মূল কন্টেন্টে যান
মঈনুল আহসান সাবের

মঈনুল আহসান সাবের

সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

এক নজরে

পূর্ণ নাম মঈনুল আহসান সাবের
জন্ম ২৬ মে ১৯৫৮
জন্মস্থান ঢাকা (পৈতৃক ভিটা: পিরোজপুর, বরিশাল)
জাতীয়তা বাংলাদেশি
পেশা কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, প্রকাশক
শিক্ষা গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাইস্কুল, ঢাকা (মাধ্যমিক, ১৯৭৩); ঢাকা কলেজ (উচ্চমাধ্যমিক, ১৯৭৫); ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় — সমাজবিজ্ঞানে স্নাতক (সম্মান, ১৯৭৮) ও স্নাতকোত্তর (১৯৭৯)
উল্লেখযোগ্য কর্ম পরাস্ত সহিস (১৯৮২), পাথর সময়, ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১, কাফকা আসবে (২০১৯) — ৮০টির বেশি গ্রন্থ
পুরস্কার একুশে পদক (২০১৯); বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৯৬); বাপী শাহরিয়ার শিশুসাহিত্য পুরস্কার (১৯৯১) প্রভৃতি

পরিচিতি

মঈনুল আহসান সাবের (জন্ম ২৬ মে ১৯৫৮) বাংলাদেশের একজন প্রতিষ্ঠিত কথাসাহিত্যিক। প্রখ্যাত কবি আহসান হাবীবের পুত্র হিসেবে সাহিত্য-পরিমণ্ডলেই তার বেড়ে ওঠা, কিন্তু নিজের লেখনী দিয়েই তিনি স্বতন্ত্র পরিচয় গড়েছেন। গল্প দিয়ে সাহিত্যচর্চা শুরু করে তিনি উপন্যাস, কিশোরসাহিত্য ও শিশুসাহিত্যসহ কথাসাহিত্যের নানা শাখায় ৮০টির বেশি গ্রন্থ রচনা করেছেন। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অবদানের জন্য ২০১৯ সালে তিনি দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদকে ভূষিত হন।

জন্ম ও শিক্ষা

ঢাকায় তার জন্ম; জন্ম থেকে এখন পর্যন্ত ঢাকা শহরেই তার বসবাস। পৈতৃক ভিটা বরিশালের পিরোজপুরে, যদিও সেখানে কখনো যাওয়া হয়নি বলে এক পরিচিতিতে উল্লেখ আছে। গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাইস্কুল থেকে ১৯৭৩ সালে মাধ্যমিক এবং ঢাকা কলেজ থেকে ১৯৭৫ সালে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগ থেকে ১৯৭৮ সালে স্নাতক (সম্মান) ও ১৯৭৯ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।

কর্মজীবন

লেখালেখির পাশাপাশি তিনি সাংবাদিকতা ও প্রকাশনা-পেশায় যুক্ত। তিনি সাপ্তাহিক ২০০০-এর কার্যনির্বাহী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং “দিব্য প্রকাশ” নামে প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের প্রকাশক।

সাহিত্যজীবন

গল্প লিখেই তার সাহিত্যচর্চার শুরু। ১৯৮২ সালে প্রথম গ্রন্থ পরাস্ত সহিস প্রকাশের পর থেকে তিনি নিয়মিত লিখে আসছেন। তার গ্রন্থতালিকায় আছে অরক্ষিত জনপদ, স্বপ্নযাত্রা, আদমের জন্য অপেক্ষা, পাথর সময়, ভিড়ের মানুষ, লিলিপুটরা বড় হবে, সংসার যাপন, নির্বাচিত গল্প, উপন্যাসসমগ্র, কিশোর সমগ্র, ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১, আমাদের খনজনপুর, আখলাকের ফিরে আসা এবং সাম্প্রতিক কাফকা আসবে (২০১৯) — সব মিলিয়ে ৮১টির বেশি শিরোনাম। নগর-মধ্যবিত্ত জীবন, সম্পর্কের টানাপোড়েন ও সমকালীন সমাজবাস্তবতা তার লেখার প্রধান বিষয়।

তার পাথর সময়-সহ কয়েকটি লেখা নিয়ে টেলিভিশন নাটক নির্মিত হয়েছে এবং লিলিপুটেরা বড় হবে অবলম্বনে চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে। শিশু-কিশোরদের জন্যও তিনি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বই লিখেছেন (লাল বাড়ির অদ্ভুত ভূত, তিন সাংবাদিক ভূত প্রভৃতি)।

ব্যক্তিগত জীবন

স্ত্রী কেয়া ও দুই সন্তান দিব্য আর দীপ্রকে নিয়ে তার সংসার। ছোটবেলায় ডাকটিকেট সংগ্রহ ছিল তার প্রিয় শখ; ভ্রমণপ্রিয় এই লেখক সময় ও সুযোগ পেলেই বেরিয়ে পড়েন বলে জানা যায়।

পুরস্কার

  • বাপী শাহরিয়ার শিশুসাহিত্য পুরস্কার (১৯৯১)
  • ফিলিপস পুরস্কার
  • হুমায়ুন কাদির সাহিত্য পুরস্কার
  • বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৯৬)
  • ব্র্যাক ব্যাংক-সমকাল সাহিত্য পুরস্কার
  • জেমকন সাহিত্য পুরস্কার
  • ভাষা ও সাহিত্যে একুশে পদক (২০১৯)

বর্তমান অবস্থা ও উত্তরাধিকার

তিনি জীবিত ও সক্রিয়ভাবে লিখছেন। চার দশকের বেশি সময় ধরে নিরন্তর লেখালেখির মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের কথাসাহিত্যে একটি সুদৃঢ় অবস্থান তৈরি করেছেন; প্রকাশক ও সম্পাদক হিসেবেও তিনি নতুন লেখকদের পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে আসছেন।

বাংলা সাহিত্যের সঙ্গে থাকুন

নতুন বই, কবিতা ও লেখক আপডেট পেতে আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন।