মূল কন্টেন্টে যান
ড. জিয়াউর রাহমান আজমি

ড. জিয়াউর রাহমান আজমি

সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

এক নজরে

বিষয় তথ্য
পূর্ণ নাম ড. জিয়াউর রাহমান আজমি (Ziya-ur-Rahman Azmi); অন্য নাম: আবু আহমদ মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল-আজমি
জন্ম ১৯৪৩ (সঠিক তারিখ জানা নেই); জন্মনাম: বাংকে লাল
জন্মস্থান আজমগড়, উত্তর প্রদেশ, ব্রিটিশ ভারত
মৃত্যু ৩০ জুলাই ২০২০, মদিনা, সৌদি আরব
জাতীয়তা সৌদি আরবীয় (ভারতীয় বংশোদ্ভূত)
পেশা ইসলামি পণ্ডিত, হাদিস-গবেষক, অধ্যাপক; হাদিস বিভাগের ডিন
শিক্ষা শিবলী ন্যাশনাল কলেজ, আজমগড়; জামিয়া দারুসসালাম, উমরাবাদ; ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় মদিনা; উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়, মক্কা; আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়, কায়রো
উল্লেখযোগ্য কর্ম আল-জামি আল-কামিল ফি আল-হাদিস আস-সহীহ আশ-শামিল; আবু হুরায়রা ফি দাওই মারওইয়াতিহ; দিরাসাত ফি আল-জারহ ওয়া আত-তা’দিল; কুরান বিশ্বকোষ (হিন্দি)

পরিচিতি

ড. জিয়াউর রাহমান আজমি (১৯৪৩–২০২০) ছিলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত সৌদি ইসলামি পণ্ডিত, হাদিস-গবেষক ও অধ্যাপক। উত্তর প্রদেশের আজমগড়ের একটি হিন্দু ব্রাহ্মণ পরিবারে বাংকে লাল নামে জন্ম নিয়ে কৈশোরে ইসলাম গ্রহণ করেন তিনি। পরবর্তীতে মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে হাদিস বিভাগের অধ্যাপক ও ডিনের দায়িত্ব পালন করেন এবং সৌদি নাগরিকত্ব লাভ করেন। হাদিস-সংকলন আল-জামি আল-কামিল ফি আল-হাদিস আস-সহীহ আশ-শামিল তার সবচেয়ে পরিচিত কাজ, যেখানে তার দাবি অনুযায়ী সব সহীহ হাদিস একত্র করা হয়েছে।

জন্ম ও ধর্মান্তর

১৯৪৩ সালে আজমগড়ের বিলারিয়াগঞ্জের এক হিন্দু ব্রাহ্মণ পরিবারে তার জন্ম; জন্মনাম ছিল বাংকে লাল (বাংকে রাম নামেও উল্লেখ আছে)। ১৯৫৯ সালে তিনি কুরআনের সংস্কৃত অনুবাদের সন্ধান পান এবং তা পড়ে ইসলামের প্রতি আগ্রহী হন। এর কিছুদিন পর জামায়াতে ইসলামী হিন্দের সদস্য হাকিম মুহাম্মদ আইয়ুব নদভীর কাছ থেকে আবুল আলা মওদূদীর হিন্দি পুস্তিকা সত্য ধর্ম উপহার পান; বইটি পড়ে তার আগ্রহ আরও বাড়ে এবং তিনি জামায়াতে ইসলামী হিন্দের ইসলামি সেমিনারে যোগ দিতে শুরু করেন। ১৯৬০ সালে, প্রায় পনেরো-ষোল বছর বয়সে, তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ইসলাম গ্রহণ করেন। ইসলাম গ্রহণের পর উচ্চবর্ণের হিন্দু পরিবার ও সমাজের তীব্র বিরোধিতার মুখোমুখি হন তিনি।

শিক্ষাজীবন

স্থানীয় স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষার পর তিনি আজমগড়ের শিবলী ন্যাশনাল কলেজে ভর্তি হন। এরপর তামিলনাড়ুর উমরাবাদের জামিয়া দারুসসালামে ঐতিহ্যবাহী দারসে নিজামী পাঠ্যক্রমে পড়াশোনা করেন। পরে তিনি সৌদি আরবে যান: মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইসলামি শিক্ষায় বিএ, মক্কার উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ (গবেষণা-অভিসন্দর্ভের বিষয়: আবু হুরায়রার পক্ষে প্রতিরক্ষা) এবং কায়রোর আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন।

কর্মজীবন

ডক্টরেটের পর ড. আজমি মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক হিসেবে নিযুক্ত হন এবং পরে হাদিস বিভাগের ডিনের দায়িত্ব পান। তিনি সৌদি আরবের নাগরিকত্ব লাভ করেন এবং আমৃত্যু মদিনায় বসবাস করেন। ২০২০ সালের ৩০ জুলাই মদিনায় তার মৃত্যু হয়।

রচনাবলি

ড. আজমির রচনার কেন্দ্রে ছিল হাদিস-শাস্ত্র। উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:

  • আল-জামি আল-কামিল ফি আল-হাদিস আস-সহীহ আশ-শামিল — তার দাবি অনুযায়ী সব সহীহ হাদিসের সংকলন; ইসলামি পণ্ডিত মুহাম্মদ ইসহাক ভাট্টির মতে এমন কাজ এর আগে কেউ করেননি।
  • আবু হুরায়রা ফি দাওই মারওইয়াতিহ — আবু হুরায়রার বর্ণিত হাদিসের সংকলন ও প্রতিরক্ষামূলক আলোচনা।
  • দিরাসাত ফি আল-জারহ ওয়া আত-তা’দিল, আল-মিন্নাহ আল-কুবরা ও মু’জাম মুসতালাহাত আল-হাদিস ওয়া লাতাইফ আল-আসানীদ।
  • তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব: দিরাসাত ফি আল-ইয়াহুদিয়া ওয়া আল-মাসিহিয়া ওয়া আদিয়ান আল-হিন্দ এবং ফুসুল ফি আদিয়ান আল-হিন্দ (হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন ও শিখ ধর্ম এবং সুফিবাদের সঙ্গে এদের সম্পর্ক নিয়ে)।
  • হিন্দি ভাষায়: কুরান কি শীতল ছায়া ও কুরান বিশ্বকোষ (কুরআনের শব্দের বর্ণানুক্রমিক ব্যাখ্যা)।

বাংলা সাহিত্যের সঙ্গে থাকুন

নতুন বই, কবিতা ও লেখক আপডেট পেতে আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন।