নেপোলিয়ন হিল
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
এক নজরে
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| পূর্ণ নাম | অলিভার নেপোলিয়ন হিল |
| জন্ম | ২৬ অক্টোবর ১৮৮৩ |
| জন্মস্থান | পাউন্ড, ভার্জিনিয়া, যুক্তরাষ্ট্র (অ্যাপালাচিয়ান অঞ্চলের এক কক্ষবিশিষ্ট কাঠের ঘরে) |
| মৃত্যু | ৮ নভেম্বর ১৯৭০, গ্রিনভিল, সাউথ ক্যারোলাইনা |
| জাতীয়তা | মার্কিন |
| পেশা | লেখক, বক্তা, সাংবাদিক, সেলসম্যান |
| উল্লেখযোগ্য কর্ম | দ্য ল অব সাকসেস (১৯২৮), থিংক অ্যান্ড গ্রো রিচ (১৯৩৭), আউটউইটিং দ্য ডেভিল (১৯৩৮) |
পরিচিতি
অলিভার নেপোলিয়ন হিল (২৬ অক্টোবর ১৮৮৩ – ৮ নভেম্বর ১৯৭০) ছিলেন একজন মার্কিন স্ব-উন্নয়নমূলক লেখক। তার সবচেয়ে বিখ্যাত গ্রন্থ থিংক অ্যান্ড গ্রো রিচ (১৯৩৭) ইতিহাসের সর্বাধিক বিক্রীত স্ব-উন্নয়ন বইগুলোর একটি হিসেবে স্বীকৃত। তার রচনার মূল বক্তব্য হলো — তীব্র প্রত্যাশা ও ইতিবাচক মানসিকতা জীবনের উন্নতির জন্য অপরিহার্য। একই সঙ্গে তিনি একজন বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব: প্রতারণার অভিযোগে অভিযুক্ত হিলের কিছু দাবি, যেমন তিনি শিল্পপতি অ্যান্ড্রু কার্নেগির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন বা তিনি আইনজীবী ছিলেন — এই দাবিগুলোর সত্যতা নিয়ে আধুনিক ঐতিহাসিকরা প্রশ্ন তুলেছেন।
জন্ম ও শৈশব
১৮৮৩ সালের ২৬ অক্টোবর ভার্জিনিয়ার পাউন্ড শহরের কাছে অ্যাপালাচিয়ান পর্বতাঞ্চলের এক কক্ষবিশিষ্ট কাঠের ঘরে নেপোলিয়ন হিলের জন্ম। তার পিতা ছিলেন জেমস মনরো হিল এবং মাতা সারা সিলভানিয়া (ব্লেয়ার) হিল। নয় বছর বয়সে তার মায়ের মৃত্যু হয়; দুই বছর পর পিতা মার্থা নামের এক বিধবাকে বিয়ে করেন, যিনি ছিলেন একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষকের বিধবা স্ত্রী। জীবনীকারদের বর্ণনা অনুযায়ী সৎমা হিলের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলেন — তাকে স্কুলে ও গির্জায় যাওয়ার অভ্যাস করান। ১৩ বছর বয়সে তিনি ‘মাউন্টেন রিপোর্টার’ হিসেবে লেখালেখি শুরু করেন, শুরুতে তার পিতার সংবাদপত্রের জন্য।
কর্মজীবন
১৯০৮ সালে সাকসেস ম্যাগাজিনের সম্পাদক তাকে সেকালের সফল ব্যক্তিদের নিয়ে প্রতিবেদন-সিরিজ লেখার কাজ দেন। হিলের দাবি অনুযায়ী, এই সূত্রে তিনি অ্যান্ড্রু কার্নেগি, হেনরি ফোর্ড ও টমাস এডিসনসহ সেকালের খ্যাতিমান ব্যক্তিদের সাক্ষাৎকার নেন। সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি সেলসম্যান, বিজ্ঞাপনকর্মী ও বক্তা হিসেবেও কাজ করেন এবং সাফল্য ও ব্যক্তিগত অর্জন বিষয়ে ব্যাপকভাবে বক্তৃতা দেন। পরবর্তী জীবনে তিনি প্রেসিডেন্ট ফ্র্যাংকলিন ডি. রুজভেল্টের উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করার দাবিও করেন। তবে ঐতিহাসিক ও জীবনীকাররা এই দাবিগুলোর অনেকটির প্রামাণিক ভিত্তি খুঁজে পাননি বলে উল্লেখ করেছেন।
সাহিত্যজীবন
হিলের প্রথম বড় গ্রন্থ দ্য ল অব সাকসেস (১৯২৮), যা মূলত ১৫ খণ্ডের পুস্তিকা সিরিজ হিসেবে প্রকাশিত হয়। এরপর প্রকাশিত হয় দ্য ম্যাজিক ল্যাডার টু সাকসেস (১৯৩০)। ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত থিংক অ্যান্ড গ্রো রিচ তার জীবনের সবচেয়ে সফল বই — এতে তিনি সম্পদ অর্জনের ‘তেরোটি প্রমাণিত ধাপ’-এর কথা বলেন, যা তার দাবি অনুযায়ী অ্যান্ড্রু কার্নেগির সাফল্যের ফর্মুলার ওপর ভিত্তি করে রচিত। বইটির পাণ্ডুলিপি সাজাতে তার তৎকালীন স্ত্রী রোজা লি (বিল্যান্ড) হিল তাকে সহায়তা করেন। তার অন্যান্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে হাউ টু সেল ইয়োর ওয়ে থ্রু লাইফ (১৯৩৯), দ্য মাস্টার-কি টু রিচেস (১৯৪৫), হাউ টু রেইজ ইয়োর ওন স্যালারি (১৯৫৩), সাকসেস থ্রু আ পজিটিভ মেন্টাল অ্যাটিচিউড (১৯৫৯; ডব্লিউ. ক্লিমেন্ট স্টোনের সঙ্গে যৌথ), গ্রো রিচ!: উইথ পিস অব মাইন্ড (১৯৬৭), সাকসিড অ্যান্ড গ্রো রিচ থ্রু পারসুয়েশন (১৯৭০) ও ইউ ক্যান ওয়ার্ক ইয়োর ওন মিরাকলস (১৯৭১)। ১৯৩৮ সালে রচিত আউটউইটিং দ্য ডেভিল তার মৃত্যুর অনেক পরে ২০১১ সালে প্রকাশিত হয়।
ব্যক্তিগত জীবন
১৫ বছর বয়সে হিল প্রথম বিয়ে করেন এক স্থানীয় তরুণীকে; পরে ওই দাবি প্রত্যাহার করা হয় এবং বিয়ে বাতিল হয়ে যায়। এরপর তিনি ফ্লোরেন্স এলিজাবেথ হর্নারকে বিয়ে করেন (১৯৩৫ সালে বিবাহবিচ্ছেদ)। ১৯৩৭ সালে তিনি ব্লুজ সংগীতশিল্পী রোজা লি বিল্যান্ডকে বিয়ে করেন; এই দম্পতি ১৯৪০ সালে বিচ্ছিন্ন হন। পরবর্তীতে তিনি অ্যানি লু নরম্যানকে বিয়ে করেন। তার দুই পুত্র ছিলেন — ব্লেয়ার হিল ও ডেভিড হিল।
মৃত্যু ও উত্তরাধিকার
কয়েক বছর হৃদরোগে ভোগার পর ১৯৭০ সালের ৮ নভেম্বর সাউথ ক্যারোলাইনার গ্রিনভিলে নেপোলিয়ন হিল মারা যান; বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর। তাকে ফ্রেডেরিক মেমোরিয়াল গার্ডেন্সে সমাহিত করা হয়। বিতর্ক সত্ত্বেও তার বইগুলো বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি কপি বিক্রি হয়েছে এবং উদ্যোক্তা, প্রশিক্ষক, কোচ ও নেতাদের মধ্যে তার সাফল্যের নীতিগুলো আজও উদ্ধৃত ও শেখানো হয়। স্ব-উন্নয়ন সাহিত্যের ধারায় তার প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী — যা একই সঙ্গে তার জনপ্রিয়তা ও বিতর্কিত জীবনদাবির সাক্ষ্য বহন করে।