মূল কন্টেন্টে যান
মাওলানা শাব্বীর আহমদ উসমানী

মাওলানা শাব্বীর আহমদ উসমানী

সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

এক নজরে

বিষয় তথ্য
পূর্ণ নাম শাব্বীর আহমদ উসমানী (উর্দু: شبیر احمد عثمانی)
জন্ম ১১ অক্টোবর ১৮৮৭
জন্মস্থান বিজনোর, উত্তর-পশ্চিম প্রদেশ, ব্রিটিশ ভারত
মৃত্যু ১৩ ডিসেম্বর ১৯৪৯, বাহাওয়ালপুর, পাকিস্তান
সমাধিস্থল ইসলামিয়া সায়েন্স কলেজ, করাচি, পাকিস্তান
জাতীয়তা পাকিস্তানি (জন্মসূত্রে ব্রিটিশ ভারতীয়)
পেশা ইসলামি পণ্ডিত, মুফাসসির, মুহাদ্দিস, বক্তা, রাজনীতিবিদ
শিক্ষা দারুল উলুম দেওবন্দ (স্নাতক, ১৯০৮); শিক্ষক — শাইখুল হিন্দ মাহমুদ হাসান দেওবন্দি
উল্লেখযোগ্য কর্ম তাফসিরে উসমানি, ফাতহুল মুলহিম বি-শরহি সহিহিল ইমাম মুসলিম, আল-আকলু ওয়ান-নাকল, ইজাজুল কুরআন
সম্মাননা পাকিস্তানের শাইখুল ইসলাম (১৯৪৯); ‘পাইওনিয়ার্স অব ফ্রিডম’ সিরিজে স্মারক ডাকটিকিট (১৯৯০)

পরিচিতি

মাওলানা শাব্বীর আহমদ উসমানী (১১ অক্টোবর ১৮৮৭ – ১৩ ডিসেম্বর ১৯৪৯) ছিলেন বিংশ শতকের উপমহাদেশের একজন প্রভাবশালী দেওবন্দি ইসলামি পণ্ডিত, মুফাসসির ও মুহাদ্দিস। কুরআনের তাফসির ও হাদিস-বিশেষজ্ঞ হিসেবে তিনি যেমন খ্যাতি অর্জন করেন, তেমনি পাকিস্তান আন্দোলনের ধর্মীয়-রাজনৈতিক নেতৃত্বেও ছিলেন অগ্রগণ্য — ১৯৪৯ সালে তিনি পাকিস্তানের প্রথম ‘শাইখুল ইসলাম’ নিযুক্ত হন। ধর্মীয় পণ্ডিত ও রাজনীতিবিদ — এই দুই ভূমিকার মেলবন্ধনেই তার ঐতিহাসিক গুরুত্ব।

জন্ম ও শিক্ষা

১৮৮৭ সালের ১১ অক্টোবর ব্রিটিশ ভারতের উত্তর-পশ্চিম প্রদেশের বিজনোরে তার জন্ম। বাবা ফজলুর রহমান উসমানী ছিলেন স্কুলের উপ-পরিদর্শক; জন্মের সময় তিনি বরেলিতে সরকারি কাজে নিয়োজিত ছিলেন। উসমানী পরিবার ছিল দেওবন্দের একটি প্রাচীন আলেম পরিবার — শাব্বীর আহমদের ভাই আজিজুর রহমান উসমানী ছিলেন দারুল উলুম দেওবন্দের প্রথম গ্র্যান্ড মুফতি।

শাব্বীর আহমদ দারুল উলুম দেওবন্দে পড়াশোনা করেন এবং ১৯০৮ সালে স্নাতক হন। সেখানে তিনি শাইখুল হিন্দ মাহমুদ হাসান দেওবন্দির শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন — এই সম্পর্ক তার চিন্তা ও জীবনের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে।

কর্মজীবন (অধ্যাপনা)

স্নাতক হওয়ার পরপরই তিনি দারুল উলুম দেওবন্দের শিক্ষক নিযুক্ত হন। ১৯১৫ সালে মাহমুদ হাসান হেজাজে গেলে তিনি তার স্থলে সহিহ মুসলিম-এর শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯২৬ সালে তিনি গুজরাটের দাভেলে চলে যান এবং জামিয়া ইসলামিয়া তালিমুদ্দিন দাভেলের শিক্ষক হন। ১৯৩৩ সালে আনোয়ার শাহ কাশ্মিরির মৃত্যুর পর তিনি সহিহ বুখারি-এর শিক্ষকের পদ লাভ করেন। ১৯২০ সালে জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ার প্রতিষ্ঠাকালীন কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন তিনি; ১৯২৫ সালে সৌদি বাদশাহ ইবনে সউদের আহ্বানে আয়োজিত বিশ্ব-উলামা সম্মেলনে ভারতীয় প্রতিনিধিদলের অন্যতম সদস্য ছিলেন।

রচনাবলি

উসমানীর প্রধান গ্রন্থ তাফসিরে উসমানি — মূলত তার শিক্ষক মাহমুদ হাসান দেওবন্দির অসমাপ্ত উর্দু তাফসিরের সমাপ্তি ও সম্প্রসারণ। এ ছাড়া ফাতহুল মুলহিম বি-শরহি সহিহিল ইমাম মুসলিম (সহিহ মুসলিম-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ), আল-আকলু ওয়ান-নাকল (ঈমান ও যুক্তির সম্পর্ক নিয়ে দার্শনিক আলোচনা), ইজাজুল কুরআন (কুরআনের অলৌকিকত্ব বিষয়ে) এবং মাসআলাহ-ই তাকদির (তাকদির বিষয়ে) তার উল্লেখযোগ্য রচনা।

রাজনৈতিক জীবন

১৯৪৪ সালে তিনি নিখিল ভারত মুসলিম লীগে যোগ দেন — তখন বেশিরভাগ দেওবন্দি আলেম কংগ্রেস-ঘেঁষা জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সঙ্গে ছিলেন। পরের বছর (১৯৪৫) তিনি পাকিস্তানপন্থী আলেমদের নিয়ে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করেন এবং ১৯৪৯ সালে মৃত্যু পর্যন্ত এর প্রথম সভাপতি (আমির) ছিলেন। ১৯৪৬ সালের নভেম্বর থেকে ১৯৪৭ সালের আগস্ট পর্যন্ত তিনি ভারতের গণপরিষদের সদস্য ছিলেন; দেশভাগের পর পাকিস্তানের গণপরিষদের সদস্য হন। পাকিস্তানকে ইসলামি রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার দাবি তোলা প্রথম আলেমদের একজন হিসেবে তিনি উল্লেখিত হন।

১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট করাচিতে তিনিই প্রথম পাকিস্তানের পতাকা উত্তোলন করেন; ১৯৪৮ সালের সেপ্টেম্বরে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর জানাজার ইমামতি করেন তিনি। ১৯৪৯ সালের ১২ মার্চ পাকিস্তানের গণপরিষদে গৃহীত ‘কারারদাদে মাকাসিদ’ (উদ্দেশ্য-প্রস্তাব) প্রণয়নেও তার ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য।

মৃত্যু ও উত্তরাধিকার

১৯৪৯ সালের ১৩ ডিসেম্বর বাহাওয়ালপুর রাজ্যের বাগদাদুল জাদিদে তিনি মারা যান; পরদিন করাচির ইসলামিয়া সায়েন্স কলেজ প্রাঙ্গণে তাকে দাফন করা হয়। ১৯৯০ সালে পাকিস্তান ডাক বিভাগ ‘পাইওনিয়ার্স অব ফ্রিডম’ সিরিজে তার সম্মানে স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ করে। পাকিস্তানের সংবিধান-ইতিহাসে তিনি ইসলামি রাষ্ট্র-ব্যবস্থার পক্ষে ধর্মীয় যুক্তি উপস্থাপনের অন্যতম প্রধান প্রবক্তা হিসেবে স্মরণীয়।

বাংলা সাহিত্যের সঙ্গে থাকুন

নতুন বই, কবিতা ও লেখক আপডেট পেতে আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন।