মুহাম্মদ এনামুল হক
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
এক নজরে
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| পূর্ণ নাম | মুহাম্মদ এনামুল হক (সূত্রে মুহাম্মাদ ইনাম-উল হক রূপেও পরিচিত) |
| ইংরেজি রূপ | Muhammad Enam-ul Haque |
| জন্ম | ৩০ জানুয়ারি ১৯৩৯ |
| জন্মস্থান | গুপ্তখালী, মুরাদপুর, সীতাকুণ্ড, চট্টগ্রাম |
| মৃত্যু | ৬ জুন ২০১৫, ঢাকা |
| জাতীয়তা | বাংলাদেশি |
| পেশা | ইতিহাসবিদ, শিক্ষাবিদ, লেখক, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য |
| শিক্ষা | পিএইচডি, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (১৯৭৩) |
| উল্লেখযোগ্য রচনা | বাংলার ইতিহাস: ভারতে ব্রিটিশ শাসনের সূচনা; ভারতে মুসলিম শাসনের ইতিহাস; সম্রাট জহিরুদ্দিন মুহম্মদ বাবর; সম্রাট মুহিউদ্দীন মুহাম্মদ আওরঙ্গজেব-আলমগীর বাহাদুর; মধ্যপ্রাচ্য অতীত ও বর্তমান (অনুবাদ) |
পরিচিতি
মুহাম্মদ এনামুল হক (৩০ জানুয়ারি ১৯৩৯ – ৬ জুন ২০১৫) ছিলেন বাংলাদেশের একজন শিক্ষাবিদ, ইতিহাসবিদ ও লেখক। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে দীর্ঘ কর্মজীবনের পাশাপাশি তিনি ১৯৯৫ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ভারতে মুসলিম শাসন, বাংলার ইতিহাস ও মুঘল সম্রাটদের নিয়ে তার রচিত ইতিহাসগ্রন্থগুলো বাংলা ভাষায় ইতিহাসচর্চার গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। বাংলা বইয়ের বাজারে ও বিশ্বকোষে তার নাম মুহাম্মাদ ইনাম-উল হক বানানেও পাওয়া যায়।
জন্ম ও শিক্ষা
১৯৩৯ সালের ৩০ জানুয়ারি চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ড উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নের গুপ্তখালী গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে তার জন্ম। বাবা মাওলানা নুরুল আবসার ছিলেন ফেনী সরকারি কলেজের আরবি বিভাগের অধ্যাপক; তিনি মুনতাখাব আল-আরাবী বইটি ইংরেজিতে অনুবাদ করেন। এনামুল হক ১৯৭৩ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। বাংলা, ইংরেজি, আরবি, ফার্সি ও উর্দু — পাঁচটি ভাষায় তিনি পারদর্শী ছিলেন।
কর্মজীবন
অধ্যাপনার শুরু রংপুর কারমাইকেল কলেজে; পরে তিনি চট্টগ্রাম কলেজ ও চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজে শিক্ষকতা করেন। ১৯৮০ সালে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন এবং বিভাগের প্রভোস্ট, প্রক্টর ও চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন; দীর্ঘদিন বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোরের কমান্ডারও ছিলেন। ১৯৯৫ সালের ৯ মে তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিযুক্ত হন। তার মেয়াদে বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল, তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল এবং ফলিত রসায়ন ও রাসায়নিক প্রকৌশল — এই তিনটি প্রকৌশল বিভাগ চালু হয়; ১৯৯৬ সালে রশিদ আহমেদের নকশা করা মুক্ত বাংলা ভাস্কর্যের উদ্বোধন করেন তিনি। ক্যাম্পাসে বিক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৯৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর তিনি উপাচার্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন। ১৯৯৬-৯৭ সালে তিনি জাতীয় শিক্ষা কমিশনের সদস্য ছিলেন এবং ২০০৭ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পদে ফিরে আসেন। তিনি ছিলেন বাংলাদেশ ইতিহাস পরিষদ, এশিয়াটিক সোসাইটি, বাংলা একাডেমি ও কলকাতার পশ্চিমবঙ্গ ইতিহাস পরিষদের আজীবন সদস্য।
সাহিত্যজীবন ও রচনাবলি
শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জার্নালে আটটি গবেষণামূলক বই ও বহু প্রবন্ধ প্রকাশ করেন। তার বাংলা গ্রন্থগুলোর মধ্যে আছে বাংলার ইতিহাস: ভারতে ব্রিটিশ শাসনের সূচনা, ভারতে মুসলিম শাসনের ইতিহাস, সম্রাট জহিরুদ্দিন মুহম্মদ বাবর, সম্রাট মুহিউদ্দীন মুহাম্মদ আওরঙ্গজেব-আলমগীর বাহাদুর, মুসলমান এবং ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন, আধুনিক তুরস্ক এবং মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাস এবং ইয়াহিয়া আরমাজানীর বইয়ের অনুবাদ মধ্যপ্রাচ্য অতীত ও বর্তমান। ইংরেজিতে তার রচিত বইয়ের মধ্যে আছে ইসলামে সমাজ ও সংস্কৃতি (সংকলন) ও ভারত-পাকিস্তানে মুসলিম শাসনের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস। আমেরিকান বায়োগ্রাফিক্যাল ইনস্টিটিউটের ইন্টারন্যাশনাল ডিরেক্টরি অব ডিস্টিংগুইশড লিডারশিপ-এর ৭ম, ৮ম ও ৯ম সংস্করণে তার জীবনী স্থান পায়।
ব্যক্তিগত জীবন
তার সন্তান তিনজন — মুসা, তারেক ও মোসান্না। ভাই খায়ের-উল বাশার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক।
মৃত্যু ও উত্তরাধিকার
২০১৫ সালের ৬ জুন রাতে ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে ৭৬ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে রুহের মাগফেরাত কামনায় মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। ইতিহাসের শিক্ষক ও গবেষক হিসেবে তার রচিত গ্রন্থগুলো বাংলাদেশের কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছে ইতিহাসপাঠের সহায়ক উৎস হিসেবে রয়ে গেছে।