মূল কন্টেন্টে যান
মাহমুদ শীত খাত্তাব

মাহমুদ শীত খাত্তাব

সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

এক নজরে

পূর্ণ নাম মাহমুদ শীত খাত্তাব আল-মাওসিলি (আরবি: محمود شيت خطاب الموصلي)
পরিচিতি ইরাকি মেজর জেনারেল, সাবেক মন্ত্রী, ঐতিহাসিক, সমরবিদ ও লেখক
জন্ম ১৯১৯, মোসুল, উত্তর ইরাক (তৎকালীন অটোমান সাম্রাজ্য)
মৃত্যু ১৩ ডিসেম্বর ১৯৯৮, বাগদাদ, ইরাক
শিক্ষা বাগদাদ সামরিক একাডেমি; ব্রিটেনে সামরিক প্রশিক্ষণ; সামরিক বিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর
রচনা প্রায় ১২৬টি গ্রন্থ (আরবি); বাংলায়: নববি কাফেলা, সিরাত কাননের মুঠো মুঠো সৌরভ

পরিচিতি

মাহমুদ শীত খাত্তাব আল-মাওসিলি (১৯১৯–১৯৯৮) ছিলেন বিংশ শতাব্দীর ইরাকের একজন বিরল প্রতিভা — একই সঙ্গে সেনানায়ক, মন্ত্রী, ঐতিহাসিক, ভাষাবিদ ও বহুগ্রন্থপ্রণেতা লেখক। সামরিক কৌশল ও ইসলামি ইতিহাস — বিশেষত সিরাত-চর্চার এই দুই জগতের সংযোগস্থলে দাঁড়িয়ে তিনি প্রায় ১২৬টি গ্রন্থ রচনা করেন। একটি সম্ভাব্য বিভ্রান্তি এড়াতে উল্লেখ্য — তিনি চেচনিয়া যুদ্ধের কমান্ডার হিসেবে পরিচিত ‘খাত্তাব’ (ইবনুল খাত্তাব, মৃ. ২০০২) নন; দুজন সম্পূর্ণ ভিন্ন ব্যক্তি।

জন্ম ও শিক্ষা

১৯১৯ সালে উত্তর ইরাকের মোসুল শহরে (তৎকালীন অটোমান সাম্রাজ্য) এক ধর্মপ্রাণ আরব মুসলিম পরিবারে তাঁর জন্ম। বংশগতভাবে তিনি হাসানি — হাসান বিন আলীর বংশধর; তাঁর মা ছিলেন কায়সি গোত্রের মোসুলের ধর্মীয় পণ্ডিত শেখ মুস্তফা বিন খলিলের কন্যা। তিনি বেড়ে ওঠেন তাঁর দাদির কাছে, যিনি শৈশবেই তাঁর মধ্যে ইসলামি নীতিবোধ গেঁথে দেন। তাঁর ভাই জিয়া শীত খাত্তাব ছিলেন ইরাকের একজন সুপরিচিত বিচারপতি। মোসুলের মসজিদের কুত্তাবে তিনি কিরাত ও লেখাপড়া শেখেন। আইন পড়ার ইচ্ছা থাকলেও ১৯৩৭ সালে তিনি বাগদাদের সামরিক একাডেমিতে ভর্তি হন এবং অশ্বারোহী বাহিনীতে লেফটেন্যান্ট হিসেবে কমিশন পান। পরে ব্রিটেনে দুই বছরের সামরিক কোর্স সম্পন্ন করে তিনি লিওয়া রুকন (মেজর জেনারেল) পদে উন্নীত হন; ইরাক, উত্তর আফ্রিকা ও ইংল্যান্ডে তিনি মোট ২৪টি সামরিক প্রশিক্ষণ কোর্স সম্পন্ন করেন।

কর্মজীবন

তিনি ১৯৪৮ সালের ফিলিস্তিন যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৪১ সালে রশিদ আলী আল-কিলানির আন্দোলনে অংশ নেন তিনি; পরে আব্দুল করিম কাসিমের শাসনামলে গ্রেফতার হন এবং কঠোর নির্যাতনের শিকার হন। ইরাক ও মিশরের সামরিক কলেজগুলোতে তিনি শিক্ষকতা করেন এবং ইরাকের বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। আরব সেনাবাহিনীগুলোর সামরিক পরিভাষা একীকরণ কমিটির প্রধান হিসেবে তিনি আরবি-ইংরেজি-ফরাসি তিন ভাষায় চার খণ্ডের সামরিক অভিধান প্রণয়নের উদ্যোগ নেন।

পণ্ডিত হিসেবে তাঁর খ্যাতি সেনানায়কের খ্যাতিকে ছাড়িয়ে যায়। তিনি ছিলেন ইরাকি বিজ্ঞান একাডেমির (১৯৩৯), মক্কার মুসলিম ওয়ার্ল্ড লীগের প্রতিষ্ঠাতা পরিষদের (১৯৪৯), কায়রোর আরবি ভাষা একাডেমির (১৯৬৯), দামেস্কের আরব একাডেমির (১৯৬৯), জর্ডান আরবি একাডেমির (১৯৭৯) এবং আল-আজহারের ইসলামিক গবেষণা একাডেমির (১৯৮৯) সদস্য। তাঁর কৌশলগত দূরদৃষ্টির একটি বিখ্যাত দৃষ্টান্ত: ১৯৬৭ সালের ১ জুন বাগদাদের ‘আল-আরব’ পত্রিকায় তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেন যে ইসরায়েল ৫ জুন আক্রমণ করবে — যা হুবহু মিলে যায়।

রচনাবলি

তাঁর রচনার সংখ্যা প্রায় ১২৬টি — সামরিক বিজ্ঞান, ভাষাতত্ত্ব ও ইসলামি চিন্তাধারার ওপর। উল্লেখযোগ্য আরবি গ্রন্থের মধ্যে আছে আর-রাসুল আল-কায়েদ (রাসুল — সেনানায়ক), কাদাতুন নাবিয়্যি (নবীর সেনাপতিগণ), ওয়ামাদাত মিন নুরিল মুস্তফা (মুস্তফার নূরের ঝলকানি), আল-মুস্তালাহাত আল-আসকারিয়া ফিল কুরআনিল কারিম (কুরআনে সামরিক পরিভাষা), আদালাতুস সামা, তাদাবিরুল কদর, তারিখু জাইশিন নাবি (নবীর সেনাবাহিনীর ইতিহাস), আল-ফারুক আল-কায়েদ, খালিদ বিনুল ওয়ালিদ আল-মাখজুমি ও সুফারা আন-নাবি।

তাঁর দুটি গ্রন্থের বাংলা অনুবাদ বাংলাদেশে প্রকাশিত হয়েছে — নববি কাফেলা (মূল: কাদাতুন নাবিয়্যি; রুহামা পাবলিকেশন, প্রথম প্রকাশ ২০২২; ৬১২ পৃষ্ঠা; অনুবাদক: ইফতেখার সিফাত) এবং সিরাত কাননের মুঠো মুঠো সৌরভ (মূল: ওয়ামাদাত মিন নুরিল মুস্তফা; রুহামা পাবলিকেশন, ২০২১; ২০০ পৃষ্ঠা; অনুবাদক: আবু শাহামা হাবীবুল্লাহ মিসবাহ)।

মৃত্যু ও উত্তরাধিকার

১৯৯৮ সালের ১৩ ডিসেম্বর সকালে কন্যার সঙ্গে সূরা ইয়াসিন তিলাওয়াত শেষে তিনি ইন্তেকাল করেন; বাগদাদে তাঁকে দাফন করা হয়। সেনানায়ক ও পণ্ডিত — দুই পরিচয়ের এই সমন্বয় তাঁকে আরব বিশ্বের সামরিক-ইতিহাসচর্চায় একটি স্বতন্ত্র স্থান দিয়েছে; সিরাতকে সামরিক কৌশলের দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করা তাঁর রচনাশৈলীর প্রধান বৈশিষ্ট্য হিসেবে বিবেচিত হয়।

বাংলা সাহিত্যের সঙ্গে থাকুন

নতুন বই, কবিতা ও লেখক আপডেট পেতে আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন।