মূল কন্টেন্টে যান
ড. ইয়াদ কুনাইবী

ড. ইয়াদ কুনাইবী

সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

এক নজরে

বিষয় তথ্য
পূর্ণ নাম ড. ইয়াদ কুনাইবী (Eyad Qunaibi); আরবি: إياد عبد الحافظ حمادة قنيبي
জন্ম ২২ অক্টোবর ১৯৭৫ (১৬ শাওয়াল ১৩৯৫ হিজরি)
জন্মস্থান সালমিয়া, কুয়েত (জর্ডানীয় পরিবার; শৈশবে আম্মানে স্থানান্তর)
জাতীয়তা জর্ডানীয়
পেশা ফার্মাকোলজির অধ্যাপক, ইসলামি প্রচারক, লেখক
শিক্ষা জর্ডান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় — ফার্মাসিতে বিএসসি (১৯৯৮, সম্মানসহ প্রথম শ্রেণী); ইউনিভার্সিটি অব হিউস্টন, টেক্সাস — ফার্মাকোলজিতে পিএইচডি (২০০৩)
উল্লেখযোগ্য কর্ম হুসনুয যন্নি বিল্লাহ (২০১৯); মুতআতুত তাদাব্বুর (২০২০); ইউটিউব ধারাবাহিক রিহলাতুল ইয়াকীন
পুরস্কার সেরা গবেষক, ফার্মাসি অনুষদ, অ্যাপ্লায়েড সায়েন্স প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি (২০১৩)

পরিচিতি

ড. ইয়াদ কুনাইবী (জন্ম ১৯৭৫) একজন জর্ডানীয় ফার্মাকোলজি অধ্যাপক, গবেষক ও ইসলামি প্রচারক। যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফার্মাকোলজিতে পিএইচডি করে তিনি জর্ডানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অধ্যাপনা করেন এবং ফার্মাকোলজি বিষয়ে বহু উদ্ধৃত গবেষণাপত্রের লেখক। একই সঙ্গে ইউটিউবে তার আরবি ধারাবাহিক রিহলাতুল ইয়াকীন (নিশ্চয়তার যাত্রা) ঈমান, কুরআন ও বিবর্তনবাদ-সমালোচনা নিয়ে আরব বিশ্বে ব্যাপক পরিচিতি পায়। কোনো ইসলামি সংগঠনের সঙ্গে তার আনুষ্ঠানিক সম্পৃক্ততা নেই বলে তিনি জানিয়েছেন।

জন্ম ও শিক্ষা

১৯৭৫ সালের ২২ অক্টোবর (১৬ শাওয়াল ১৩৯৫ হিজরি) কুয়েতের সালমিয়া শহরে এক জর্ডানীয় পরিবারে তার জন্ম; পরিবারের মূল ফিলিস্তিনের হেবরনে। শৈশবেই পরিবার জর্ডানের রাজধানী আম্মানে চলে আসে। ছাত্রজীবনে কুরআন মুখস্থ করেন তিনি। ১৯৯৮ সালে জর্ডান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফার্মাসিতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন সম্মানসহ প্রথম শ্রেণীতে; এরপর পূর্ণ বৃত্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের হিউস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ে যান এবং ২০০৩ সালে ফার্মাকোলজিতে পিএইচডি সম্পন্ন করেন।

একাডেমিক কর্মজীবন

ডক্টরেটের পর তিনি দেড় বছর জর্ডান কোম্পানি ফর ফার্মাসিউটিক্যাল প্রোডাকশনে গবেষণা ও উন্নয়ন বিভাগে কাজ করেন। পরে অ্যাপ্লায়েড সায়েন্স প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির ফার্মাসি অনুষদে যোগ দেন; জর্ডান বিশ্ববিদ্যালয় ও জর্ডান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে খণ্ডকালীন প্রভাষক হিসেবেও পড়ান। জেরাশ বিশ্ববিদ্যালয়ে ফার্মাকোলজির সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে যোগ দিয়ে ২০২২ সালে পূর্ণ অধ্যাপক পদে উন্নীত হন (আরবি উইকিপিডিয়া)। তার গবেষণা দুটি পেটেন্টে অবদান রেখেছে; লিপিনকট ইলাস্ট্রেটেড রিভিউজ: ফার্মাকোলজি গ্রন্থের সপ্তম সংস্করণের বৈজ্ঞানিক পর্যালোচকদের তালিকায় তার নাম অন্তর্ভুক্ত হয়। ২০১৩ সালে তিনি অ্যাপ্লায়েড সায়েন্স প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির ফার্মাসি অনুষদের সেরা গবেষকের পুরস্কার পান।

প্রচার ও লেখালেখি

একাডেমিক কাজের পাশাপাশি কুনাইবী ইসলামি দাওয়াতি তৎপরতায় সক্রিয়। তার ইউটিউব চ্যানেলে প্রচারিত রিহলাতুল ইয়াকীন (নিশ্চয়তার যাত্রা) ধারাবাহিকে তিনি ঈমানের মৌলিক প্রশ্ন, স্রষ্টার অস্তিত্বের প্রমাণ এবং বিবর্তনবাদের সমালোচনা নিয়ে আলোচনা করেন; ধারাবাহিকটির ইংরেজি সংস্করণও প্রকাশিত হয়। তার প্রকাশিত বইয়ের মধ্যে আছে হুসনুয যন্নি বিল্লাহ (আল্লাহর প্রতি সুধারণা, ২০১৯) ও মুতআতুত তাদাব্বুর (২০২০, যৌথ); আরবি বই-তালিকা অনুযায়ী তার মোট সাতটি বই পাওয়া যায়।

কারাবরণ

সরকারি নীতির সমালোচনামূলক ফেসবুক পোস্টের জেরে ২০১৫ সালে জর্ডানের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা আদালত “শাসনের বিরুদ্ধে ঘৃণা উসকানি”র অভিযোগে তাকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেয় বলে এএফপি জানায়। আরবি উইকিপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, তার চিন্তামূলক লেখার কারণে একাধিকবার গ্রেফতার ও কারাবরণ করেন তিনি, যার সর্বশেষটি ২০১৫ সালে।

ব্যক্তিগত জীবন

আরবি সূত্রে উল্লেখ আছে, তিনি বিবাহিত এবং এক পুত্র ও চার কন্যার জনক। তার পারিবারিক জীবন সম্পর্কে এর বেশি যাচাইযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।

বাংলা সাহিত্যের সঙ্গে থাকুন

নতুন বই, কবিতা ও লেখক আপডেট পেতে আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন।