মূল কন্টেন্টে যান
তেৎসুকো কুরোয়নাগি

তেৎসুকো কুরোয়নাগি

সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

এক নজরে

বিষয় তথ্য
পূর্ণ নাম তেৎসুকো কুরোয়নাগি (黒柳徹子, Tetsuko Kuroyanagi)
জন্ম ৯ আগস্ট ১৯৩৩
জন্মস্থান টোকিও শহর, জাপান
জাতীয়তা জাপানি
পেশা অভিনেত্রী, টেলিভিশন উপস্থাপিকা, শিশুসাহিত্যিক, ইউনিসেফ শুভেচ্ছাদূত
শিক্ষা টোকিও কলেজ অব মিউজিক — অপেরা (ভোকাল মিউজিক)
উল্লেখযোগ্য কর্ম টক-শো তেতসুকোর রুম (১৯৭৫–বর্তমান); আত্মজীবনীমূলক বই টোটো-চান: জানালার পাশের ছোট্ট মেয়েটি (Totto-Chan: The Little Girl at the Window, ১৯৮১); টোটো-চান’স চিলড্রেন (১৯৯৭)
পুরস্কার জাপানিজ কালচারাল ব্রডকাস্টিং অ্যাওয়ার্ড; ইউনিসেফ গ্লোবাল লিডারশিপ ফর চিলড্রেন অ্যাওয়ার্ড (২০০০); অর্ডার অব দ্য সেক্রেড ট্রেজার (২০০৩); কিকুচি কান পুরস্কার (২০০৬); পারসন অব কালচারাল মেরিট (২০১৫)

পরিচিতি

তেৎসুকো কুরোয়নাগি (জন্ম ৯ আগস্ট ১৯৩৩) জাপানের কিংবদন্তি অভিনেত্রী, টেলিভিশন উপস্থাপিকা ও শিশুসাহিত্যিক। ১৯৭৫ সাল থেকে একটানা প্রচারিত তার টক-শো তেতসুকোর রুম (徹子の部屋) একই উপস্থাপকের সর্বাধিক পর্ব প্রচারের গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের অধিকারী — ২০২৩ নাগাদ এর পর্বসংখ্যা ১১ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। আর যুদ্ধকালীন শৈশবের স্মৃতিনির্ভর আত্মজীবনীমূলক বই টোটো-চান: জানালার পাশের ছোট্ট মেয়েটি জাপানে ৮০ লাখের বেশি ও বিশ্বব্যাপী আড়াই কোটি কপি বিক্রি হয়ে যুদ্ধোত্তর জাপানের সর্বাধিক বিক্রীত বইয়ের রেকর্ড গড়ে। ১৯৮৪ সালে এশিয়ার প্রথম ব্যক্তি হিসেবে ইউনিসেফ শুভেচ্ছাদূত নিযুক্ত হয়ে তিনি যুদ্ধ ও দুর্যোগপীড়িত শিশুদের জন্য দুই কোটি ডলারেরও বেশি তহবিল সংগ্রহ করেন।

জন্ম ও শিক্ষা

১৯৩৩ সালের ৯ আগস্ট টোকিও শহরে তার জন্ম। বাবা মোরিৎসুনা কুরোয়নাগি ছিলেন বেহালাবাদক ও কনসার্টমাস্টার; মা চো কুরোয়নাগি। শৈশবে তার ডাকনাম ছিল “টোটো-চান” — পরবর্তীতে এই নামেই তিনি তার বিখ্যাত আত্মজীবনীটি লেখেন। প্রথম স্কুল থেকে বহিষ্কারের পর তিনি টোমোয়ে গাকুয়েন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হন, যেখানে শিক্ষক সোসাকু কোবায়াশির অপ্রচলিত শিক্ষাপদ্ধতি তার জীবনে গভীর ছাপ ফেলে।

অপেরা গায়িকা হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে তিনি টোকিও কলেজ অব মিউজিকে ভর্তি হন এবং অপেরা বিভাগে পড়াশোনা করেন। কিন্তু স্নাতকের পর অভিনয় ও টেলিভিশন জগতের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে তিনি টোকিও হোসো গেকিদানে যোগ দেন — এভাবেই এনএইচকের চুক্তিবদ্ধ প্রথম জাপানি অভিনেত্রী হিসেবে তার ক্যারিয়ার শুরু হয়।

কর্মজীবন

১৯৫৩ সালে এনএইচকে ব্রডকাস্টিং থিয়েটার কোম্পানিতে যোগ দেওয়ার মধ্য দিয়ে কুরোয়নাগি জাপানের প্রথম টেলিভিশন অভিনেত্রী হিসেবে ইতিহাস গড়েন; ১৯৫৪ সালে রেডিও নাটক ইয়াম্বো নিম্বো টোম্বো-তে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করে তার অভিষেক হয়। ১৯৬৫–৬৬ সালে তিনি জনপ্রিয় টিভি সিরিজ থান্ডারবার্ডস-এর জাপানি সংস্করণে লেডি পেনেলোপির কণ্ঠ দেন। ১৯৭২ সালে তিনি নিউইয়র্কে অভিনয় অধ্যয়ন করতে যান।

১৯৭৫ সালে তিনি নিজের দুপুরের টক-শো তেতসুকোর রুম শুরু করেন — এটি ছিল জাপানি টেলিভিশনের প্রথম টক-শো। টিভি আসাহিতে প্রচারিত এই অনুষ্ঠানে টেলিভিশন, ক্রীড়া ও রাজনীতিসহ নানা অঙ্গনের তারকারা অতিথি হিসেবে আসেন। কুরোয়নাগির উষ্ণ আন্তরিকতা ও বাকচাতুর্য অনুষ্ঠানটিকে জাপানের সাংস্কৃতিক প্রপঞ্চে পরিণত করে; ১৯৯০-এর দশকের গোড়ার দিকে তিনি দুই হাজারের বেশি দেশি-বিদেশি অতিথির সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন। ২০১১ সালে অনুষ্ঠানটি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে স্থান পায়, ২০১৫ সালে এর দশ হাজারতম পর্ব প্রচারিত হয়।

সাহিত্যজীবন

১৯৮১ সালে প্রকাশিত টোটো-চান: জানালার পাশের ছোট্ট মেয়েটি (窓ぎわのトットちゃん) তার ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় টোমোয়ে গাকুয়েনে পাওয়া অপ্রচলিত শিক্ষা ও শিক্ষক সোসাকু কোবায়াশির প্রতি শ্রদ্ধা নিয়ে লেখা এই শৈশবস্মৃতি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই জাপানের ইতিহাসে সর্বাধিক বিক্রীত বইয়ের রেকর্ড গড়ে। ১৯৮৪ সালে ডরোথি ব্রিটনের ইংরেজি অনুবাদ প্রকাশিত হয়; এরপর বইটি ত্রিশের বেশি দেশে প্রকাশিত হয় এবং দুই দফা টেলিভিশন ধারাবাহিকে রূপান্তরিত হয়। ১৯৯৭ সালে তিনি টোটো-চান’স চিলড্রেন প্রকাশ করেন, যেখানে ১৯৮৪–৯৬ সালে ইউনিসেফ শুভেচ্ছাদূত হিসেবে কাজের অভিজ্ঞতা বর্ণিত হয়েছে। ২০২৩ সালে, ৪২ বছর পর, তিনি বইটির সিক্যুয়েল প্রকাশ করেন — যেখানে প্রথম বইয়ের পরবর্তী জীবন, যুদ্ধকাল ও প্রাথমিক ক্যারিয়ারের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে।

দাতব্য কাজ

১৯৮৪ সালে, দাতব্য কাজের স্বীকৃতি হিসেবে, কুরোয়নাগি ইউনিসেফ শুভেচ্ছাদূত নিযুক্ত হন — এশিয়ার প্রথম ব্যক্তি হিসেবে এই পদ পান তিনি। ১৯৮০-৯০-এর দশকে তিনি এশিয়া ও আফ্রিকার বহু উন্নয়নশীল দেশ সফর করেন, যুদ্ধ ও দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত শিশুদের সাহায্য ও তাদের দুর্দশা সম্পর্কে আন্তর্জাতিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করেন। ১৯৮৯ সালে অ্যাঙ্গোলা সফর ছিল জাপান থেকে ওই দেশে প্রথম নথিভুক্ত ভিআইপি সফর। টেলিভিশনে তহবিল-সংগ্রহ অভিযানের মাধ্যমে তিনি ইউনিসেফ কর্মসূচির জন্য দুই কোটি ডলারের বেশি সংগ্রহ করেন এবং টোটো-চান-এর রয়্যালটির অর্থও ইউনিসেফে দান করেন।

তিনি টোটো ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন — এই ফাউন্ডেশন প্রতিবন্ধী, বিশেষ করে বধির ব্যক্তিদের সহায়তা করে, বধির অভিনেতাদের পেশাগত প্রশিক্ষণ দেয় ও বধির নাট্যপ্রদর্শনীর আয়োজন করে। তিনি দুইবার যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল থিয়েটার অব দ্য ডেফকে জাপানে আনেন এবং তাদের সঙ্গে সাংকেতিক ভাষায় অভিনয় করেন। এছাড়া তিনি ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ফান্ড ফর নেচারের জাপান শাখার পরিচালক।

পুরস্কার ও উত্তরাধিকার

মিডিয়া ও টেলিভিশনে অবদানের জন্য তিনি জাপানিজ কালচারাল ব্রডকাস্টিং অ্যাওয়ার্ড পান — যা জাপানের টেলিভিশনের সর্বোচ্চ সম্মাননা। তেতসুকোর রুম-এর জন্য তিনি চতুর্দশবার জাপানের প্রিয় টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব নির্বাচিত হন। ২০০০ সালে তিনি ইউনিসেফের গ্লোবাল লিডারশিপ ফর চিলড্রেন অ্যাওয়ার্ডের প্রথম প্রাপক হন; ২০০৩ সালের মে মাসে শিশুদের জন্য দুই দশকের সেবার স্বীকৃতি হিসেবে অর্ডার অব দ্য সেক্রেড ট্রেজার পান। ২০০৬ সালে কিকুচি কান পুরস্কার এবং ২০১৫ সালে জাপানের “পারসন অব কালচারাল মেরিট” সম্মানে ভূষিত হন তিনি। লেখক ডোনাল্ড রিচি তাকে “জাপানের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও শ্রদ্ধেয় নারী” আখ্যা দিয়েছিলেন। সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে সক্রিয় এই শিল্পী আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়া প্রথম জাপানি তারকাদের একজন হিসেবে বিবেচিত।

বাংলা সাহিত্যের সঙ্গে থাকুন

নতুন বই, কবিতা ও লেখক আপডেট পেতে আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন।