মূল কন্টেন্টে যান
ড. সালমান আল আওদাহ

ড. সালমান আল আওদাহ

সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

এক নজরে

নাম ড. সালমান আল আওদাহ
জন্ম ১৪ ডিসেম্বর ১৯৫৬ (কিছু সূত্রে ১৯৫৫), আল-বাসর, বুরাইদার কাছে, আল-কাসিম, সৌদি আরব
জাতীয়তা সৌদি
পেশা ইসলামি পণ্ডিত, লেখক, ধর্মপ্রচারক
ধর্মীয় পরিচয় সুন্নি ইসলাম, হাম্বলি মাযহাব
শিক্ষা ইমাম মুহাম্মদ বিন সঊদ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইসলামি আইনশাস্ত্রে বিএ, এমএ ও পিএইচডি
পরিচিতি ইসলাম টুডে ওয়েবসাইটের আরবি সংস্করণের পরিচালক; প্রায় পঞ্চাশটি গ্রন্থের রচয়িতা
বর্তমান অবস্থা ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর থেকে সৌদি কর্তৃপক্ষের হেফাজতে বন্দি

পরিচিতি

সালমান বিন ফাহদ বিন আবদুল্লাহ আল আওদাহ (আরবি: سلمان العودة; সংক্ষেপে সালমান আল আওদাহ; উপনাম আবু মুআয) সৌদি আরবের একজন সুপরিচিত ইসলামি পণ্ডিত ও লেখক। তিনি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর মুসলিম স্কলার্সের সদস্য ও ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য এবং ইসলাম টুডে ওয়েবসাইটের আরবি সংস্করণের পরিচালক ছিলেন। টেলিভিশন অনুষ্ঠান উপস্থাপনা ও সংবাদপত্রে নিবন্ধ লেখার মধ্য দিয়ে তিনি আরব বিশ্বে ব্যাপক পরিচিতি অর্জন করেন। ইসলামি আইন, হাদিস ও নৈতিকতা বিষয়ে তাঁর প্রায় পঞ্চাশটি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে বলে জানা যায়।

জন্ম ও শিক্ষা

তাঁর জন্ম ১৯৫৬ সালের ১৪ ডিসেম্বর (কিছু সূত্রে ১৯৫৫ উল্লেখ আছে), সৌদি আরবের মধ্যাঞ্চলের আল-কাসিম প্রদেশে বুরাইদা শহরের কাছের আল-বাসর গ্রামে। শৈশব আল-বাসরে কাটিয়ে তিনি বুরাইদায় চলে যান। বুরাইদার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তিনি আরবি ব্যাকরণ, হাম্বলি ফিকহ ও হাদিস অধ্যয়ন করেন; আবদুল আজিজ ইবনে বায, মুহাম্মদ ইবনে উসাইমিন ও আবদুল্লাহ ইবনে জিবরিনের মতো পণ্ডিতদের কাছে তিনি শিক্ষা লাভ করেন। পরে ইমাম মুহাম্মদ বিন সঊদ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইসলামি আইনশাস্ত্রে স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন। স্নাতকোত্তর থিসিসের বিষয় ছিল সুন্নাহর আলোকে ইসলামের “অপরিচিতত্ব” ও তার শরয়ি বিধান।

কর্মজীবন

শিক্ষাজীবন শেষে তিনি কাসিমের শরিয়া অনুষদের অধীন বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করেন এবং বুরাইদার প্রধান মসজিদে সাপ্তাহিক ও দৈনিক পাঠদান করতেন। তাঁর পাঠদানের বিষয় ছিল হাদিস সংকলন (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম), কুরআনের তাফসির এবং ফিকহের মৌলিক গ্রন্থ। ২০০১ সাল থেকে তিনি ইসলাম টুডে ওয়েবসাইটের পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন; ওয়েবসাইটটি চারটি ভাষায় পরিচালিত হতো বলে জানা যায়। তিনি এমবিসি টিভিতে অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করতেন এবং ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী শ্রোতাদের কাছে পাঠদান ও প্রশ্নোত্তর পরিচালনা করতেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর লাখো অনুসারী ছিল।

রচনাবলি

তাঁর প্রকাশিত প্রায় পঞ্চাশটি গ্রন্থের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটির ইংরেজি শিরোনাম হলো: The First Strangers, Characteristics of the Strangers, Withdrawing from Society and Participating in It, A Discussion with Sheikh Muhammad al-Ghazali, Who Has the Right to Engage in Independent Juristic Reasoning? এবং Guidelines for Studying Islamic Law। এছাড়া তাঁর Banati (ইংরেজি অনুবাদ: My Daughters) গ্রন্থে তিনি নারী ও কন্যাসন্তান বিষয়ে লিখেছেন। তাঁর বহু রচনা ইসলাম টুডে ওয়েবসাইটের আরবি পাতায় পাওয়া যেত।

ব্যক্তিগত জীবন

তিনি বিবাহিত ছিলেন; স্ত্রীর নাম হায়া আল সায়ারি। তাঁর একাধিক সন্তান রয়েছে; জ্যেষ্ঠ পুত্রের নাম মুআয (উপনাম আবু মুআয এখান থেকেই)। পুত্র আবদুল্লাহ আল আওদাহ পরবর্তীকালে বাবার মুক্তির পক্ষে আন্তর্জাতিকভাবে সোচ্চার হন। ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে এক সড়ক দুর্ঘটনায় তাঁর স্ত্রী হায়া ও পুত্র হিশাম মারা যান।

কারাবরণ

১৯৯৩ সালে তিনি সৌদি সরকারের সমালোচনাকারী ভিন্নমতাবলম্বী সংগঠন কমিটি ফর দ্য ডিফেন্স অব লেজিটিমেট রাইটসের অন্যতম নেতা ছিলেন; এর জেরে ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত তিনি কারাবন্দি ছিলেন। মুক্তির পর তিনি ধর্মীয় বক্তা হিসেবে সক্রিয় হন।

২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে সৌদি কর্তৃপক্ষ তাঁকে পুনরায় আটক করে। উইকিপিডিয়া ও সংবাদসূত্রের তথ্য অনুযায়ী, কাতার-বিষয়ক একটি নির্দিষ্ট টুইট করতে কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অমান্য করার জেরে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরের শুনানিতে প্রসিকিউশন তাঁর মৃত্যুদণ্ড চায়। এরপর থেকে তিনি দীর্ঘদিন নির্জন কারাবাসে ছিলেন; মানবাধিকার সংগঠনগুলো (অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ) তাঁর মুক্তির দাবি জানিয়ে আসছে। ২০২৬ সালের তথ্য অনুযায়ী তিনি আল-হায়ের কারাগারে বন্দি রয়েছেন এবং তাঁর বিচারকাজ ২০২১ সালের জুলাইয়ের শুনানির পর থেকে স্থগিত রয়েছে। তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতির (শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তির আংশিক ক্ষতি) খবরও প্রকাশিত হয়েছে।

উত্তরাধিকার

সালমান আল আওদাহ সৌদি আরবের সাহওয়া আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ এবং আধুনিক যুগের প্রভাবশালী আরবি ভাষার ইসলামি বক্তাদের একজন হিসেবে বিবেচিত হন। তাঁর গ্রন্থ, টেলিভিশন অনুষ্ঠান ও অনলাইন পাঠদান আরব বিশ্বের বহু পাঠক-শ্রোতার কাছে পৌঁছেছিল। তাঁর চলমান বন্দিদশা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আলোচনায় একটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হয়ে রয়েছে।

বাংলা সাহিত্যের সঙ্গে থাকুন

নতুন বই, কবিতা ও লেখক আপডেট পেতে আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন।