মূল কন্টেন্টে যান
মাওলানা মুহাম্মদ তাকী উসমানী

মাওলানা মুহাম্মদ তাকী উসমানী

সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

এক নজরে

বিষয় তথ্য
পূর্ণ নাম মুফতি মুহাম্মদ তাকী উসমানী
জন্ম ৩ অক্টোবর ১৯৪৩
জন্মস্থান দেওবন্দ, সাহারানপুর, যুক্তপ্রদেশ (তৎকালীন ব্রিটিশ ভারত)
জাতীয়তা পাকিস্তানি
পেশা ইসলামি পণ্ডিত, মুফতি, গবেষক, বিচারপতি (অবসরপ্রাপ্ত)
শিক্ষা তাখাসসুস (ইসলামি শিক্ষায় উচ্চতর ডিগ্রি), দারুল উলূম করাচি; আরবি সাহিত্যে এমএ, পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়; এলএলবি, করাচি বিশ্ববিদ্যালয়
উল্লেখযোগ্য কর্ম কুরআনের উর্দু ও ইংরেজি অনুবাদ; তাকমিলাতু ফাতহিল মুলহিম (সহীহ মুসলিমের ছয় খণ্ডের আরবি ব্যাখ্যাগ্রন্থ); ফিকহুল বুয়ূ; ইনআমুল বারী (দরসে বুখারী); An Introduction to Islamic Finance
পুরস্কার সিতারা-ই-ইমতিয়াজ (পাকিস্তান, ২০১৯)

পরিচিতি

মুফতি মুহাম্মদ তাকী উসমানী (জন্ম ৩ অক্টোবর ১৯৪৩) পাকিস্তানের একজন প্রভাবশালী ইসলামি পণ্ডিত, দেওবন্দি চিন্তাধারার বুদ্ধিজীবী নেতা এবং ইসলামি অর্থনীতির অগ্রদূত। উর্দু, আরবি ও ইংরেজিতে তিনি আশিটিরও বেশি গ্রন্থ রচনা করেছেন। তিনি পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের শরিয়ত আপিল বেঞ্চের বিচারপতি ছিলেন (১৯৮২–২০০২) এবং বর্তমানে দারুল উলূম করাচির ভাইস প্রেসিডেন্ট। ইসলামি ব্যাংকিং ও অর্থব্যবস্থায় শরিয়া তত্ত্বাবধানের ক্ষেত্রে তিনি বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় পণ্ডিত হিসেবে স্বীকৃত।

জন্ম ও শিক্ষা

১৯৪৩ সালের ৩ অক্টোবর (কিছু সূত্রে ৫ অক্টোবর) ব্রিটিশ ভারতের দেওবন্দ শহরে তার জন্ম। বাবা মুফতি মুহাম্মদ শাফী উসমানী ছিলেন প্রখ্যাত ইসলামি পণ্ডিত, দারুল উলূম দেওবন্দের শিক্ষক ও পরবর্তীতে পাকিস্তানের গ্র্যান্ড মুফতি; তিনি মা’আরিফুল কুরআন-এর লেখক। দেশভাগের পর পরিবার পাকিস্তানে চলে যায়।

তাকী উসমানী বাবার প্রতিষ্ঠিত দারুল উলূম করাচি থেকে ইসলামি শিক্ষায় তাখাসসুস ডিগ্রি (পিএইচডির সমতুল্য উচ্চতর ডিগ্রি) অর্জন করেন। এছাড়া পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আরবি সাহিত্যে এমএ এবং করাচি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৫৯ সাল থেকে তিনি হাদীস, ফিকহ ও ইসলামি শিক্ষার বিভিন্ন শাখায় অধ্যাপনা করে আসছেন।

কর্মজীবন

১৯৮১ থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত তিনি পাকিস্তানের ফেডারেল শরিয়ত আদালতের বিচারপতি ছিলেন এবং ১৯৮২ থেকে ২০০২ সালের মে পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের শরিয়ত আপিল বেঞ্চের বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে ১৯৭৭ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত তিনি কাউন্সিল অব ইসলামিক আইডিওলজির সদস্য ছিলেন।

ইসলামি অর্থনীতি ও ব্যাংকিংয়ে তার ভূমিকা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। তিনি বাহরাইনভিত্তিক অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড অডিটিং অর্গানাইজেশন ফর ইসলামিক ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশনস (AAOIFI)-এর আন্তর্জাতিক শরিয়া কাউন্সিলের চেয়ারম্যান এবং ওআইসির জেদ্দাভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ফিকহ একাডেমির স্থায়ী সদস্য। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বহু ইসলামি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শরিয়া তত্ত্বাবধান পর্ষদে তিনি চেয়ারম্যান বা সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া তিনি দারুল উলূম করাচির ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং ২০২১ সাল থেকে পাকিস্তানের উইফাকুল মাদারিস আল-আরাবিয়ার সভাপতি।

গবেষণা ও রচনাবলি

তাকী উসমানীর রচনাসম্ভার বিশাল — উর্দু, আরবি ও ইংরেজিতে আশিটিরও বেশি গ্রন্থ। উল্লেখযোগ্য কর্মের মধ্যে রয়েছে পবিত্র কুরআনের উর্দু ও ইংরেজি অনুবাদ (সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যাসহ), সহীহ মুসলিমের ছয় খণ্ডের আরবি ব্যাখ্যাগ্রন্থ তাকমিলাতু ফাতহিল মুলহিম, দুই খণ্ডের আরবি গ্রন্থ ফিকহুল বুয়ূ (বাণিজ্যের ফিকহ), ইনআমুল বারী (দরসে বুখারী), দরসে তিরমিযী এবং ইংরেজি গ্রন্থ An Introduction to Islamic Finance। হাদীস, ফিকহ, তাসাউউফ ও আধুনিক অর্থনীতি — এই সব ক্ষেত্রেই তার গবেষণা প্রভাবশালী।

পুরস্কার ও সম্মাননা

  • সিতারা-ই-ইমতিয়াজ — পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রদত্ত, ২০১৯

বর্তমান অবস্থা ও উত্তরাধিকার

মুফতি তাকী উসমানী বর্তমানে জীবিত এবং দারুল উলূম করাচিতে অধ্যাপনা, গবেষণা ও ইসলামি অর্থনীতিতে শরিয়া তত্ত্বাবধানে সক্রিয়। হাদীসচর্চা ও আধুনিক ইসলামি ব্যাংকিংয়ের তাত্ত্বিক ভিত্তি — উভয় ক্ষেত্রে তার অবদান তাকে সমকালীন মুসলিম বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী পণ্ডিতে পরিণত করেছে।

বাংলা সাহিত্যের সঙ্গে থাকুন

নতুন বই, কবিতা ও লেখক আপডেট পেতে আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন।