মূল কন্টেন্টে যান
ড.তোয়াহা হুসাইন

ড.তোয়াহা হুসাইন

সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

এক নজরে

পূর্ণ নাম তাহা হুসাইন (طه حسين)
উপাধি আমীদুল আদাবিল আরাবি (আরবি সাহিত্যের ডিন)
জন্ম ১৪ নভেম্বর ১৮৮৯ (কিছু সূত্রে ১৫ নভেম্বর), মাগাঘা, মিনিয়া, মিশর
মৃত্যু ২৮ অক্টোবর ১৯৭৩, কায়রো, মিশর
জাতীয়তা মিশরীয়
পেশা লেখক, সাহিত্য সমালোচক, শিক্ষাবিদ
পুরস্কার অর্ডার অব দ্য নাইল; সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারে ২১ বার মনোনয়ন
বাংলা সংস্করণ গোলামীর শিকল ভেঙে (মূল: আল-ওয়া’দুল হক্ক, ১৯৪৯)

পরিচিতি

ড. তাহা হুসাইন ছিলেন বিশ শতকের অন্যতম প্রভাবশালী মিশরীয় লেখক ও বুদ্ধিজীবী এবং আরব রেনেসাঁ (নাহদা) ও আরব বিশ্বের আধুনিকতাবাদী আন্দোলনের অগ্রদূত। তাঁর উপাধি ছিল ‘আমীদুল আদাবিল আরাবি’ — আরবি সাহিত্যের ডিন। শৈশবে অন্ধত্ব সত্ত্বেও তিনি শিক্ষা, সাহিত্য ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব — তিন ক্ষেত্রেই শিখরে পৌঁছান; সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারে তিনি একুশবার মনোনীত হয়েছিলেন। বাংলা পাঠকের কাছে তিনি ‘গোলামীর শিকল ভেঙে’ বইয়ের লেখক হিসেবে পরিচিত — সাহাবায়ে কেরামের জীবনভিত্তিক তাঁর আরবি রচনা ‘আল-ওয়া’দুল হক্ক’ (১৯৪৯)-এর বাংলা অনুবাদ, যা প্রচলিত সংস্করণে রফীক আহমদের অনুবাদে প্রকাশিত। (পরিচয়-টীকা: ‘ড.তোয়াহা হুসাইন’ নামে আলাদা কোনো বাংলাদেশি লেখকের নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি; সাইটের বই ও অনুবাদকের তথ্য মিশরীয় লেখক তাহা হুসাইনের সঙ্গেই মিলে যায়।)

জন্ম ও শিক্ষা

তাহা হুসাইন ১৮৮৯ সালের নভেম্বরে (১৪ বা ১৫ তারিখ — সূত্রভেদে ভিন্ন) মিশরের মিনিয়া গভর্নরেটের মাগাঘা এলাকার ইজবাত আল-কিলো গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তেরো সন্তানের মধ্যে তিনি ছিলেন সপ্তম। দুই বছর বয়সে তিনি চোখের রোগে আক্রান্ত হন এবং অদক্ষ চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসার ফলে অন্ধ হয়ে যান। কুত্তাব (গ্রামের পাঠশালা) শেষে তিনি আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্ম ও আরবি সাহিত্য পড়েন, কিন্তু প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থায় তিনি সন্তুষ্ট ছিলেন না। ১৯০৮ সালে ধর্মনিরপেক্ষ কায়রো বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে দরিদ্র ও অন্ধ হওয়া সত্ত্বেও তিনি সেখানে ভর্তির সুযোগ পান। ১৯১৪ সালে তিনি সংশয়বাদী কবি-দার্শনিক আবুল আলা আল-মা’আররির ওপর থিসিস লিখে পিএইচডি অর্জন করেন — বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম পিএইচডিগুলোর একটি। পরে ফ্রান্সের মঁপেলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে সাহিত্য, ইতিহাস, ফরাসি ও ল্যাটিন পড়েন; সেখানে তাঁকে পড়ে শোনাতেন সুজান ব্রেসো, যিনি ১৯১৭ সালে তাঁর স্ত্রী হন। এরপর সরবোন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিউনিসীয় ইতিহাসবিদ ইবনে খালদুনের ওপর গবেষণা করে তিনি দ্বিতীয় পিএইচডি (১৯১৭) অর্জন করেন।

কর্মজীবন

১৯১৯ সালে মিশরে ফিরে তিনি কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাসের অধ্যাপক নিযুক্ত হন; পরে আরবি সাহিত্য ও সেমিটিক ভাষার অধ্যাপক হন। কায়রোর আরবি ভাষা একাডেমিতে তিনি ‘আল-মু’জাম আল-কাবির’ (বৃহৎ অভিধান) প্রকল্পের দায়িত্বে ছিলেন এবং একাডেমির প্রধানও হন। তিনি আলেকজান্দ্রিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা রেক্টর। ১৯৫০ সালে তিনি মিশরের শিক্ষামন্ত্রী নিযুক্ত হন; এই দায়িত্বে তিনি সবার জন্য বিনামূল্যে শিক্ষার আহ্বান জানান এবং বহু কুরআনি মক্তবকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রূপান্তরসহ নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখেন।

সাহিত্যজীবন ও রচনাবলি

ষাটের বেশি বই ও ১,৩০০ প্রবন্ধের লেখক তাহা হুসাইনের প্রধান রচনার মধ্যে রয়েছে আত্মজীবনী ‘আল-আইয়াম’ (দ্য ডেজ, ১৯২৯), সাহিত্য সমালোচনা ‘ফি আশ-শি’রিল জাহিলি’ (প্রাক-ইসলামি কবিতা প্রসঙ্গে, ১৯২৬), ‘মুস্তাকবালুস সাকাফা ফি মিসর’ (মিশরে সংস্কৃতির ভবিষ্যৎ, ১৯৩৮), ‘আল-ফিতনাতুল কুবরা’, ‘আলা হামিশিস সীরা’, ‘আশ-শাইখান’ ও ‘মির’আতুল ইসলাম। ১৯২৬ সালের ‘ফি আশ-শি’রিল জাহিলি’ বইয়ে প্রাক-ইসলামি কবিতার প্রামাণ্যতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করায় আল-আজহারের ধর্মীয় পণ্ডিতদের তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়েন; সরকারি কৌঁসুলি বিষয়টিকে একাডেমিক গবেষকের মতামত বলে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেননি, যদিও ১৯৩১ সালে তিনি কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ের পদ হারান। তাঁর ইসলামি ইতিহাসভিত্তিক রচনা ‘আল-ওয়া’দুল হক্ক’ (১৯৪৯) প্রথম হিজরি শতকের ইসলামের ইতিহাসের একটি অংশকে গল্পধর্মী ঢঙে উপস্থাপন করে — ছয়জন বিশিষ্ট সাহাবির জীবনকথা নিয়ে।

ব্যক্তিগত জীবন

১৯১৭ সালে তিনি ফরাসি নাগরিক সুজান ব্রেসোকে (১৮৯৫–১৯৮৯) বিয়ে করেন; তাঁদের দুই সন্তান — কন্যা আমিনা ও পুত্র মুঈনিস। স্ত্রী তাঁর জীবনসঙ্গী ও আজীবন পাঠসহায়ক ছিলেন।

মৃত্যু ও উত্তরাধিকার

১৯৭৩ সালের ২৮ অক্টোবর কায়রোয় তাঁর মৃত্যু হয়। আধুনিক আরবি সাহিত্যের ‘ডিন’ হিসেবে তাঁর প্রভাব সমগ্র আরব বিশ্বে বিস্তৃত; কায়রোতে তাঁর বাড়ি ‘তাহা হুসাইন জাদুঘর’ হিসেবে সংরক্ষিত।

বাংলা সাহিত্যের সঙ্গে থাকুন

নতুন বই, কবিতা ও লেখক আপডেট পেতে আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন।