নাজনীন আক্তার হ্যাপি
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
এক নজরে
| পূর্ণ নাম | নাজনীন আক্তার হ্যাপি |
| বর্তমান পরিচয় | আমাতুল্লাহ (ইসলামি জীবনে প্রত্যাবর্তনের পর গৃহীত নাম) |
| জন্ম | জানা যায়নি (জনসমক্ষে প্রকাশিত নয়) |
| জাতীয়তা | বাংলাদেশি |
| পেশা | লেখিকা; প্রাক্তন মডেল ও অভিনেত্রী |
| শিক্ষা | জানা যায়নি |
| উল্লেখযোগ্য কর্ম | আমার কিছু ভাবনা; হ্যাপি থেকে আমাতুল্লাহ (সাক্ষাৎকারভিত্তিক জীবনীগ্রন্থ, ২০১৭) |
| পুরস্কার | — |
পরিচিতি
নাজনীন আক্তার হ্যাপি (বর্তমান পরিচয়ে ‘আমাতুল্লাহ’) বাংলাদেশের সাবেক মডেল ও অভিনেত্রী। ২০১৩ সালে কিছু আশা কিছু ভালোবাসা চলচ্চিত্রের মাধ্যমে শোবিজ অঙ্গনে তার অভিষেক ঘটে। ২০১৪ সালের শেষদিকে জাতীয় দলের ক্রিকেটার রুবেল হোসেনের সঙ্গে বিতর্কিত সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ে তিনি সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে আসেন — তখন তিনি রুবেলের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ তোলেন। এই ঘটনার পরপরই তিনি অভিনয় ও মডেলিং জীবন সম্পূর্ণ ত্যাগ করে ইসলামি জীবনধারায় ফিরে আসেন এবং নিজের নাম পরিবর্তন করে রাখেন ‘আমাতুল্লাহ’।
দ্বীনের পথে প্রত্যাবর্তন
শোবিজ ছাড়ার পর হ্যাপি ইসলামের প্রাথমিক বিধানসহ পূর্ণাঙ্গ পর্দা গ্রহণ করেন। ফেসবুক থেকে নিজের সব ছবি মুছে দেন, ছেলে বন্ধুদের আনফ্রেন্ড করেন এবং অরাজনৈতিক ইসলামি সংগঠন তাবলীগ জামাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে দাওয়াতি কাজ শুরু করেন। হ্যাপি থেকে আমাতুল্লাহ বইয়ের বর্ণনা অনুযায়ী, একটি ইরানি সিনেমা দেখে তিনি ইসলামের পথে ফিরতে উদ্বুদ্ধ হন। উল্লেখ্য, ওই বইতে লেখিকার ইচ্ছানুযায়ী ক্রিকেটার রুবেল হোসেনের সঙ্গে সম্পর্কের অংশটি ইচ্ছাকৃতভাবে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।
লেখালেখি
২০১৭ সালে মাকতাবাতুল আজহার থেকে প্রকাশিত হয় হ্যাপি থেকে আমাতুল্লাহ: সাবেক অভিনেত্রী নাজনিন আক্তার হ্যাপির দ্বীনের পথে উঠে আসার অশ্রুভেজা ঈমানদীপ্ত সাক্ষাৎকার। সাদিকা সুলতানা সাকীর নেওয়া ১০৪টি প্রশ্নের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে আব্দুল্লাহ আল ফারুক এটি সম্পাদনা করেন। বইটিতে হ্যাপির শৈশব, তারুণ্য, অভিনয়জীবন এবং ইসলামি জীবনে প্রবেশের গল্প ধারাবাহিকভাবে বর্ণিত হয়েছে। প্রকাশের পর বইটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়; ফ্রান্সের আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপি এ নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করলে বইটির বিক্রি আরও বেড়ে যায়। এরপর হ্যাপি নিজে আমার কিছু ভাবনা নামে দ্বিতীয় বই লেখেন — নারীদের সালাত, সিয়াম, পর্দার গুরুত্ব, গুনাহ থেকে বাঁচার উপায় এবং ঈমান দৃঢ় রাখার নসিহাহ নিয়ে লেখা এই বইটি মেয়েদের দ্বীনের পথে চলার নির্দেশনা হিসেবে রচিত। এছাড়া তিনি মাসিক আদর্শ নারী পত্রিকায় নিয়মিত প্রবন্ধ লেখেন।
ব্যক্তিগত জীবন ও বর্তমান অবস্থা
সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, নড়াইল-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও আলেম মুফতি শহিদুল ইসলামের ছেলে মুফতি তালহা ইসলামের সঙ্গে তার বিয়ে হয়; তাদের একটি সন্তান রয়েছে। ২০২৫ সালের মে মাসে এক সংবাদ সম্মেলনে হ্যাপি স্বামীর বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করার কথা জানান এবং দীর্ঘদিনের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, যৌতুকের দাবি এবং স্বামীর একাধিক বিয়ের অভিযোগ তোলেন — এসব তার অভিযোগ হিসেবে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। বর্তমানে তিনি লেখালেখি ও দাওয়াতি কর্মকাণ্ডে যুক্ত রয়েছেন।
তথ্য-সীমাবদ্ধতা: তার জন্মতারিখ, জন্মস্থান ও শিক্ষাগত পটভূমি জনসমক্ষে নির্ভরযোগ্যভাবে প্রকাশিত হয়নি বলে এই প্রোফাইলে উল্লেখ করা হয়নি।