মূল কন্টেন্টে যান
মুহাম্মদ আসাদুল্লাহ আল গালিব

মুহাম্মদ আসাদুল্লাহ আল গালিব

সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

এক নজরে

বিষয় তথ্য
পূর্ণ নাম ড. মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব
জন্ম ১৫ জানুয়ারি ১৯৪৮, বুলারাটি, সাতক্ষীরা (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান)
জাতীয়তা বাংলাদেশি
পেশা ইসলামি চিন্তাবিদ, গবেষক, লেখক; রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক
শিক্ষা কাকডাঙ্গা সিনিয়র মাদ্রাসা (দাখিল, আলিম, ফাজিল); আরামনগর আলিয়া মাদ্রাসা, জামালপুর (কামিল, ১৯৬৯); ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় — এমএ, আরবি (১৯৭৬, প্রথম শ্রেণিতে প্রথম); রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় — পিএইচডি (১৯৯২)
উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ তাফসিরুল কুরআন, তারজামাতুল কুরআন, সিরাতুর রাসুল (সা.), সালাতুর রাসুল (সা.), নবীদের কাহিনী (সিরিজ), আহলেহাদীছ আন্দোলন: উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ (পিএইচডি অভিসন্দর্ভ)
প্রতিষ্ঠাতা আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ (১৯৯৪); মাসিক আত-তাহরীক গবেষণা পত্রিকা
সম্মাননা শায়খুল হাদীছ সংবর্ধনা (এটিএন বাংলা, হাদ্দাসানা সিজন-২, মার্চ ২০২৫)

পরিচিতি

ড. মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব (জন্ম ১৫ জানুয়ারি ১৯৪৮) বাংলাদেশের একজন সুপরিচিত ইসলামি চিন্তাবিদ, গবেষক ও লেখক এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক। তিনি আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও আমীর হিসেবে পরিচিত। কুরআন-হাদিসভিত্তিক সংস্কারবাদী ধারার এই আলেম তাফসির, সিরাত, সালাত ও ইসলামি আন্দোলনের ইতিহাস নিয়ে বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন এবং মাসিক আত-তাহরীক গবেষণা পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা।

জন্ম ও শিক্ষা

১৯৪৮ সালের ১৫ জানুয়ারি (২ মাঘ ১৩৫৪ বঙ্গাব্দ) সাতক্ষীরা সদর থানার বুলারাটি গ্রামের মৌলভীবাড়ির এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে তাঁর জন্ম। পিতা মাওলানা আহমদ আলী (১৮৮৩–১৯৭৬) ছিলেন প্রখ্যাত ধর্মীয় পণ্ডিত ও আহলে হাদিস ধারার নেতা; মাতা বাসিরুন্নেসা। তিনি সাতক্ষীরার কাকডাঙ্গা সিনিয়র মাদ্রাসা থেকে দাখিল, আলিম ও ফাজিল এবং জামালপুরের আরামনগর আলিয়া মাদ্রাসা থেকে ১৯৬৯ সালে কামিল (মুহাদ্দিস) পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন — তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান মাদ্রাসা বোর্ডে আলিমে ১৬তম ও কামিলে ৫ম স্থান অধিকার করেন। কলারোয়া সরকারি কলেজ থেকে আইএ ও খুলনার সরকারি মজিদ মেমোরিয়াল সিটি কলেজ থেকে বিএ পাস করে ১৯৭৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগ থেকে এমএ-তে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হন। ১৯৯২ সালের ২০ আগস্ট রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে “আহল-ই-হাদীছ আন্দোলন: উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ — দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের বিশেষ প্রেক্ষিতে” বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৮৪ সালে পিএইচডি গবেষণার জন্য তিনি কমনওয়েলথ স্কলারশিপ পেলেও শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ড যাননি।

কর্মজীবন

শিক্ষকতা জীবনের শুরুতে তিনি ঢাকার উত্তর যাত্রাবাড়ীর জামিয়া মুহাম্মদিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেন। ১৯৮০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটে খণ্ডকালীন প্রভাষক এবং একই বছরের ১০ ডিসেম্বর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি ও ইসলামি শিক্ষা বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। ১৯৯৫ সালে বিভাগ পৃথক হলে তিনি আরবি বিভাগে থেকে যান এবং ২০১৬ সালে অধ্যাপক হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন। পেশাগত কাজে ও আন্তর্জাতিক সেমিনারে তিনি ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, সৌদি আরব, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর করেছেন।

১৯৯৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর তিনি আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেন এবং এর আমীরের দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া তিনি মাসিক আত-তাহরীক ইসলামি গবেষণা পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা এবং বাংলাদেশে বিভিন্ন ধর্মীয়, শিক্ষা ও সমাজকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেছেন। ২০০৫ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি জঙ্গিবাদের অভিযোগে সরকার তাঁকে গ্রেপ্তার করে; তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন। ২০০৮ সালের ২৮ আগস্ট তিনি কারামুক্ত হন এবং পরবর্তীতে সব মামলা থেকে খালাস পান।

সাহিত্যজীবন/রচনাবলি

আল-গালিবের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে আছে তাফসিরুল কুরআন, তারজামাতুল কুরআন, সিরাতুর রাসুল (সা.), সালাতুর রাসুল (সা.) (বাংলা ও ইংরেজি), নবীদের কাহিনী (সিরিজ-১, ২) এবং পিএইচডি অভিসন্দর্ভ আহলেহাদীছ আন্দোলন: উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ। তাঁর রচনায় কুরআন-সুন্নাহর অনুসরণ, তাওহিদের প্রচার ও ধর্মীয় সংস্কারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

ব্যক্তিগত জীবন

তাঁর স্ত্রীর নাম তাহিরুন্নেসা। তাঁদের চার সন্তান: ড. তামান্না তাসনিম, ড. আহমদ আব্দুল্লাহ সাকিব, ড. আহমদ আব্দুল্লাহ নাজীব ও আহমদ আব্দুল্লাহ শাকির।

পুরস্কার ও সম্মাননা

২০২৫ সালের মার্চে এটিএন বাংলায় প্রচারিত হাদিসভিত্তিক রিয়েলিটি শো হাদ্দাসানা (সিজন-২)-এর পক্ষ থেকে দীর্ঘকাল হাদিসের খেদমতে নিয়োজিত থাকার স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে “শায়খুল হাদীছ” সংবর্ধনা দেওয়া হয়। ২০০০ সালে তিনি সৌদি সরকারের রাজকীয় মেহমান হিসেবে হজ পালন করেন।

বর্তমান অবস্থা ও উত্তরাধিকার

ড. মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব বর্তমানে জীবিত আছেন এবং আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর হিসেবে ধর্মীয় বক্তৃতা, সেমিনার ও লেখালেখির মাধ্যমে সক্রিয় আছেন। বাংলাদেশের আহলে হাদিস/সালাফি সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব হিসেবে তিনি পরিচিত। নিরপেক্ষতা নোট: তাঁর বিরুদ্ধে আনা অতীত অভিযোগ ও সেগুলো থেকে খালাসের বিষয়টি সংবাদ-সূত্রে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে নিরপেক্ষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলা সাহিত্যের সঙ্গে থাকুন

নতুন বই, কবিতা ও লেখক আপডেট পেতে আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন।