পাতার জল (২০১৫); তাঁর ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী ছবিটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের দুটি ও বাচসাস পুরস্কারের পাঁচটি বিভাগে পুরস্কার পায়।
ব্যক্তিগত জীবন
শিবলী দুই সন্তানের বাবা — ওমর ও ওসমান। বাকস্বাধীনতা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের পক্ষে তিনি সক্রিয়ভাবে কথা বলে আসছেন।
বর্তমান অবস্থা
লতিফুল ইসলাম শিবলী জীবিত আছেন এবং লেখালেখি চালিয়ে যাচ্ছেন। গীতিকার থেকে ঔপন্যাসিক — তিন দশকের বেশি সময় ধরে তিনি বাংলাদেশের জনপ্রিয় সংস্কৃতির কেন্দ্রীয় ব্যক্তিত্বদের একজন।