মূল কন্টেন্টে যান
পাভেল বাঝোভ

পাভেল বাঝোভ

সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

এক নজরে

পূর্ণ নাম পাভেল পেত্রোভিচ বাঝোভ (Pavel Petrovich Bazhov)
পরিচিতি লেখক, প্রচারক ও উরাল লোককথার সংগ্রাহক
জন্ম ২৭ জানুয়ারি ১৮৭৯, সিসের্ত, পার্ম গভর্নরেট, রুশ সাম্রাজ্য
মৃত্যু ৩ ডিসেম্বর ১৯৫০, মস্কো, সোভিয়েত ইউনিয়ন
উল্লেখযোগ্য রচনা ম্যালাখাইট বাক্স (The Malachite Box, ১৯৩৯); গল্প পাথরের ফুল, তাম্রপর্বতের রানী, রূপালি খুর
পুরস্কার স্তালিন পুরস্কার (১৯৪৩), অর্ডার অব লেনিন

পরিচিতি

পাভেল পেত্রোভিচ বাঝোভ (১৮৭৯–১৯৫০) রুশ লেখক ও প্রচারক, যিনি উরাল অঞ্চলের লোককথা অবলম্বনে রচিত রূপকথা-সংকলন ম্যালাখাইট বাক্স-এর জন্য বিশ্ববিখ্যাত। খনি-শ্রমিক ও কারখানা-শহরের মানুষের মুখের গল্পকে তিনি সাহিত্যিক রূপ দিয়েছিলেন — এই “স্কাজ” ধারার গল্পগুলোতে তাম্রপর্বতের রানী, নীল সাপ ও পাথরের ফুলের মতো চরিত্র আজও রুশ শিশুসাহিত্যের অঙ্গ।

জন্ম ও শিক্ষা

উরালের সিসের্ত শহরে বাঝোভের জন্ম। তাঁর বাবা পিয়োতর বাঝোভ ছিলেন সিসের্ত ইস্পাত কারখানার ঢালাই-বিভাগের মাস্টার; জার-যুগের কারখানা-শহরের দরিদ্র পরিবারে বেড়ে ওঠেন তিনি। ১৮৮৯–১৮৯৩ সালে তিনি ইয়েকাতেরিনবুর্গের ধর্মীয় বিদ্যালয়ে পড়েন এবং ১৮৯৯ সালে পার্ম ধর্মতত্ত্ব সেমিনারি থেকে শ্রেণীতে তৃতীয় হয়ে স্নাতক হন। টমস্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন থাকলেও তিনি সেখানে ভর্তি হতে পারেননি।

কর্মজীবন

প্রথমে তিনি ইয়েকাতেরিনবুর্গ ও কামিশলভে রুশ ভাষার শিক্ষক হিসেবে কাজ করেন; ১৯০৭–১৯১৪ সালে নারী ধর্মীয় কলেজে শিক্ষকতা করেন। এই সময় তিনি ভ্যালেন্তিনা ইভানিতস্কিকে বিয়ে করেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়ার সময় তাঁর দুই কন্যা ছিল। ১৯১৭ সাল পর্যন্ত তিনি সমাজতান্ত্রিক-বিপ্লবী দলের সদস্য ছিলেন; ১৯১৮ সালে বলশেভিক পার্টিতে যোগ দিয়ে লাল ফৌজে স্বেচ্ছাসেবী হন এবং উরাল রণাঙ্গনে যুদ্ধ করেন। ১৯২০ সালের শরতে তিনি সেমিপালাতিনস্কে যান, সেখানকার পার্টি কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন এবং প্রাদেশিক ট্রেড ইউনিয়ন কাউন্সিলের নেতৃত্ব দেন। ১৯২৩–১৯২৯ সালে ইয়েকাতেরিনবুর্গে বসে তিনি ক্রেস্তিয়ানস্কায়া (কৃষক) পত্রিকার সম্পাদনা-পরিষদে কাজ করেন এবং পুরনো কারখানা-জীবন ও গৃহযুদ্ধ নিয়ে প্রবন্ধ লেখেন। ১৯৪৬ সালে তিনি সুপ্রিম সোভিয়েতের সদস্য নির্বাচিত হন।

সাহিত্যজীবন

১৯২৪ সালে তাঁর প্রথম বই উরালের কাহিনী (Уральские были) প্রকাশিত হয় — ১৮৮০–৯০-এর দশকের উরাল জীবনের চিত্র। এই সময়েই তিনি উরাল কারখানা-লোককথার বিষয়ে চল্লিশের বেশি গল্প লেখেন, যা পরে ম্যালাখাইট বাক্স সংকলনে স্থান পায়। ১৯৩৯ সালে প্রকাশিত এই সংকলন তাত্ক্ষণিক সাফল্য পায়; ১৯৪৪ সালে এর ইংরেজি অনুবাদ নিউইয়র্ক ও লন্ডনে প্রকাশিত হয়। সংকলনের একটি গল্প অবলম্বনে সের্গেই প্রোকোফিয়েভ পাথরের ফুলের কাহিনী ব্যালে রচনা করেন। ম্যালাখাইট বাক্স-এর জন্য বাঝোভ ১৯৪৩ সালে সাহিত্যে স্তালিন পুরস্কার পান। রূপকথার পাশাপাশি তিনি রুশ বিপ্লব ও গৃহযুদ্ধ নিয়েও একাধিক বই লিখেছিলেন।

ব্যক্তিগত জীবন

তাঁর স্ত্রী ভ্যালেন্তিনা ইভানিতস্কি ছিলেন ধর্মীয় বিদ্যালয়ের স্নাতক; বাঝোভের প্রেম ও সুখ-বিষয়ক অনেক কবিতার প্রেরণা ছিলেন তিনি। বাঝোভের নাতি ইয়েগর গাইদার পরবর্তীতে রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী হন।

মৃত্যু ও উত্তরাধিকার

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় বাঝোভ ইয়েকাতেরিনবুর্গের লেখকদের সঙ্গে কাজ করেন। যুদ্ধের পর তাঁর দৃষ্টিশক্তি দ্রুত ক্ষীণ হতে থাকে, তবু তিনি সম্পাদনার কাজ ও লোককথা সংগ্রহ চালিয়ে যান। ১৯৫০ সালের ৩ ডিসেম্বর মস্কোয় তাঁর মৃত্যু হয়; তাঁকে নিজ শহর ইয়েকাতেরিনবুর্গে সমাহিত করা হয়।

তাঁর স্মৃতিতে ২০২১ সালে কামিশলভ শহরে রাশিয়ার বৃহত্তম বাঝোভ-স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপিত হয়; তাঁর জীবন ও রচনা নিয়ে একাধিক প্রামাণ্যচিত্র নির্মিত হয়েছে। ম্যালাখাইট বাক্স ১৯৮১ সালের মধ্যে সোভিয়েত ইউনিয়নে ২৫৩ বার পুনর্মুদ্রিত হয়েছিল, মোট প্রচারসংখ্যা প্রায় ৩ কোটি ৭০ লাখ কপি।

বাংলা সাহিত্যের সঙ্গে থাকুন

নতুন বই, কবিতা ও লেখক আপডেট পেতে আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন।