রউফুল আলম
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
এক নজরে
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| পূর্ণ নাম | রউফুল আলম |
| ইংরেজি নাম | Rauful Alam |
| জন্মস্থান | কুমিল্লা জেলা (গ্রামের বাড়ি; সুনির্দিষ্ট জন্মতারিখ প্রকাশিত সূত্রে পাওয়া যায়নি) |
| জাতীয়তা | বাংলাদেশি |
| পেশা | রসায়নবিজ্ঞানী, প্রাবন্ধিক |
| শিক্ষা | কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ; চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (রসায়নে অনার্স); স্টকহোম ইউনিভার্সিটি, সুইডেন (মাস্টার্স ও পিএইচডি); ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়া, যুক্তরাষ্ট্র (পোস্টডক) |
| বর্তমান কর্মস্থল | পিটিসি থেরাপিউটিকস, যুক্তরাষ্ট্র (ড্রাগ ডিসকভারি গবেষক) |
| উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ | একটা দেশ যেভাবে দাঁড়ায়; বাংলাদেশের স্বপ্নচোখ (জ্ঞানকোষ প্রকাশনী, ২০২২) |
পরিচিতি
রউফুল আলম একজন বাংলাদেশি রসায়নবিজ্ঞানী ও লেখক। জৈব রসায়নের গবেষণায় নিয়োজিত এই বিজ্ঞানী বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন এবং মার্কিন ফার্মাসিউটিক্যাল ও বায়োটেক প্রতিষ্ঠান পিটিসি থেরাপিউটিকসে নতুন ওষুধ উদ্ভাবনের কাজ করেন। গবেষণাগারের বাইরে তার আরেক পরিচয় — বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা, বিজ্ঞানশিক্ষা ও গবেষণা-সংস্কৃতি নিয়ে লেখক হিসেবে। দৈনিক প্রথম আলোসহ বিভিন্ন মাধ্যমে তার অণুপ্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে তিনি ইউরোপ-আমেরিকার শিক্ষাব্যবস্থা ও গবেষণা-সংস্কৃতির রীতিনীতির পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা ও সম্ভাবনার কথা বলেন।
জন্ম ও শিক্ষা
রউফুল আলমের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লায়। তার বাবা চাঁদপুরে চাকরি করতেন; বাবা চাকরি ছেড়ে দিলে পরিবারসহ তিনি গ্রামে চলে আসেন। ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত গ্রামের স্কুলেই পড়াশোনা করেন এবং সেখান থেকে এসএসসি পাস করেন। পরে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়নে অনার্স করেন।
২০০৯ সালে মাস্টার্স পড়তে তিনি সুইডেনের স্টকহোম ইউনিভার্সিটিতে যান; সেখানেই পরে পিএইচডি সম্পন্ন করেন। স্টকহোমে তিনি দেখেন উন্নত বিশ্বে কীভাবে গবেষণা হয় — সেই অভিজ্ঞতা তাকে আবার গবেষণার প্রতি আকৃষ্ট করে। পিএইচডির পর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়াতেও গবেষণা করেন (পোস্টডক)।
কর্মজীবন
রউফুল আলম জৈব রসায়নবিদ (অর্গানিক কেমিস্ট) হিসেবে নতুন ওষুধ আবিষ্কারের গবেষণায় কাজ করেন। বর্তমানে তিনি পিটিসি থেরাপিউটিকসের ড্রাগ ডিসকভারি টিমের সদস্য, যেখানে জীববিজ্ঞানী, অণুজীববিজ্ঞানী, ফার্মাকোলজিস্ট ও রসায়নবিদরা একসঙ্গে কাজ করেন। তার কাজ ছোট অণু ভেঙে নতুন অণু তৈরি করা, যৌগের গঠন বিশ্লেষণ করা এবং জীবদেহে সেগুলোর কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা নিয়ে নন-ক্লিনিক্যাল গবেষণা করা — যা নতুন ওষুধ অনুমোদনের দীর্ঘ প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ।
সাহিত্যজীবন
গবেষণার পাশাপাশি রউফুল আলম লেখেন বাংলাদেশের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও তারুণ্য নিয়ে। তার দুটি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে:
একটা দেশ যেভাবে দাঁড়ায় — দৈনিক প্রথম আলো ও বিভিন্ন বিজ্ঞান-কাগজে বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত তার অণুপ্রবন্ধের সংকলন। এতে বিশ্বজুড়ে চলমান জ্ঞান-গবেষণা, উন্নত দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ও গবেষণা-সংস্কৃতির রীতিনীতি এবং তার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের পশ্চাৎপদতা, গবেষণা-সংস্কৃতির দুরবস্থা, নীতিনির্ধারকদের অবহেলা ও শিক্ষক-গবেষক নিয়োগে অনিয়মের মতো বিষয়গুলো তথ্য-উপাত্তসহ তুলে ধরা হয়েছে। তরুণ প্রজন্মের মেধাশক্তিকে কাজে লাগিয়ে একটি উন্নয়নশীল দেশ কীভাবে প্রতিযোগিতাময় পৃথিবীতে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারে — বইটি সেই দিকনির্দেশনা খোঁজে।
বাংলাদেশের স্বপ্নচোখ (জ্ঞানকোষ প্রকাশনী, ২০২২; ১৪১ পৃষ্ঠা) — তারুণ্যের সম্ভাবনা, মানসম্মত শিক্ষা ও বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার রূপরেখা নিয়ে লেখা অণুপ্রবন্ধের বই।
ব্যক্তিগত জীবন
রউফুল আলম যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, অবসরের বেশির ভাগ সময় তিনি ছেলের সঙ্গে কাটান। এর বাইরে তার ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে প্রকাশ্যে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায় না। তার স্বপ্ন ভবিষ্যতে বাংলাদেশের বিজ্ঞানশিক্ষা — বিশেষ করে গ্রামের বিজ্ঞানশিক্ষা — নিয়ে কাজ করা।