মূল কন্টেন্টে যান
মাওলানা দেলওয়ার হোসাইন সাঈদী

মাওলানা দেলওয়ার হোসাইন সাঈদী

সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

এক নজরে

পূর্ণ নাম মাওলানা দেলওয়ার হোসাইন সাঈদী
জন্ম ২ ফেব্রুয়ারি ১৯৪০ (আইসিটির অভিযোগপত্রে ১ ফেব্রুয়ারি ১৯৪০ উল্লেখ আছে)
জন্মস্থান ইন্দুরকানি (দক্ষিণ খালি), পিরোজপুর জেলা, তৎকালীন বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি, ব্রিটিশ ভারত
মৃত্যু ১৪ আগস্ট ২০২৩, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল, ঢাকা
সমাধিস্থল নিজ গ্রাম, পিরোজপুর
জাতীয়তা বাংলাদেশি
পেশা ইসলামি পণ্ডিত ও মুফাস্সির, ওয়ায়েজ, রাজনীতিবিদ
শিক্ষা সারসিনা আলিয়া মাদ্রাসা; খুলনা আলিয়া মাদ্রাসা (কামিল)
রাজনৈতিক পদ সংসদ সদস্য, পিরোজপুর-১ (১৯৯৬–২০০৬); বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির (২০০৯–২০২৩)

পরিচিতি

মাওলানা দেলওয়ার হোসাইন সাঈদী (২ ফেব্রুয়ারি ১৯৪০ – ১৪ আগস্ট ২০২৩) বাংলাদেশের একজন ইসলামি পণ্ডিত, কুরআনের তাফসিরকার (মুফাস্সির), ওয়ায়েজ ও রাজনীতিবিদ ছিলেন। ১৯৭৯ সালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগদানের পর তিনি সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্বে ওঠেন এবং ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে পিরোজপুর-১ আসন থেকে দুবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৩ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) তাকে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের ঘটনার প্রেক্ষিতে মানবতাবিরোধী অপরাধের আটটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেন; ২০১৪ সালে সুপ্রিম কোর্ট এই দণ্ড যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে রূপান্তরিত করে। তার বিচার ও দণ্ড দেশে ও বিদেশে ব্যাপক আলোচনা-বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল।

জন্ম ও শিক্ষা

১৯৪০ সালের ২ ফেব্রুয়ারি (কিছু সূত্রে ও আইসিটির অভিযোগপত্রে ১ ফেব্রুয়ারি) পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকানির দক্ষিণ খালি গ্রামে সাঈদীর জন্ম। তার বাবা ইউসুফ সাঈদী ছিলেন একজন ইসলামি বক্তা; সাঈদীর প্রাথমিক ধর্মীয় শিক্ষা শুরু হয় বাবার প্রতিষ্ঠিত গ্রামের মাদ্রাসায়। ১৯৬২ সালে তিনি সারসিনা আলিয়া মাদ্রাসায় ভর্তি হন এবং পরে খুলনা আলিয়া মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেন; তিনি কামিল ডিগ্রি অর্জন করেন। কামিলের পর তিনি বিভিন্ন ভাষা, ধর্ম, বিজ্ঞান, রাজনীতি, অর্থনীতি ও মনোবিজ্ঞান বিষয়ে নিজে পড়াশোনা চালিয়ে যান বলে তার জীবনীতে উল্লেখ আছে।

ওয়াজ ও প্রচারজীবন

রাজনীতিতে আসার আগে সাঈদী সারাদেশে ওয়াজ মাহফিলে ইসলামি বক্তৃতা দিয়ে পরিচিতি অর্জন করেন; এই মাহফিলগুলোতে নিয়মিত বড় সংখ্যক শ্রোতা জমায়েত হতো বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ আছে। কুরআনের তাফসিরকার হিসেবে তিনি মুফাস্সির হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার বক্তৃতার সিডি ও ক্যাসেট দেশের বাইরেও, বিশেষ করে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে, প্রচার পেয়েছিল।

রাজনৈতিক জীবন

সাঈদী ১৯৭৯ সালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন; ১৯৮২ সালে রোকন, ১৯৮৯ সালে মজলিসে শূরার সদস্য এবং ১৯৯৬ সালে দলের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য হন। ২০০৯ সাল থেকে মৃত্যু পর্যন্ত তিনি জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির (সহ-সভাপতি) ছিলেন। ১৯৯৬ সালের জুন ও ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে তিনি পিরোজপুর-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন (মেয়াদ: ১৪ জুলাই ১৯৯৬ – ২৭ অক্টোবর ২০০৬)। ২০০১ সালের নির্বাচনের বিরুদ্ধে তার প্রতিদ্বন্দ্বী মামলা করেছিলেন; ২০০৩ সালে আদালত নির্বাচনি ব্যয়ের উৎস না দেখানো ও প্রচারবিধি লঙ্ঘনের কারণে তার নির্বাচন বাতিল ঘোষণা করে। সাঈদী সুপ্রিম কোর্টে আপিল করে স্থগিতাদেশ পান এবং সরকারের মেয়াদের শেষ পর্যন্ত সংসদ সদস্য ছিলেন।

গ্রেফতার ও বিচার

২০০৯ সালের ২৪ জুলাই জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অভিবাসন কর্মকর্তারা তাকে বিদেশযাত্রায় বাধা দেন। ২০১০ সালের মার্চে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে মামলার পর তাকে গ্রেফতার করা হয়; একই বছরের আগস্টে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাকে আটক দেখানো হয়। ২০১১ সালের ২০ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তার বিচার শুরু হয়। ট্রাইব্যুনাল তাকে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ২০টি অভিযোগে অভিযুক্ত করে; এর মধ্যে গণহত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও হিন্দুদের ধর্মান্তরে বাধ্য করা-সংক্রান্ত ৮টি অভিযোগে (অভিযোগ নম্বর ৬, ৭, ৮, ১০, ১১, ১৪, ১৬, ১৯) তিনি দোষী সাব্যস্ত হন এবং বাকি ১২টি অভিযোগ থেকে খালাস পান। ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ট্রাইব্যুনাল দুটি অভিযোগে (চার্জ ৮ ও ১০) তাকে ফাঁসির আদেশ দেন। রায় ঘোষণার পর সারাদেশে তার সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়; বিভিন্ন প্রতিবেদনে এই সহিংসতায় প্রায় একশ জন নিহত হওয়ার কথা বলা হয়। প্রতিরক্ষা পক্ষ অভিযোগগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছিল; অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ট্রাইব্যুনালের প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক মানের চেয়ে পিছিয়ে ছিল বলে মন্তব্য করেছিল। ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।

রচনাবলি

নিচের তালিকাটি উইকিপিডিয়ায় নথিভুক্ত তার “নির্বাচিত প্রকাশিত গ্রন্থ” অনুযায়ী ইংরেজি শিরোনামে দেওয়া হলো:

  • Biography of the Hereafter
  • The Principle of Building a Corruption-Free Society
  • Demands and Relevant Ideas for Banning Religion-Based Politics
  • Why I Joined Jamaat-e-Islami
  • Islam to Suppress Terrorism and Militancy
  • Baby Training Methods
  • Prayers of the Prophet
  • Why Qadianis are not Muslims
  • The Miracle of the Holy Qur’an
  • In the Land of the Blue Sea
  • My Duty to My Family
  • Open Letter
  • The Easy Process of Gaining Paradise
  • The Ordeal of Faith
  • Social Life in the Light of Hadith

ব্যক্তিগত জীবন

সাঈদীর চার পুত্র ছিল — রফিক, শামীম, মাসউদ ও নাসিম। ১৯৭১ সালের মার্চ-এপ্রিলে যুদ্ধ শুরু হলে সাঈদী ও তার পরিবার নিরাপত্তার জন্য পিরোজপুর ছেড়ে যশোরে আশ্রয় নেন বলে তার জীবনীতে উল্লেখ আছে।

মৃত্যু

২০২৩ সালের ১৪ আগস্ট রাত প্রায় ৮টা ৪০ মিনিটে ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ৮৩ বছর বয়সে সাঈদীর মৃত্যু হয়। তাকে পিরোজপুরের নিজ গ্রামে দাফন করা হয়। তার মৃত্যুর পর হাসপাতালের বাইরে হাজারো শোকার্ত মানুষ জড়ো হয়েছিলেন। তার পুত্র মাসউদ মৃত্যুর জন্য তৎকালীন সরকারের বিচারিক ও চিকিৎসা প্রক্রিয়াকে দায়ী করে অভিযোগ করেছিলেন — এটি তার ব্যক্তিগত দাবি, স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

বাংলা সাহিত্যের সঙ্গে থাকুন

নতুন বই, কবিতা ও লেখক আপডেট পেতে আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন।