মুফতি আব্দুল মালেক
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
এক নজরে
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| পূর্ণ নাম | মুহাম্মাদ আবদুল মালেক |
| পরিচিতি | মুফতি আব্দুল মালেক |
| ইংরেজি রূপ | Mufti Abdul Malek (Muhammad Abdul Malek) |
| জন্ম | ২৯ আগস্ট ১৯৬৯ |
| জন্মস্থান | সারাশপুর, লাকসাম, কুমিল্লা |
| জাতীয়তা | বাংলাদেশি |
| পেশা | ইসলামি স্কলার, হাদিস বিশেষজ্ঞ, ফকিহ, লেখক ও গবেষক |
| বর্তমান দায়িত্ব | খতিব, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ (অক্টোবর ২০২৪ থেকে) |
| উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ | আল মাদখাল ইলা উলুমিল হাদিসিশ শরিফ (১৯৯৮), তাসাওউফ তত্ত্ব ও বিশ্লেষণ, ঈমান সবার আগে, প্রচলিত ভুল |
পরিচিতি
মুহাম্মাদ আবদুল মালেক, পরিচিত “মুফতি আব্দুল মালেক” নামে, বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান হাদিস বিশেষজ্ঞ ও হানাফি ফকিহ। ২০২৪ সালের অক্টোবর মাস থেকে তিনি বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ফিকহ, উসুলে ফিকহ ও হাদিসশাস্ত্রে গভীর গবেষণামূলক কর্মকাণ্ডের জন্য তিনি আলেমসমাজে নেতৃস্থানীয় মর্যাদা লাভ করেছেন। তিনি আব্দুর রশীদ নোমানী, তাকি উসমানি ও আব্দুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহর প্রসিদ্ধ ছাত্র হিসেবে পরিচিত। ১৯৯৬ সালে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত উচ্চতর ইসলামি শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান মারকাযুদ দাওয়াহ আল ইসলামিয়ার তিনি সহপ্রতিষ্ঠাতা এবং বর্তমানে এর শিক্ষাসচিব ও উচ্চতর হাদিস বিভাগের প্রধান। তার আরবি গ্রন্থ আল মাদখাল ইলা উলুমিল হাদিসিশ শরিফ (১৯৯৮) বিভিন্ন দেশে পাঠ্যবই হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
জন্ম ও শিক্ষা
১৯৬৯ সালের ২৯ আগস্ট কুমিল্লা জেলার লাকসাম উপজেলার সারাশপুরে তার জন্ম। পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়; তার বাবা শামসুল হক ছিলেন একজন আলেম। পরিবারে কুরআন ও প্রাথমিক শিক্ষা অর্জনের পর তিনি চাঁদপুরের খিড়িহারা কওমি মাদ্রাসায় মিশকাত জামাত পর্যন্ত অধ্যয়ন করেন। ১৯৮৮ সালে তিনি পাকিস্তানের জামিয়া উলুমুল ইসলামিয়া থেকে দাওরায়ে হাদিস সমাপ্ত করেন। এরপর ওই মাদ্রাসার উচ্চতর হাদিস বিভাগে ভর্তি হয়ে তিন বছর আব্দুর রশীদ নোমানীর তত্ত্বাবধানে হাদিস অধ্যয়ন করেন। ১৯৯২ সালে দারুল উলুম করাচিতে ভর্তি হয়ে দুই বছর তাকি উসমানির তত্ত্বাবধানে উচ্চতর ফিকহ ও ফতোয়া অধ্যয়ন করেন। ১৯৯৫ সালে সৌদি আরব গিয়ে আব্দুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহর তত্ত্বাবধানে প্রায় আড়াই বছর (১৯৯৭ পর্যন্ত) হাদিসশাস্ত্রে গবেষণা-সহযোগী হিসেবে কাজ করেন।
কর্মজীবন
১৯৯৬ সালে তিনি সহ আরও কয়েকজন আলেম ঢাকায় উচ্চতর ইসলামি শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান মারকাযুদ দাওয়াহ আল ইসলামিয়া প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে তিনি এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষাসচিব ও উচ্চতর হাদিস গবেষণা বিভাগের প্রধানের দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া তিনি জামিয়াতুল উলুম আল ইসলামিয়া ঢাকার শায়খুল হাদিস হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। কওমি মাদ্রাসার সরকারি স্বীকৃতি প্রদানের লক্ষ্যে ২০১২ সালে বাংলাদেশ কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা কমিশন গঠিত হলে তিনি এর সদস্য মনোনীত হন। ২০১৯ সালে তিনি ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের জাতীয় চাঁদ দেখা উপকমিটির প্রধান মনোনীত হন। ২০২৪ সালের ১৮ অক্টোবর সরকার তাকে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব নিয়োগ করে। এছাড়া তিনি ভারতের ইসলামি ফিকহ একাডেমির একজন সদস্য।
সাহিত্যজীবন ও রচনাবলি
২০০৫ সালে মুফতি আব্দুল মালেকের তত্ত্বাবধানে মারকাযুদ দাওয়াহ আল ইসলামিয়ার মুখপত্র হিসেবে মাসিক আল কাউসার প্রকাশিত হয়; এতে ইসলাম ও সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে তার লেখা নিয়মিত প্রকাশিত হয়। আরবি ও বাংলায় রচিত তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে আল মাদখাল ইলা উলুমিল হাদিসিশ শরিফ (১৯৯৮), উম্মাহর ঐক্য পথ ও পন্থা, আল ওয়াজিজ ফি শাইয়ি মিন মুসত্বলাহিল হাদিসিশ শরিফ, মুহাদারাত ফি উলুমুল হাদিস, তাসাওউফ তত্ত্ব ও বিশ্লেষণ, তালিবানে ইলম পথ ও পাথেয়, ঈমান সবার আগে, প্রচলিত ভুল এবং তাবলীগ জামাত: বর্তমান পরিস্থিতি ও উত্তরণের উপায়।
বর্তমান অবস্থা ও উত্তরাধিকার
হাদিসশাস্ত্রসহ বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণামূলক কর্মকাণ্ডের জন্য মুফতি আব্দুল মালেক বাংলাদেশসহ পুরো মুসলিম বিশ্বে সুপরিচিত। বায়তুল মোকাররমের খতিব হিসেবে নিয়োগের পর জাতীয় ধর্মীয় জীবনে তার ভূমিকা আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়েছে। তার তত্ত্বাবধানে পরিচালিত মারকাযুদ দাওয়াহ ও মাসিক আল কাউসার বাংলাদেশে উচ্চতর হাদিস ও ফিকহ গবেষণার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে।