মূল কন্টেন্টে যান
মরিয়ম জামিলা

মরিয়ম জামিলা

সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

এক নজরে

পূর্ণ নাম মরিয়ম জামিলা (জন্মনাম: মার্গারেট মার্কাস)
জন্ম ২৩ মে ১৯৩৪
জন্মস্থান নিউ রোশেল, নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র
মৃত্যু ৩১ অক্টোবর ২০১২, লাহোর, পাকিস্তান
জাতীয়তা মার্কিন-পাকিস্তানি
পেশা লেখিকা
শিক্ষা নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা (অসমাপ্ত); স্বশিক্ষিত ধর্মতত্ত্ব-পাঠ
উল্লেখযোগ্য কর্ম ইসলাম ভার্সাস দ্য ওয়েস্ট; ইসলাম অ্যান্ড মডার্নিজম; ওয়েস্টার্ন সিভিলাইজেশন কনডেমন্ড বাই ইটসেলফ; হোয়াই আই এমব্রেসড ইসলাম

পরিচিতি

মরিয়ম জামিলা (২৩ মে ১৯৩৪ – ৩১ অক্টোবর ২০১২) ছিলেন মার্কিন-পাকিস্তানি লেখিকা, যিনি ইসলামি সংস্কৃতি ও ইতিহাসের ওপর ত্রিশেরও বেশি বই রচনা করেন। নিউইয়র্কের ইহুদি পরিবারে মার্গারেট মার্কাস নামে জন্ম নেওয়া এই নারী ১৯৬১ সালে ইসলাম গ্রহণ করে পাকিস্তানে পাড়ি জমান এবং পরবর্তী জীবন সেখানেই কাটান। তার রচনায় পাশ্চাত্য আধুনিকতাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা ও বস্তুবাদের সমালোচনা প্রধান বিষয়; তিনি বিংশ শতকের ইসলামি পুনর্জাগরণের অন্যতম পরিচিত নারী-কণ্ঠ হিসেবে বিবেচিত হন।

জন্ম ও শৈশব

তিনি নিউইয়র্কের নিউ রোশেলে জার্মান বংশোদ্ভূত, ধর্মীয়ভাবে উদাসীন এক ইহুদি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন; পরিবার তাকে ‘পেগি’ বলে ডাকত। শৈশবেই তিনি এশীয়, বিশেষত আরব সংস্কৃতি ও ইতিহাসের প্রতি আকৃষ্ট হন। কৈশোরে তিনি ইহুদি ধর্মসহ নানা ধর্ম অন্বেষণ করেন। উনিশ বছর বয়সে নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন ধর্মের প্রতি তার গভীর আগ্রহ জন্মায়। ইসলামের সঙ্গে তার প্রথম পরিচয় ঘটে ১৯৫৪ সাল নাগাদ; মার্মাডিউক পিকথলের ‘দ্য মিনিং অব দ্য গ্লোরিয়াস কোরান’ ও ইহুদি-ধর্মান্তরিত মুহাম্মদ আসাদের রচনা তাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে।

ইসলাম গ্রহণ ও পাকিস্তানে বসবাস

১৯৬১ সালের ২৪ মে, ২৭ বছর বয়সে নিউইয়র্কে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন এবং মরিয়ম জামিলা নাম ধারণ করেন। এরপর তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানের ‘মুসলিম ডাইজেস্ট’-এ লিখতে শুরু করেন, যেখানে মওলানা সাইয়্যেদ আবুল আলা মওদূদীর রচনার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। মওদূদীর পরামর্শে ১৯৬২ সালে তিনি পাকিস্তানে যান এবং লাহোরে তার পরিবারের সঙ্গে থাকেন। পরে তিনি জামায়াতে ইসলামীর নেতা মুহাম্মদ ইউসুফ খানকে বিয়ে করেন (তার দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে); এই দম্পতির পাঁচ সন্তান। এরপর থেকে আমৃত্যু লাহোরই ছিল তার আবাস।

রচনাবলি

জামিলা ইংরেজিতে ত্রিশেরও বেশি বই ও পুস্তিকা রচনা করেন। উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ: ‘ইসলাম ভার্সাস দ্য ওয়েস্ট’, ‘ইসলাম অ্যান্ড মডার্নিজম’, ‘ইসলাম ইন থিওরি অ্যান্ড প্র্যাকটিস’, ‘ওয়েস্টার্ন সিভিলাইজেশন কনডেমন্ড বাই ইটসেলফ’, ‘হোয়াই আই এমব্রেসড ইসলাম’, ‘ইসলাম অ্যান্ড দ্য মুসলিম ওম্যান টুডে’ এবং ‘করেসপন্ডেন্স বিটুইন মওলানা মওদূদী অ্যান্ড মরিয়ম জামিলা’ (১৯৬০–৬২ সালের চিঠিপত্র)। তার রচনা উর্দু, তুর্কি, ফারসি, বাংলাসহ নানা ভাষায় অনূদিত হয় এবং মুসলিম বিশ্বে ব্যাপকভাবে পঠিত হয়। ২০০৫ সালে প্রকাশিত ‘১০০ গ্রেট মুসলিম লিডার্স অব দ্য ২০থ সেঞ্চুরি’ বইয়ে স্থান পাওয়া মাত্র দুই নারীর একজন তিনি।

মৃত্যু ও উত্তরাধিকার

দীর্ঘ অসুস্থতার পর ২০১২ সালের ৩১ অক্টোবর লাহোরে মরিয়ম জামিলার মৃত্যু হয়; বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। একজন মার্কিন ইহুদি তরুণীর ইসলাম গ্রহণ করে পাকিস্তানে লেখক হিসেবে জীবন কাটানোর কাহিনী তাকে মুসলিম বিশ্বে বিশেষ পরিচিতি দেয়; তার রচনা আজও ইসলামি চিন্তাধারার পাঠকদের কাছে রেফারেন্স হিসেবে পঠিত হয়।

বাংলা সাহিত্যের সঙ্গে থাকুন

নতুন বই, কবিতা ও লেখক আপডেট পেতে আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন।