পাওলো কোয়েলহো
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
এক নজরে
| পূর্ণ নাম | পাওলো কোয়েলহো দে সুজা |
|---|---|
| জন্ম | ২৪ আগস্ট, ১৯৪৭ — রিও ডি জেনিরো, ব্রাজিল |
| জাতীয়তা | ব্রাজিলীয় |
| পেশা | ঔপন্যাসিক ও গীতিকার |
| স্বামী/স্ত্রী | ক্রিস্টিনা ওইতিসিকা (বি. ১৯৮০) |
| স্বীকৃতি | ব্রাজিলীয় আকাদেমি দে লেত্রাস-এর সদস্য (২০০২) |
| বিখ্যাত রচনা | ‘দ্য অ্যালকেমিস্ট’ (১৯৮৮) |
| প্রধান রচনাবলি | ‘দ্য পিলগ্রিমেজ’, ‘ব্রিদা’, ‘দ্য ভ্যালকিরিজ’, ‘বাই দ্য রিভার পিয়েদ্রা আই স্যাট ডাউন অ্যান্ড ওয়েপ্ট’, ‘ভেরোনিকা ডিসাইডস টু ডাই’, ‘দ্য জাহির’, ‘আলেফ’ |
পরিচিতি
পাওলো কোয়েলহো ব্রাজিলের বিশ্বখ্যাত ঔপন্যাসিক ও গীতিকার। তাঁর রচনায় স্বপ্ন, আত্ম-আবিষ্কার ও আধ্যাত্মিক যাত্রার বিষয় প্রাধান্য পায়। তাঁর ১৯৮৮ সালের উপন্যাস ‘দ্য অ্যালকেমিস্ট’ আন্তর্জাতিক বেস্টসেলার এবং জীবিত লেখকদের লেখা বইয়ের মধ্যে সর্বাধিক অনুবাদিত হিসেবে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড ধারণ করে। তাঁর বই ১৭০টিরও বেশি দেশে প্রকাশিত, ৮৩টি ভাষায় অনূদিত এবং ৩২০ মিলিয়ন কপিরও বেশি বিক্রি হয়েছে।
জন্ম ও শৈশব
পাওলো কোয়েলহো দে সুজা ১৯৪৭ সালের ২৪ আগস্ট ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরোতে জন্মগ্রহণ করেন এবং একটি জেসুইট স্কুলে পড়াশোনা করেন। ১৭ বছর বয়সে তাঁর বাবা-মা তাঁকে একটি মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করেন, যেখান থেকে তিনি তিনবার পালানোর পর ২০ বছর বয়সে মুক্তি পান। বাবা-মায়ের ইচ্ছায় তিনি আইন পড়তে ভর্তি হলেও এক বছর পর পড়াশোনা ছেড়ে দেন এবং হিপ্পি জীবন বেছে নেন — দক্ষিণ আমেরিকা, উত্তর আফ্রিকা, মেক্সিকো ও ইউরোপজুড়ে ভ্রমণ করেন।
কর্মজীবন
ব্রাজিলে ফিরে তিনি গীতিকার হিসেবে কাজ শুরু করেন; এলিস রেজিনা, রিটা লি ও রাউল সেইশাস-এর মতো শিল্পীদের জন্য গান লেখেন। ১৯৭৪ সালে ‘ধ্বংসাত্মক’ কার্যকলাপের অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং বন্দিদশায় নির্যাতনের শিকার হন। এরপর তিনি অভিনেতা, সাংবাদিক ও নাট্য-পরিচালক হিসেবেও কাজ করেন। ১৯৮২ সালে তাঁর প্রথম বই ‘হেল আর্কাইভস’ প্রকাশিত হয়, যা তেমন সাফল্য পায়নি।
সাহিত্যজীবন
১৯৮৬ সালে স্পেনের কামিনো দে সান্তিয়াগো পদযাত্রা তাঁর জীবনে আধ্যাত্মিক মোড় ঘোরায়; এই অভিজ্ঞতা থেকে তিনি ‘দ্য পিলগ্রিমেজ’ (১৯৮৭) লেখেন। পরের বছর তিনি ‘দ্য অ্যালকেমিস্ট’ লেখেন — ব্রাজিলের একটি ছোট প্রকাশনী থেকে মাত্র ৯০০ কপির প্রথম মুদ্রণে প্রকাশিত বইটি পরে হারপারকলিন্স ১৯৯৪ সালে প্রকাশ করলে আন্তর্জাতিক বেস্টসেলারে পরিণত হয়। ২০০৯ সালের এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ‘দ্য অ্যালকেমিস্ট’ ও ‘দ্য জাহির’ রচনায় সুফি ঐতিহ্য তাঁকে প্রভাবিত করেছিল। তাঁর অন্যান্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘ব্রিদা’ (১৯৯০), ‘দ্য ভ্যালকিরিজ’ (১৯৯২), ‘বাই দ্য রিভার পিয়েদ্রা আই স্যাট ডাউন অ্যান্ড ওয়েপ্ট’ (১৯৯৪), ‘দ্য ফিফথ মাউন্টেন’ (১৯৯৬), ‘ম্যানুয়াল অব দ্য ওয়ারিয়র অব লাইট’ (১৯৯৭), ‘ভেরোনিকা ডিসাইডস টু ডাই’ (১৯৯৮), ‘দ্য ডেভিল অ্যান্ড মিস প্রাইম’ (২০০০), ‘ইলেভেন মিনিটস’ (২০০৩), ‘দ্য জাহির’ (২০০৫), ‘দ্য উইচ অব পোর্তোবেলো’ (২০০৬), ‘আলেফ’ (২০১০), ‘ম্যানাস্ক্রিপ্ট ফাউন্ড ইন আকরা’ (২০১২), ‘অ্যাডাল্টারি’ (২০১৪), ‘দ্য স্পাই’ (২০১৬), ‘হিপ্পি’ (২০১৮) ও ‘দ্য আর্চার’ (২০২০)। ‘দ্য পিলগ্রিমেজ’, ‘হিপ্পি’, ‘দ্য ভ্যালকিরিজ’ ও ‘আলেফ’ — এই চারটি উপন্যাস আত্মজীবনীমূলক।
ব্যক্তিগত জীবন
তিনি ১৯৮০ সালে শিল্পী ক্রিস্টিনা ওইতিসিকার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বর্তমানে এই দম্পতি সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় বসবাস করেন।
স্বীকৃতি ও বিতর্ক
২০০২ সালে তিনি ব্রাজিলীয় আকাদেমি দে লেত্রাস-এর সদস্য নির্বাচিত হন। তাঁর ওপর একটি জীবনীমূলক চলচ্চিত্র ‘পাওলো কোয়েলহোস বেস্ট স্টোরি’ ২০১৪ সালে ব্রাজিলে মুক্তি পায়। তবে সমালোচকেরা তাঁর পরবর্তীকালের রচনাকে কখনো কখনো ‘অগভীর’ বলে মন্তব্য করেছেন, এবং নিজেকে ক্যাথলিক দাবি করা সত্ত্বেও তাঁর লেখার নিউ-এজ ও সর্বেশ্বরবাদী উপাদান নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।