ড. মুস্তফা সিবাঈ
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
এক নজরে
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| পূর্ণ নাম | মুস্তফা আস-সিবাঈ (مصطفى السباعي) |
| জন্ম | ১৯১৫, হোমস, সিরিয়া (তৎকালীন উসমানি সাম্রাজ্য) — সুনির্দিষ্ট তারিখ প্রকাশিত সূত্রে পাওয়া যায়নি |
| মৃত্যু | ৩ অক্টোবর ১৯৬৪, হোমস, সিরিয়া — বয়স ৪৮–৪৯ |
| জাতীয়তা | সিরীয় |
| পেশা | ইসলামি চিন্তাবিদ, দামেস্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও ডিন, রাজনৈতিক নেতা |
| শিক্ষা | আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়, কায়রো — ইসলামি ধর্মতত্ত্ব; পিএইচডি (১৯৪৯) |
| উল্লেখযোগ্য কর্ম | আদ-দীন ওয়াদ-দাওলা ফিল-ইসলাম (ইসলামে ধর্ম ও রাষ্ট্র, ১৯৫৪); ইশতিরাকিয়্যাতুল ইসলাম (ইসলামের সমাজতন্ত্র); হাকাযা আল্লামাতনিল-হায়াত (জীবন আমাকে এভাবেই শিখিয়েছে); সুন্নাহর ভূমিকা ও সীরাত-বিষয়ক গ্রন্থাবলি |
| রাজনৈতিক ভূমিকা | সিরীয় মুসলিম ব্রাদারহুডের প্রতিষ্ঠাতা ও নেতা (১৯৪৬–১৯৬১) |
পরিচিতি
মুস্তফা আস-সিবাঈ (১৯১৫–১৯৬৪) ছিলেন সিরীয় ইসলামি চিন্তাবিদ, লেখক, অধ্যাপক ও রাজনৈতিক সংগঠক। তিনি ১৯৪৬ সালে সিরীয় মুসলিম ব্রাদারহুড প্রতিষ্ঠা করে ১৯৬১ সাল পর্যন্ত এর নেতৃত্ব দেন এবং দামেস্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামি আইন ও ধর্মতত্ত্ব পড়াতেন। ফিকহ ও সুন্নাহ-গবেষণার পণ্ডিত হিসেবে তিনি যেমন সমাদৃত, তেমনি ইসলাম ও সমাজতন্ত্রের সামঞ্জস্য-বিষয়ক তার রচনা বিংশ শতাব্দীর আরব বুদ্ধিজীবী অঙ্গনে উল্লেখযোগ্য আলোচনার জন্ম দেয়।
জন্ম ও শিক্ষা
১৯১৫ সালে সিরিয়ার হোমস শহরে (তৎকালীন উসমানি সাম্রাজ্য) একটি আলেম পরিবারে সিবাঈর জন্ম। তার বাবা ও দাদা হোমসের প্রধান মসজিদের খতিবের দায়িত্ব পালন করতেন। ১৯৩৩ সালে তিনি কায়রোর আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামি ধর্মতত্ত্ব পড়তে যান। মিশরে অবস্থানকালে তিনি মিশরীয় মুসলিম ব্রাদারহুডের প্রতিষ্ঠাতা হাসান আল-বান্নার বক্তৃতা শুনতেন এবং ১৯৩০ সালে ব্রাদারহুডে যোগ দেন। ১৯৪৯ সালে তিনি পিএইচডি গবেষণা সম্পন্ন করেন — গবেষণার বিষয় ছিল আইন প্রণয়নে সুন্নাহর অবস্থান। ফরাসি ঔপনিবেশিক শাসনের বিরোধিতা করে হোমসে লিফলেট বিলির দায়ে ১৯৩১ সালে তিনি প্রথম গ্রেপ্তার হন; পরে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের অভিযোগে তাকে ফিলিস্তিনে নির্বাসিত ও কারারুদ্ধও করা হয়।
কর্মজীবন
সিরিয়ায় ফিরে সিবাঈ দামেস্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শুরু করেন এবং ১৯৪০ সালে ধর্মতত্ত্ব অনুষদের ডিন নিযুক্ত হন। ১৯৪১ সালে তিনি “শাবাব মুহাম্মাদ” (মুহাম্মাদের যুবকরা) নামে একটি ধর্মীয় যুব সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন, যা ফরাসি ম্যান্ডেট-বিরোধী আন্দোলনে ন্যাশনাল ব্লকের সঙ্গে যুক্ত হয়। ১৯৪৬ সালে তিনি মুসলিম ব্রাদারহুডের সিরীয় শাখা প্রতিষ্ঠা করেন এবং ১৯৬১ সাল পর্যন্ত এর নেতৃত্ব দেন, এই সময়ে কয়েক দফা সংসদীয় নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেন। ১৯৪৮ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধে তিনি সিরীয় ব্রাদারহুড স্বেচ্ছাসেবীদের একটি ইউনিটের নেতৃত্ব দেন।
১৯৫৮ সালে সংযুক্ত আরব প্রজাতন্ত্র গঠনের পর জামাল আব্দুন নাসের মুসলিম ব্রাদারহুড নিষিদ্ধ করলে সিবাঈ ভূগর্ভে চলে যান; ১৯৬১ সালে UAR ভেঙে দেওয়া অভ্যুত্থানকে তিনি সমর্থন করেন। তবে ১৯৬৩ সালে বাথ সরকার ক্ষমতায় এসে ব্রাদারহুড পুনরায় নিষিদ্ধ করে এবং তার বহু গ্রন্থ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।
সাহিত্যজীবন ও রচনাবলি
সিবাঈ ফিকহ ও সুন্নাহ-শাস্ত্রের স্বীকৃত পণ্ডিত ছিলেন। তার প্রধান গ্রন্থগুলোর মধ্যে আছে:
- আদ-দীন ওয়াদ-দাওলা ফিল-ইসলাম (ইসলামে ধর্ম ও রাষ্ট্র, ১৯৫৪)
- ইশতিরাকিয়্যাতুল ইসলাম (ইসলামের সমাজতন্ত্র, ১৯৫৯/১৯৬০) — এতে তিনি ইসলাম সমাজতন্ত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে যুক্তি উপস্থাপন করেন; বইটি মিশরে পুনর্মুদ্রিত হয় এবং মিশরীয় সরকারের কয়েকজন সদস্যের সমর্থন পায়, যদিও সিবাঈ নাসেরবাদের সমর্থনে তার বইয়ের ব্যবহারের বিরোধিতা করেছিলেন
- হাকাযা আল্লামাতনিল-হায়াত (জীবন আমাকে এভাবেই শিখিয়েছে)
- সুন্নাহর ভূমিকা-বিষয়ক গবেষণাগ্রন্থ (ইংরেজি অনুবাদ: The Role of the Sunnah in Islamic Legislation)
- সীরাত-বিষয়ক The Life of Prophet Muhammad: Highlights and Lessons (ইংরেজি অনুবাদ, ২০০৪)
- Some Glittering Aspects of the Islamic Civilization (ইংরেজি অনুবাদ)
এছাড়া তিনি আল-মানার, আল-মুসলিমীন ও হাদারাতুল ইসলাম পত্রিকা সম্পাদনা করতেন। ১৯৬২ সালে প্রকাশিত একটি প্রবন্ধে তিনি ইসলামি আইনে নারীর অধিকার নিয়েও আলোচনা করেন।
ব্যক্তিগত জীবন ও মৃত্যু
তার পারিবারিক জীবন সম্পর্কে প্রকাশিত সূত্রে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। জীবনের শেষ আট বছর তিনি হেমিপেরেসিসে (অর্ধাঙ্গ পক্ষাঘাত) ভুগছিলেন। ১৯৬৪ সালের ৩ অক্টোবর হোমসে তার মৃত্যু হয়।
উত্তরাধিকার
সিরীয় ইসলামি আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা-ব্যক্তিত্ব হিসেবে সিবাঈ সিরিয়ার আধুনিক ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য স্থান অধিকার করে আছেন। তার সুন্নাহ-গবেষণা ও সীরাত-রচনা ইংরেজিসহ বহু ভাষায় অনূদিত হয়ে বিশ্বব্যাপী পাঠকের কাছে পৌঁছেছে এবং ইসলামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়।