মূল কন্টেন্টে যান
রাবেয়া খাতুন

রাবেয়া খাতুন

সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

এক নজরে

বিষয় তথ্য
পূর্ণ নাম রাবেয়া খাতুন
জন্ম ২৭ ডিসেম্বর ১৯৩৫
জন্মস্থান বিক্রমপুর, ঢাকা (মামার বাড়ি); পৈতৃক বাড়ি মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরের ষোলঘর গ্রাম
মৃত্যু ৩ জানুয়ারি ২০২১, গুলশান, ঢাকা
জাতীয়তা বাংলাদেশি
পেশা ঔপন্যাসিক, গল্পকার, সাংবাদিক, শিক্ষক
শিক্ষা আরমানিটোলা বিদ্যালয়, ঢাকা (মাধ্যমিক, ১৯৪৮)
উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ মধুমতী (১৯৬৩), সাহেব বাজার (১৯৬৫), ফেরারী সূর্য, মেঘের পর মেঘ, হিরণ দাহ (১৯৯৫), বাগানের নাম মালনিছড়া, হানিফের ঘোড়া, কখনো মেঘ কখনো বৃষ্টি
পুরস্কার বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৭৩), একুশে পদক (১৯৯৩), স্বাধীনতা পুরস্কার (২০১৭)

পরিচিতি

রাবেয়া খাতুন (২৭ ডিসেম্বর ১৯৩৫ – ৩ জানুয়ারি ২০২১) ছিলেন বাংলাদেশি ঔপন্যাসিক, গল্পকার ও সাংবাদিক। পঞ্চাশের দশকে, যখন এ অঞ্চলের মুসলিম নারীদের জীবন ছিল নানা বিধি-নিষেধের বেড়াজালে বাঁধা, সেই সময় তিনি লেখক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে তিনি উপন্যাস, গল্প ও সাংবাদিকতায় সক্রিয় ছিলেন; তাঁর বহু উপন্যাস মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক। বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৭৩), একুশে পদক (১৯৯৩) ও স্বাধীনতা পুরস্কার (২০১৭) — দেশের তিনটি সর্বোচ্চ সাহিত্য-সম্মাননাই তিনি অর্জন করেন।

জন্ম ও শিক্ষা

১৯৩৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর ঢাকার বিক্রমপুরে তাঁর মামার বাড়িতে তিনি জন্মগ্রহণ করেন; পৈতৃক বাড়ি মুন্সীগঞ্জ জেলার শ্রীনগর উপজেলার ষোলঘর গ্রামে। পিতা মৌলভী মোহাম্মদ মুল্লুক চাঁদ, মাতা হামিদা খাতুন। আরমানিটোলা বিদ্যালয় থেকে ১৯৪৮ সালে তিনি মাধ্যমিক পাস করেন; রক্ষণশীল মুসলিম পরিবারের মেয়ে হওয়ায় বিদ্যালয়ের গণ্ডির পর তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা বন্ধ হয়ে যায়।

ব্যক্তিগত জীবন

১৯৫২ সালের ২৩ জুলাই সম্পাদক ও চলচ্চিত্র পরিচালক এটিএম ফজলুল হকের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তাঁদের চার সন্তান: ফরিদুর রেজা সাগর (গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব), কেকা ফেরদৌসী, ফরহাদুর রেজা প্রবাল ও ফারহানা কাকলী।

কর্মজীবন

লেখালেখির পাশাপাশি রাবেয়া খাতুন শিক্ষকতা ও সাংবাদিকতা করেছেন। তিনি ছিলেন বাংলা একাডেমীর কাউন্সিল সদস্য, জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের গঠনতন্ত্র পরিচালনা পরিষদের সদস্য, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের জুরিবোর্ডের বিচারক, শিশু একাডেমীর কাউন্সিল সদস্য এবং বাংলাদেশ টেলিভিশনের ‘নতুন কুঁড়ি’সহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের বিচারক। বাংলাদেশ লেখক শিবির, বাংলাদেশ কথা শিল্পী সংসদ, বাংলাদেশ লেখিকা সংঘসহ বিভিন্ন সাহিত্য সংগঠনের সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন।

সাহিত্যজীবন

তাঁর রচিত প্রথম উপন্যাস নিরাশ্রয়া অপ্রকাশিত থেকে যায়। প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস মধুমতী (১৯৬৩) — মধুমতী অঞ্চলের তাঁতী সম্প্রদায়ের মানুষের জীবনের দুঃখগাথা নিয়ে রচিত; পরে এই উপন্যাস অবলম্বনে চলচ্চিত্রও নির্মিত হয়। এরপর একে একে প্রকাশিত হয় সাহেব বাজার (১৯৬৫), অনন্ত অন্বেষা (১৯৬৯), রাজারবাগ শালিমারবাগ (১৯৬৯), বায়ান্ন গলির এক গলি (১৯৮৪), মোহর আলী (১৯৮৫), হানিফের ঘোড়া, কখনো মেঘ কখনো বৃষ্টিসহ অসংখ্য উপন্যাস। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসের মধ্যে উল্লেখযোগ্য: ফেরারী সূর্য, মেঘের পর মেঘ, নীল নিশীথ, হিরণ দাহ (১৯৯৫) ও বাগানের নাম মালনিছড়া। তাঁর তিনটি উপন্যাস চলচ্চিত্রায়িত হয়েছে — কখনো মেঘ কখনো বৃষ্টি (২০০৩, পরিচালক মৌসুমী), মেঘের পর মেঘ (২০০৪, পরিচালক চাষী নজরুল ইসলাম) এবং মধুমতি (২০১১, পরিচালক শাহজাহান চৌধুরী)।

মৃত্যু ও উত্তরাধিকার

দীর্ঘদিন বার্ধক্যজনিত রোগে ভোগার পর ২০২১ সালের ৩ জানুয়ারি ঢাকার গুলশানে নিজ বাড়িতে তিনি মারা যান; বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর। তাঁর মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী গভীর শোক প্রকাশ করেন। পঞ্চাশের দশকের রক্ষণশীল সমাজ-বাস্তবতা ভেঙে নারী-কথাসাহিত্যিক হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাওয়া এবং মুক্তিযুদ্ধের কথাসাহিত্যে অবদানের জন্য বাংলা সাহিত্যে রাবেয়া খাতুন স্মরণীয় হয়ে আছেন।

বাংলা সাহিত্যের সঙ্গে থাকুন

নতুন বই, কবিতা ও লেখক আপডেট পেতে আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন।