ড. হানান লাশিন
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
এক নজরে
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| পূর্ণ নাম | ড. হানান লাশিন (আরবি: حنان لاشين) |
| জন্ম | ১৯৭১ (নির্দিষ্ট তারিখ যাচাই করা যায়নি) |
| জাতীয়তা | মিশরীয় |
| পেশা | ঔপন্যাসিক, লেখিকা, পশুচিকিৎসক |
| শিক্ষা | আলেকজান্দ্রিয়া বিশ্ববিদ্যালয় — পশুচিকিৎসা বিষয়ে ব্যাচেলর ডিগ্রি |
| উল্লেখযোগ্য কর্ম | ফ্যান্টাসি সিরিজ মামলাকাত আল-বালাগা — ইকাদোলি (২০১৭), ওপাল (২০১৮), আমানুস (২০১৯), কুইকুল (২০২০), সোকোত্রা (২০২১); গেঝল আল-বানাত, আল-হালা আল-মুকাদ্দাসা |
| পুরস্কার | আমর খালেদ সায়েন্স-ফিকশন উপন্যাস প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান (২০০৫) |
পরিচিতি
ড. হানান লাশিন (জন্ম ১৯৭১) একজন মিশরীয় লেখিকা ও ঔপন্যাসিক। পেশায় পশুচিকিৎসক হলেও তিনি আরব বিশ্বের একজন জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছেন। তিনি মিশরের রাইটার্স ইউনিয়নের সদস্য। তাঁর ফ্যান্টাসি সিরিজ ‘মামলাকাত আল-বালাগা’ (বাগ্মিতার রাজ্য) আরব পাঠকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। (নামের বানান নিয়ে ভিন্নতা আছে — কোনো কোনো সূত্রে ‘হানান লাশিন’, কোনো কোনো ইংরেজি সূত্রে ‘Hanan Lachine’ লেখা হয়; এখানে প্রচলিত বানান ব্যবহার করা হয়েছে।)
শিক্ষা ও কর্মজীবন
তিনি আলেকজান্দ্রিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পশুচিকিৎসা বিষয়ে ব্যাচেলর ডিগ্রি অর্জন করেন — এ কারণে তাঁকে ‘ড.’ হিসেবে সম্বোধন করা হয়। লেখালেখির পাশাপাশি তিনি ‘তারিক আল-ইসলাম’, ‘সাইদ আল-ফাওয়ায়েদ’ ওয়েবসাইট, আল-আলুকা নেটওয়ার্ক, ‘মুমকিন’ যুব ম্যাগাজিন এবং ‘বি বাসাতা’ ইলেকট্রনিক ম্যাগাজিনে নানা প্রবন্ধ লিখেছেন। তিনি ‘আনাস ফি বেলাদ আল-আজাইব’ নামে একটি রেডিও ধারাবাহিকের কাহিনি ও চিত্রনাট্য লেখেন, যা আমর খালেদের ওয়েবসাইটে প্রচারিত হয় এবং এতে ওয়াজদি আল-আরাবি ও আমর আল-কাদির মতো শিল্পীরা অভিনয় করেন। রমজান মাসে ওই ওয়েবসাইটেই তাঁর লেখা ‘মুসাফির জাদাহু আল-কুরআন’ ও ‘মুথাকারাত সাইম’ নামে দুটি দৈনিক ধারাবাহিক প্রচারিত হয়।
সাহিত্যজীবন
তাঁর উপন্যাস আল-সিরদাব — আরব বিজ্ঞানী সাবিত ইবন কুররাকে নিয়ে লেখা — ২০০৫ সালে আমর খালেদ সায়েন্স-ফিকশন উপন্যাস প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করে। এ ছাড়া তাঁর উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে গেঝল আল-বানাত (Cotton Candy) ও আল-হালা আল-মুকাদ্দাসা (The Holy Orb)। তাঁর লেখা অলেখ বইয়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কুনি সাহাবিয়া (Be a Companion), মামনু আল-দাহেক (Laughing is Not Allowed), মানারাত আল-হোব (Beacons of Love) ও কিতার লেল জানা (Train to Heaven)।
তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত কাজ পাঁচ খণ্ডের ফ্যান্টাসি পেন্টালজি ‘মামলাকাত আল-বালাগা’ (বাগ্মিতার রাজ্য): ইকাদোলি (২০১৭), ওপাল (২০১৮), আমানুস (২০১৯), কুইকুল (২০২০) ও সোকোত্রা (২০২১)। এই সিরিজের গল্প আবর্তিত হয় এক কাল্পনিক রাজ্যে, যেখানে বইগুলো জীবন্ত — তারা শ্বাস নেয়, পাঠকের সঙ্গে সহানুভূতি রাখে। বইগুলো এমন পাঠক-যোদ্ধাদের ডেকে নেয় যারা বইয়ে লেখা মূল্যবোধে বিশ্বাস করে; নির্বাচিত পাঠকদের বাজপাখির পিঠে চড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয় সেই রাজ্যে, যেখানে তারা ভালো ও মন্দের লড়াইয়ে অংশ নেয়। পাঁচটি উপন্যাস পরস্পর সংযুক্ত হলেও প্রতিটির পটভূমি ও চরিত্র আলাদা — প্রথম উপন্যাসের নামটি নুবীয় ভাষার শব্দ থেকে নেওয়া, যার অর্থ ‘আমি তোমাকে ভালোবাসি’। উপন্যাসগুলোতে প্রেম, বর্ণবাদ, বিশ্বাসঘাতকতা, ভ্রাতৃত্ব ও ক্ষমতার দ্বন্দ্বের মতো বিষয় আলোচিত হয়েছে।
ব্যক্তিগত জীবন ও তথ্য-সীমাবদ্ধতা
তাঁর জন্মের নির্দিষ্ট তারিখ ও স্থান, পারিবারিক জীবন সম্পর্কে প্রকাশ্যে যাচাইযোগ্য নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি; উপলব্ধ সূত্রগুলোতে শুধু জন্মসাল ১৯৭১ উল্লেখ আছে। এই জীবনীতে দেওয়া তথ্য মূলত ইংরেজি উইকিপিডিয়া ও আরব বই-বিক্রেতা সূত্রগুলোর ওপর নির্ভরশীল। নতুন যাচাইযোগ্য তথ্য পাওয়া গেলে পরিচিতিটি হালনাগাদ করা হবে।