মাওলানা মুহাম্মাদ মাসউদ আযহার
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
এক নজরে
| পূর্ণ নাম | মুহাম্মাদ মাসউদ আযহার আলভি |
| জন্ম | ১০ জুলাই ১৯৬৮ (কিছু সূত্রে ৭ আগস্ট ১৯৬৮) |
| জন্মস্থান | বাহাওয়ালপুর, পাঞ্জাব, পাকিস্তান |
| জাতীয়তা | পাকিস্তানি |
| পেশা | ধর্মীয় বক্তা ও সংগঠক |
| শিক্ষা | জামিয়া উলূমুল ইসলামিয়া, বানুরি টাউন, করাচি (আলিম ডিগ্রি, ১৯৮৯) |
| পরিচিতি | হরকাত-উল-মুজাহিদিনের সাবেক শীর্ষ নেতা; জৈশ-ই-মোহাম্মদের প্রতিষ্ঠাতা ও নেতা |
| আন্তর্জাতিক তালিকাভুক্তি | জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ১২৬৭ নিষেধাজ্ঞা তালিকা (১ মে ২০১৯) |
পরিচিতি
মুহাম্মাদ মাসউদ আযহার আলভি (জন্ম ১০ জুলাই ১৯৬৮; কিছু সূত্রে ৭ আগস্ট ১৯৬৮) পাকিস্তানের একজন ধর্মীয় বক্তা ও সংগঠক, হরকাত-উল-মুজাহিদিনের সাবেক শীর্ষ নেতা এবং জৈশ-ই-মোহাম্মদের প্রতিষ্ঠাতা। জৈশ-ই-মোহাম্মদ জাতিসংঘসহ ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ একাধিক দেশে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত। ২০১৯ সালের ১ মে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ আযহারকে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী হিসেবে ১২৬৭ নিষেধাজ্ঞা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে — ফলে তার ওপর সম্পদ জব্দ, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ও অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপিত হয়। তিনি জীবিত।
জন্ম ও শিক্ষা
১৯৬৮ সালে পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের বাহাওয়ালপুর শহরে মাসউদ আযহারের জন্ম; তিনি ১১ ভাইবোনের মধ্যে তৃতীয় ছিলেন। তার বাবা আল্লাহ বখশ শাবির ছিলেন একটি সরকারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক (কাশ্মীর হেরাল্ডে প্রকাশিত প্রোফাইল অনুযায়ী)। অষ্টম শ্রেণির পর তিনি প্রচলিত স্কুল ছেড়ে দেন এবং ১৯৭৮ সালে করাচির বানুরি টাউনের জামিয়া উলূমুল ইসলামিয়ায় ভর্তি হন। নয় বছরের পড়াশোনা শেষে ১৯৮৯ সালে তিনি আলিম ডিগ্রি অর্জন করেন এবং শিগগিরই ওই মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হন।
কর্মজীবন
মাদ্রাসায় থাকাকালেই আযহার হরকাত-উল-মুজাহিদিনে (হরকাত-উল-আনসার নামেও পরিচিত) যুক্ত হন; ১৯৯৩ সাল নাগাদ তিনি হরকাত-উল-আনসারের সাধারণ সম্পাদক হন (জেমসটাউন ফাউন্ডেশনের প্রোফাইল অনুযায়ী)। তিনি উর্দু পত্রিকা সাদ’এ মুজাহিদিন ও আরবি পত্রিকা সাওত-এ কাশ্মীর সম্পাদনা করতেন। সংগঠনের প্রচার, সদস্য সংগ্রহ ও তহবিল সংগ্রহের কাজে তিনি জাম্বিয়া, আবুধাবি, সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য ও কেনিয়াসহ একাধিক দেশ সফর করেন।
গ্রেফতার ও মুক্তি
১৯৯৪ সালের জানুয়ারিতে তিনি ঢাকা থেকে দিল্লি বিমানে করে ভারতে প্রবেশ করেন এবং একই বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি কাশ্মীরের খানাবালে সাজ্জাদ আফগানিসহ ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হন। ১৯৯৫ সালে আল-ফারান নামের একটি গোষ্ঠী পাঁচজন পশ্চিমা পর্যটককে অপহরণ করে আযহার ও আফগানির মুক্তি দাবি করেছিল। ১৯৯৯ সালের ২৪ ডিসেম্বর কাঠমান্ডু থেকে দিল্লিগামী ইন্ডিয়ান এয়ারলাইনসের ফ্লাইট আইসি-৮১৪ অপহরণ করে আফগানিস্তানের কান্দাহারে নিয়ে যাওয়া হয়; জিম্মিদের বিনিময়ে ১৯৯৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর মুশতাক আহমেদ জারগার ও ওমর সাঈদ শেখসহ আযহারকে মুক্তি দেওয়া হয়।
জৈশ-ই-মোহাম্মদ প্রতিষ্ঠা
মুক্তির পর ২০০০ সালের ৩১ জানুয়ারি আযহার জৈশ-ই-মোহাম্মদ প্রতিষ্ঠা করেন (জেমসটাউন ফাউন্ডেশনের প্রোফাইল অনুযায়ী করাচির বিনোরি মসজিদে; ব্রিটানিকা অনুযায়ী বাহাওয়ালপুরে)। সংগঠনটি জাতিসংঘসহ ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডায় সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত। ভারতের কর্তৃপক্ষ ২০০১ সালের জম্মু ও কাশ্মীর বিধানসভা ও দিল্লির সংসদ ভবনে হামলা, পাঠানকোট (২০১৬) ও পুলওয়ামা (২০১৯; ৪০ সিআরপিএফ সদস্য নিহত) হামলার জন্য জৈশ-ই-মোহাম্মদকে দায়ী করে। পুলওয়ামা হামলার দায় জৈশ স্বীকার করেছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে।
লেখালেখি
কাশ্মীর হেরাল্ডে প্রকাশিত প্রোফাইলে আযহারের বই The Virtues of Jihad-এর উল্লেখ আছে; এই বইতে তিনি তার পরিবার ও মাদ্রাসাজীবন সম্পর্কে লিখেছেন। এছাড়া তিনি সাদ’এ মুজাহিদিন ও সাওত-এ কাশ্মীর পত্রিকা সম্পাদনা করতেন।
বর্তমান অবস্থা
আযহার জীবিত। ২০১৯ সালের ১ মে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ১২৬৭ কমিটি তাকে নিষেধাজ্ঞা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে। বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনে পাকিস্তানের বাহাওয়ালপুর এলাকায় তার অবস্থানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তার গতিবিধি সম্পর্কে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য তথ্য সীমিত।
তথ্য-সীমাবদ্ধতা
মাসউদ আযহারের জীবন সম্পর্কে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য জীবনীমূলক তথ্য সীমিত; ফলে এই পরিচিতি নথিভুক্ত ঘটনাধারা ও প্রকাশিত প্রোফাইলের মধ্যে সীমাবদ্ধ। তিনি পেশাদার সাহিত্যিক নন; প্রকল্পের শ্রেণিবিন্যাসে তাকে প্রাবন্ধিক হিসেবে রাখা হয়েছে। জন্ম তারিখ নিয়ে সূত্রভেদ আছে (১০ জুলাই বনাম ৭ আগস্ট ১৯৬৮)। নির্ভরযোগ্য সূত্র পাওয়া গেলে এই পাতা হালনাগাদ করা হবে।