মূল কন্টেন্টে যান
মাওলানা মুহাম্মদ আবদুল মান্নান

মাওলানা মুহাম্মদ আবদুল মান্নান

সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

এক নজরে

পূর্ণ নাম মাওলানা মুহাম্মদ আবদুল মান্নান (আল্লামা এম. এ. মান্নান নামে পরিচিত)
জন্ম ৩ মার্চ ১৯৬০ (বৃহস্পতিবার), খলিফার বাড়ি, ডাবুয়া ইউনিয়ন, রাউজান, চট্টগ্রাম
জাতীয়তা বাংলাদেশি
পেশা আলেম, গবেষক, লেখক ও অনুবাদক; মহাপরিচালক, আনজুমান রিসার্চ সেন্টার
লেখার ধরন আকিদা-ভিত্তিক গবেষণা, শানে রিসালাত, ফতোয়া-সংকলন, প্রামাণ্য গ্রন্থের বঙ্গানুবাদ
উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ শানে রিসালাত, তানযীহুর রহমান আনিল কিযবি ওয়ান নুক্বসান, হাযির-নাযির, রহমতে আলম; অনুবাদ: কানযুল ঈমান, বাহজাতুল আসরার, নুরুল ইরফান ও খাজায়নুল ইরফান
পুরস্কার যাচাইকৃত পুরস্কার-তথ্য পাওয়া যায়নি

পরিচিতি

মাওলানা মুহাম্মদ আবদুল মান্নান — অনুসারীদের কাছে আল্লামা এম. এ. মান্নান — বাংলাদেশের সুন্নি অঙ্গনের একজন বহুমাত্রিক ব্যক্তিত্ব: একাধারে আলেম, গবেষক, লেখক, অনুবাদক ও সংগঠক। বাংলা উইকিপিডিয়ার জীবনী অনুযায়ী, তিনি বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনার প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক ও প্রথম সভাপতি (১৯৮০–১৯৮৬), পরবর্তীতে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের দ্বিতীয় চেয়ারম্যান (২০১০–২০২২), এবং বর্তমানে আনজুমান-এ-রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের গবেষণা-প্রতিষ্ঠান আনজুমান রিসার্চ সেন্টারের মহাপরিচালক। রাজনীতি, শিক্ষকতা ও গবেষণা — তিন ক্ষেত্রেই তার দীর্ঘ পথচলা।

নাম-বিভ্রান্তি এড়াতে একটি জরুরি স্পষ্টীকরণ: “মুহাম্মদ আবদুল মান্নান” নামে একাধিক লেখক থাকায় সতর্কতা প্রয়োজন। এই প্রোফাইলের ব্যক্তি — চট্টগ্রামের সুন্নি আলেম, ইসলামী ফ্রন্টের সাবেক চেয়ারম্যান ও আনজুমান রিসার্চ সেন্টারের মহাপরিচালক — “মুফতী মুহাম্মদ আবদুল মান্নান” নামের ভিন্ন লেখকের সঙ্গে এক নন। আনজুমান ট্রাস্টের প্রকাশনা (তানযীহুর রহমান, হাযির-নাযির, নজরে শরীয়ত) এবং সুন্নি-এনসাইক্লোপিডিয়ার প্রবন্ধগুলোতে লেখক হিসেবে “মাওলানা মুহাম্মদ আবদুল মান্নান, মহাপরিচালক, আনজুমান রিসার্চ সেন্টার” — এই পরিচয়েই তিনি চিহ্নিত; সেই সূত্র ধরেই এই প্রোফাইল সাজানো হয়েছে।

জন্ম ও শিক্ষা

আবদুল মান্নানের জন্ম ১৯৬০ সালের ৩ মার্চ, বৃহস্পতিবার — চট্টগ্রাম জেলার রাউজান উপজেলার ডাবুয়া ইউনিয়নের খলিফার বাড়িতে (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান)। পিতার নাম আলহাজ্ব এজহার। বাংলা উইকিপিডিয়া অনুযায়ী তিনি চট্টগ্রামের প্রখ্যাত সুন্নি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া-র প্রাক্তন শিক্ষার্থী — অর্থাৎ কামিল-পর্যায়ের উচ্চতর ইসলামি শিক্ষায় শিক্ষিত। তবে কোন সালে কোন ডিগ্রি অর্জন করেন, সে সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ্য সূত্রে পাওয়া যায়নি।

কর্মজীবন

মান্নানের কর্মজীবন শুরু হয় শিক্ষকতা দিয়ে — ১৯৭৯ থেকে ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত তিনি ছোবাহানিয়া আলিয়া কামিল মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেন। পরবর্তীতে ১৯৯৫ সালে আহসানুল উলুম আলিয়া মাদ্রাসায় মুহাদ্দিস (হাদিস-অধ্যাপক) পদে এবং ১৯৯৭ সালে গহিরা আলিয়া মাদ্রাসায় উপাধ্যক্ষ পদে নিযুক্ত হন। দীর্ঘ শিক্ষকতা-জীবন তাকে হাদিস ও ফিকহ-চর্চায় পারদর্শী করে তোলে — যা পরবর্তী গবেষণা ও অনুবাদ-কর্মের ভিত্তি।

সমান্তরালে চলে তার সাংগঠনিক জীবন। ১৯৮০ সালে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনা প্রতিষ্ঠায় তিনি প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন এবং ১৯৮০ থেকে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত সংগঠনের প্রথম সভাপতি ছিলেন। পরবর্তীতে ইসলামী ফ্রন্টের চেয়ারম্যান এম. এ. জলিলের মৃত্যুর পর কেন্দ্রীয় সদস্যদের ভোটে তিনি সংগঠনের দ্বিতীয় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন (২০১০–২০২২)। বর্তমানে তিনি আনজুমান রিসার্চ সেন্টারের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন — ষোলশহর, চট্টগ্রামের আলমগীর খানকা শরীফ-কেন্দ্রিক এই গবেষণা-প্রতিষ্ঠান থেকে সুন্নি আকিদা-ভিত্তিক গ্রন্থ প্রকাশ, ফতোয়া-সংকলন ও গবেষণা পরিচালিত হয়। এছাড়া তিনি বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ও উপদেষ্টা পদে রয়েছেন।

সাহিত্যকর্ম

মান্নানের রচনা দুই ধারায় — মৌলিক গবেষণা-গ্রন্থ এবং প্রামাণ্য গ্রন্থের বঙ্গানুবাদ:

  • তানযীহুর রহমান আনিল কিযবি ওয়ান নুক্বসান (تنزيه الرحمن عن الكذب والنقصان) — আনজুমান-এ-রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্ট, চট্টগ্রাম থেকে ২০১৩ সালে প্রকাশিত; ৫৩ পৃষ্ঠা। আল্লাহ তাআলার মিথ্যা ও ত্রুটি থেকে সম্পূর্ণ পূত-পবিত্রতার কালামী দলিল-ভিত্তিক প্রামাণ্য গ্রন্থ।
  • শানে রিসালাত — ১৮৩ পৃষ্ঠার সুবিশাল গ্রন্থ; পবিত্র কুরআন ও সহীহ হাদিসের আলোকে প্রিয়নবী (সা.)-এর সুউচ্চ মাকাম ও মর্যাদার বিবরণ।
  • হাযির-নাযির — আনজুমান ট্রাস্ট প্রকাশিত; লেখক-পরিচিতিতে “মাওলানা মুহাম্মদ আবদুল মান্নান, মহাপরিচালক, আনজুমান রিসার্চ সেন্টার” উল্লেখ আছে।
  • রাসূলের মানহানির শাস্তি মৃত্যুদণ্ড — সংকলিত গ্রন্থ; কুরআন, সুন্নাহ ও চার মাযহাবের দৃষ্টিতে গুস্তাখে রাসূলের শরয়ী শাস্তি।
  • নজরে শরীয়ত — আনজুমান ট্রাস্ট প্রকাশিত ৮৩ পৃষ্ঠার ফতোয়া-সংকলন।
  • রহমতে আলম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), দাওয়াত, হযরত আমীর মু’আবিয়া (রা.) — উইকিপিডিয়ায় উল্লেখিত অন্যান্য গ্রন্থ।
  • মায্হাব অনুসরণ ও বিভ্রান্তি নিরসন — সম্পাদনা (প্রথম প্রকাশ ডিসেম্বর ২০২০)।

অনুবাদ-কর্ম (উইকিপিডিয়া-সূত্রে): কানযুল ঈমান গ্রন্থের বঙ্গানুবাদ; উর্দু ভাষায় রচিত কুরআনের ব্যাখ্যাগ্রন্থ নুরুল ইরফান ও খাজায়নুল ইরফান-এর বঙ্গানুবাদ; হযরত আব্দুল কাদের জিলানী (রহ.)-এর জীবনীগ্রন্থ বাহজাতুল আসরার-এর বঙ্গানুবাদ; এবং সৈয়দ মুহাম্মদ আজিজুল হকের জীবনীগ্রন্থ দিওয়ান-ই আযীয-এর বঙ্গানুবাদ। এছাড়া সুন্নি-এনসাইক্লোপিডিয়ায় “মিলাদুন্নবী (সা.) সম্পর্কে ১৭টি প্রবন্ধ” তার রচনা হিসেবে সংকলিত।

পুরস্কার ও সম্মাননা

মাওলানা মুহাম্মদ আবদুল মান্নানের প্রাপ্ত কোনো পুরস্কার বা সম্মাননার যাচাইকৃত তথ্য প্রকাশ্য সূত্রে পাওয়া যায়নি। তার স্বীকৃতি মূলত সাংগঠনিক নেতৃত্ব (ইসলামী ফ্রন্টের চেয়ারম্যান, আনজুমান রিসার্চ সেন্টারের মহাপরিচালক) এবং সুন্নি পাঠকমহলে গ্রন্থগুলোর সমাদরের মাধ্যমে।

রচনাশৈলী ও মূল্যায়ন

মান্নানের রচনার মূল সুর — আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের আকিদা-ভিত্তিক দলিল-নির্ভর গবেষণা। তানযীহুর রহমান-এর মতো গ্রন্থে কালামশাস্ত্রের জটিল বিষয় (আল্লাহর সিফাত-সংক্রান্ত বিতর্ক) তিনি কুরআন-সুন্নাহর উদ্ধৃতি দিয়ে সুশৃঙ্খলভাবে উপস্থাপন করেছেন; শানে রিসালাত-এ নবী-মর্যাদার প্রতিটি দাবির পেছনে দলিল সাজিয়েছেন। তার ভাষা মাদ্রাসা-শিক্ষিত পাঠকের উপযোগী — আরবি পরিভাষা-সমৃদ্ধ, কিন্তু যুক্তি-পরম্পরা স্পষ্ট।

অনুবাদক হিসেবে তার অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য: কানযুল ঈমান (ইমাম আহমদ রেযা খান বেরেলভীর উর্দু কুরআন-অনুবাদ) এবং বাহজাতুল আসরার-এর মতো প্রামাণ্য গ্রন্থের বাংলা রূপায়ণ সুন্নি বাংলাভাষী পাঠকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সেবা। একজন সংগঠক-নেতা হয়েও তিনি গবেষণা ও কলমকে ছাড়েননি — শিক্ষকতা (১৯৭৯–১৯৯৭), ছাত্ররাজনীতির প্রতিষ্ঠা, দলীয় নেতৃত্ব ও গবেষণা-প্রতিষ্ঠান পরিচালনা — এই চার ভূমিকার সমন্বয় তাকে সমসাময়িক সুন্নি অঙ্গনের বিরল ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে। সামগ্রিক মূল্যায়নে, মাওলানা মুহাম্মদ আবদুল মান্নান বাংলাদেশের সুন্নি মসলকের আকিদা-সাহিত্য ও অনুবাদ-সাহিত্যের একজন প্রধান কারিগর। তার জীবনের একটি লক্ষণীয় দিক — তিনি কখনোই “খানকা-কেন্দ্রিক” বিচ্ছিন্ন আলেম ছিলেন না; ছাত্র-সংগঠন প্রতিষ্ঠা থেকে দলীয় নেতৃত্ব, মাদ্রাসার শ্রেণিকক্ষ থেকে গবেষণা-কেন্দ্রের পরিচালনা — প্রতিটি স্তরে তিনি সংগঠন ও জ্ঞানচর্চাকে একসঙ্গে এগিয়ে নিয়েছেন। আনজুমান রিসার্চ সেন্টারের মহাপরিচালক হিসেবে তার বর্তমান ভূমিকা এই সমন্বয়েরই পরিণতি: গবেষণা, প্রকাশনা ও ফতোয়া-সেবাকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো দেওয়া। ভবিষ্যতে তার রচনাবলির পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থপঞ্জি সংকলিত হলে সুন্নি বাংলা-সাহিত্যে তার অবস্থান আরও স্পষ্ট হবে।

বাংলা সাহিত্যের সঙ্গে থাকুন

নতুন বই, কবিতা ও লেখক আপডেট পেতে আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন।