মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ রাহমানী
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
এক নজরে
| পূর্ণ নাম | খালেদ সাইফুল্লাহ রাহমানী (পারিবারিক নাম: নুর খোরশেদ) |
| পরিচিতি | ভারতীয় ইসলামি পণ্ডিত, ফকিহ ও লেখক |
| জন্ম | ১৯৫৬ সালের নভেম্বর, দ্বারভাঙ্গা, বিহার, ভারত (জন্মতারিখ নিয়ে সূত্রভেদ আছে) |
| শিক্ষা | জামিয়া রহমানিয়া, মঙ্গের; দারুল উলুম দেওবন্দ; ইমারতে শরইয়াহ, পাটনা |
| পদ | অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডের সভাপতি (৩ জুন ২০২৩ থেকে); ইসলামিক ফিকহ একাডেমি ইন্ডিয়ার জেনারেল সেক্রেটারি |
| উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ | কামুসুল ফিকহ (৫ খণ্ড), কিতাবুল ফতোয়া, ফিকহে ইসলামি: তাদউইন-ও-তাআরুফ; বাংলায়: আধুনিক মাসায়েল ও ইসলামী সমাধান, সরল পথ |
পরিচিতি
মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ রাহমানী ভারতের একজন প্রখ্যাত ইসলামি পণ্ডিত, ফকিহ (ইসলামি আইনবিদ) ও শতাধিক গ্রন্থের লেখক। তুলনামূলক ফিকহে বিশেষজ্ঞ এই আলেম অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডের পঞ্চম সভাপতি হিসেবে ২০২৩ সালের জুন থেকে দায়িত্ব পালন করছেন। পরিচয়-যাচাইয়ের জন্য উল্লেখ্য: রকমারির লেখক-পরিচিতিতে দেওয়া তাঁর জীবনবৃত্তান্ত (১৯৫৬ সালে বিহারের দ্বারভাঙ্গায় জন্ম; অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড ও ইসলামিক ফিকহ একাডেমি ইন্ডিয়ার জেনারেল সেক্রেটারি) উইকিপিডিয়াসহ স্বতন্ত্র সূত্রের তথ্যের সঙ্গে হুবহু মিলে যায় — ফলে নিশ্চিত যে বইঘরের এই লেখক প্রখ্যাত ভারতীয় আলেম খালেদ সাইফুল্লাহ রাহমানীই, অন্য কোনো নামসাদৃশ ব্যক্তি নন।
জন্ম ও শিক্ষা
তিনি ১৯৫৬ সালের নভেম্বরে ভারতের বিহার রাজ্যের দ্বারভাঙ্গা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন; তাঁর পারিবারিক নাম নুর খোরশেদ, আর ‘খালেদ সাইফুল্লাহ রাহমানী’ তাঁর পরিচিত নাম। তাঁর চাচা মুজাহিদুল ইসলাম কাসমি ছিলেন প্রখ্যাত ইসলামি পণ্ডিত ও ফকিহ। প্রাথমিক শিক্ষা তিনি বাড়িতেই নেন; এরপর দুই বছর মাদরাসা কাসিমুল উলুম হোসাইনিয়ায় পড়েন। জামিয়া রহমানিয়া, মঙ্গের থেকে তিনি স্নাতক হন এবং দারুল উলুম দেওবন্দে দাওরায়ে হাদিস সম্পন্ন করেন (১৩৯৫ হিজরি)। পরে পাটনার ইমারতে শরইয়াহ থেকে ইফতা (ফতোয়া-প্রদান) ও বিচারিক প্রশিক্ষণ নেন। তাঁর শিক্ষকদের মধ্যে ছিলেন শরিফ হাসান দেওবন্দি, মাহমুদ হাসান গাঙ্গোহী, নাসির আহমদ খান, নিজামুদ্দিন আজমি, আনজার শাহ কাশ্মিরি ও মুহাম্মদ সালিম কাসমি; চাচা মুজাহিদুল ইসলাম কাসমির কাছ থেকেও তিনি উপকৃত হন।
কর্মজীবন
১৩৯৮ হিজরিতে তিনি মাদরাসা সাবিলুস সালামে শিক্ষকতা শুরু করেন এবং পরের বছর (১৩৯৯ হিজরি) সেখানকার প্রধান শিক্ষক নিযুক্ত হন; এই মাদরাসায় তিনি ২২ বছর শিক্ষকতা করেন। পরে তিনি হায়দরাবাদে আল-মাহাদুল আলী আল-ইসলামি প্রতিষ্ঠা করেন, যেখানে ভারতসহ বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। এছাড়া দ্বারভাঙ্গায় সাবিলুল ফালাহ ও মাদরাসা আল-ফালিহাত, অন্ধ্রপ্রদেশে মাদরাসা নুরুল উলুম এবং কর্ণাটকে মাদরাসা তালিমুল কুরআন লিল-বানাত প্রতিষ্ঠায় তাঁর ভূমিকা রয়েছে।
প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্বের মধ্যে তিনি ইসলামিক ফিকহ একাডেমি ইন্ডিয়ার জেনারেল সেক্রেটারি, মক্কার ইসলামিক ফিকহ একাডেমির সদস্য এবং অন্ধ্রপ্রদেশ-তেলেঙ্গানার দীনি মাদারিস বোর্ডের জেনারেল সেক্রেটারি। অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডের সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর ২০২১ সালে তিনি বোর্ডের জেনারেল সেক্রেটারি হন এবং ২০২৩ সালের ৩ জুন বোর্ডের পঞ্চম সভাপতি নির্বাচিত হন। তিনি উর্দু দৈনিক মুন্সিফ-এর শুক্রবার সংস্করণে নিয়মিত কলাম লেখেন এবং ইসলামি ফিকহ-বিষয়ক ত্রৈমাসিক জার্নাল ‘বেহস-ও-নজর’-এর সম্পাদক।
রচনাবলি
উর্দু ও আরবি ভাষায় তাঁর শতাধিক গ্রন্থ ও প্রবন্ধ রয়েছে, যার সব এখনো মুদ্রিত হয়নি। উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে আছে আসান তাফসিরে কুরআন মাজিদ (কুরআনের তাফসির), ফিকহে ইসলামি: তাদউইন-ও-তাআরুফ (ইসলামি ফিকহের পরিচিতি ও সংকলন), ইসলাম কা নিজাম উশর-ও-জাকাত, খাওয়াতিন কে মালি হুকুক, কিতাব আল-ফতোয়া, পাঁচ খণ্ডের কামুস আল-ফিকহ (ফিকহের অভিধান), কুরআন: এক ইলহামি কিতাব ও আসান উসুলে হাদিস। তাঁর উর্দু গ্রন্থ ‘পায়গাম্বরে আলম’-এর ইংরেজি অনুবাদ Prophet for the World নামে প্রকাশিত হয়েছে।
তাঁর কয়েকটি গ্রন্থ বাংলায় অনূদিত হয়েছে: আধুনিক মাসায়েল ও ইসলামী সমাধান (আনোয়ার লাইব্রেরী; অনুবাদক: মুফতী মুহাম্মদ জহিরুল ইসলাম; সম্পাদক: মাওলানা নোমান আহমদ), সরল পথ (মাকতাবাতুল আযহার), মানবতার নবী, হালাল-হারাম এবং ফিলিস্তিন-সফরবৃত্তান্ত আমার দেখা ফিলিস্তিন (সিতারা পাবলিকেশন, ২০২৫; অনুবাদ: মুহাম্মাদ রাশেদ আবদুল্লাহ)।
ব্যক্তিগত জীবন
প্রকাশ্য সূত্র অনুযায়ী তাঁর দুই পুত্র — উমর আবেদিন কাসমি মাদানি ও জাফর আবেদিন নদভি।
বর্তমান অবস্থা
জীবিত ও সক্রিয়; অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডের সভাপতি এবং ইসলামিক ফিকহ একাডেমি ইন্ডিয়ার জেনারেল সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তথ্য-সীমাবদ্ধতা
তাঁর জন্মদিন নিয়ে সূত্রভেদ আছে — উইকিপিডিয়া ‘নভেম্বর ১৯৫৬’ উল্লেখ করলেও ইসলামিক ফিকহ একাডেমির বায়োডাটায় ‘১৫-০৮-১৯৫৭’ লেখা আছে; ফলে সুনির্দিষ্ট জন্মতারিখ দেওয়া থেকে বিরত থাকা হয়েছে। পুরস্কার-সংক্রান্ত যাচাইযোগ্য তথ্যও পাওয়া যায়নি।