মূল কন্টেন্টে যান
মােশাররফ হােসেন খান

মােশাররফ হােসেন খান

সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

এক নজরে

বিষয় তথ্য
পূর্ণ নাম মোশাররফ হোসেন খান
জন্ম ২৪ আগস্ট ১৯৫৭
জন্মস্থান বাঁকড়া গ্রাম, ঝিকরগাছা উপজেলা, যশোর (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান)
জাতীয়তা বাংলাদেশি
পেশা কবি, ঔপন্যাসিক, গল্পকার, শিশুসাহিত্যিক, গবেষক
উল্লেখযোগ্য কর্ম পাথরে পারদ জ্বলে, সাহসী মানুষের গল্প, অবাক সেনাপতি, ছোটদের বিশ্বনবী, সাগর ভাঙার দিন
পুরস্কার গোলাম মোহাম্মদ সম্মাননা (২০১৯), সিএনসি ফররুখ পুরস্কার (২০১৬), পরিচয় সাহিত্য পদক

পরিচিতি

মোশাররফ হোসেন খান (২৪ আগস্ট ১৯৫৭) আশির দশক থেকে বাংলা সাহিত্যে নিরলসভাবে লিখে যাওয়া একজন বহুমাত্রিক সাহিত্যিক। কবিতা, ছড়া, গল্প, উপন্যাস, শিশু-কিশোর সাহিত্য, জীবনী ও গবেষণাধর্মী রচনা — সাহিত্যের প্রায় প্রতিটি শাখায় তার পদচারণা তাকে সমসাময়িক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কৃতিমান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। কবি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেও শিশু-কিশোরদের “সাহসী স্বপ্নবোনার” লেখক হিসেবেই তিনি সবচেয়ে বেশি পরিচিতি পেয়েছেন। তার কবিতা ও গল্প ইংরেজি, আরবি, উর্দু, ফারসি, হিন্দি, গুজরাটি, অহমিয়া ও রুশসহ বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

জন্ম ও শৈশব

১৯৫৭ সালের ২৪ আগস্ট যশোর জেলার ঝিকরগাছা উপজেলার বাঁকড়া গ্রামে মোশাররফ হোসেন খানের জন্ম। বাবা ডা. এম এ ওয়াজেদ খান এবং মা বেগম কুলসুম ওয়াজেদ — পিতামাতার সৎ আদর্শ, নৈতিকতা ও শিক্ষার দৃঢ় ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে তিনি বেড়ে ওঠেন, যা পরবর্তীতে তার সাহিত্যচর্চার অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।

সাহিত্যজীবন: কবিতা

আশির দশকে কবিতা দিয়েই তার সাহিত্যযাত্রা শুরু। ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ হৃদয় দিয়ে আগুন কবিতার জগতে তার সাহসী আত্মপ্রকাশের সুযোগ এনে দেয়। পরবর্তী কাব্যগ্রন্থ নেচে ওঠা সমুদ্র, আরাধ্য অরণ্যে ও বিরল বাতাসের টানে তাকে কবি হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত করে। তবে ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত পাথরে পারদ জ্বলে কাব্যগ্রন্থই তাকে সমসাময়িক বাংলা কাব্যভুবনে প্রবল আলোচনায় নিয়ে আসে। এরপর ক্রীতদাসের চোখ, নতুনের কবিতা, বৃষ্টি ছুঁয়েছে মনের মৃত্তিকা, দাহন বেলায়, সবুজ পৃথিবীর কম্পন, পিতার পাঠশালা, স্বপ্নের সানুদেশ এবং কবিতাসমগ্র ও কবিতাসমগ্র-২-এর মতো গ্রন্থে তিনি কবি হিসেবে গভীরতা ও প্রজ্ঞার পরিচয় দিয়েছেন। মানবিক অনুভূতি, সামাজিক চেতনা ও জীবনবোধ তার কবিতাকে সমৃদ্ধ করেছে।

সাহিত্যজীবন: গদ্য ও শিশু-কিশোর সাহিত্য

গদ্য সাহিত্যেও তিনি সমান দক্ষ। সাহসী মানুষের গল্প তাকে খ্যাতির নতুন দুয়ারে পৌঁছে দেয় — এই সিরিজের প্রথম থেকে পঞ্চম খণ্ড একসাথে প্রকাশিত সংস্করণও পাঠকপ্রিয়। এছাড়া রহস্যের চাদর, অবাক সেনাপতি, দূর সাগরের ডাক, কিশোর কমান্ডার, ছড়ির তরবারি প্রভৃতি গ্রন্থে তার বর্ণনাশৈলী পাঠককে মুগ্ধ করেছে। শিশু-কিশোর সাহিত্যে তার অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য: কিশোর গল্প জীবন জাগার গল্প, সুবাসিত শীতল হাওয়া, আগুন নদীতে সাঁতার, অবাক করা আলোর পরশ, ছোটদের বিশ্বনবী-সহ নানা জীবনীগ্রন্থে ছোটদের কাছে সহজ ভাষায় মহৎ অনুপ্রেরণার দিশা দেখিয়েছেন তিনি। গল্পগ্রন্থ প্রচ্ছন্ন মানবী, সময় ও সাম্পান, ডুবসাঁতার এবং কিশোর উপন্যাস বিপ্লবের ঘোড়া, সাগর ভাঙার দিন, ঝিমায় যখন ঝিকরগাছা, স্বপ্নের ঠিকানা, বাঁকড়া বিলের বালিহাঁস তাকে কথাসাহিত্যে বিশেষ মর্যাদা এনে দিয়েছে।

গবেষণা

সৃজনশীল রচনার পাশাপাশি তিনি গবেষণাধর্মী কাজও করেছেন। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের কারাবরণকারী নেতা, সাংবাদিক ও বঙ্গীয় আইন পরিষদের সদস্য মাওলানা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদীর জীবন ও কর্মের ওপর তিনি গ্রন্থ রচনা করেছেন — যা তার বহুমাত্রিক সৃজনশীলতার পরিচয় বহন করে।

ব্যক্তিগত জীবন

তার স্ত্রী বেবী মোশাররফ নিজেও কবি। তাদের এক পুত্র নাহিদ জিবরান এবং দুই কন্যা নাওশিন মুশতারী ও নাওরিন মুশতারী। পরিবারসহ তিনি দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় বসবাস করছেন।

পুরস্কার ও স্বীকৃতি

বাংলা সাহিত্যে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি গোলাম মোহাম্মদ সম্মাননা (২০১৯), সিএনসি ফররুখ পুরস্কার (২০১৬) এবং পরিচয় সাহিত্য পদকসহ একাধিক সম্মাননা অর্জন করেছেন।

বর্তমান অবস্থা ও উত্তরাধিকার

মোশাররফ হোসেন খান জীবিত আছেন এবং লেখালেখি চালিয়ে যাচ্ছেন। আশির দশক থেকে চার দশকেরও বেশি সময় ধরে কবিতা থেকে শিশুসাহিত্য — বহু শাখায় রচনা করে তিনি বাংলা সাহিত্যের ভান্ডারকে সমৃদ্ধ করেছেন। শিশু-কিশোরদের মাঝে সাহসী স্বপ্ন বোনার লেখক হিসেবে তার পরিচিতি ও বিদেশি ভাষায় তার রচনার অনুবাদ তাকে সমসাময়িক সাহিত্যের এক স্বতন্ত্র স্থান দিয়েছে।

তথ্য-সীমাবদ্ধতা: সার্বজনিক সূত্রে তার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ও কর্মজীবনের (চাকরি/পেশা) যাচাইযোগ্য বিবরণ পাওয়া যায়নি; তাই এই প্রোফাইলে সেসব তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

বাংলা সাহিত্যের সঙ্গে থাকুন

নতুন বই, কবিতা ও লেখক আপডেট পেতে আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন।