ডেনিস হুইটলি
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
এক নজরে
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| পূর্ণ নাম | ডেনিস ইয়েটস হুইটলি (Dennis Yates Wheatley) |
| জন্ম | ৮ জানুয়ারি ১৮৯৭ |
| জন্মস্থান | ব্রিক্সটন হিল, লন্ডন, ইংল্যান্ড |
| মৃত্যু | ১০ নভেম্বর ১৯৭৭, লন্ডন, ইংল্যান্ড |
| সমাধিস্থল | ব্রুকউড সিমেট্রি, সারে, ইংল্যান্ড |
| জাতীয়তা | ইংরেজ (ব্রিটিশ) |
| পেশা | ঔপন্যাসিক, সম্পাদক |
| লেখকজীবন | ১৯৩০–১৯৭৭ |
| ধারা | অ্যাডভেঞ্চার, অকাল্ট (অতিপ্রাকৃত) ও ঐতিহাসিক কথাসাহিত্য |
| উল্লেখযোগ্য কর্ম | The Forbidden Territory (১৯৩৩), The Devil Rides Out (১৯৩৪); ডিউক দ্য রিশলো, গ্রেগরি স্যালাস্ট, রজার ব্রুক ও জুলিয়ান ডে সিরিজ |
| সম্মাননা | মার্কিন ব্রোঞ্জ স্টার (দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অবদানের জন্য) |
পরিচিতি
ডেনিস ইয়েটস হুইটলি (৮ জানুয়ারি ১৮৯৭ – ১০ নভেম্বর ১৯৭৭) ছিলেন ইংরেজ লেখক, যাঁর থ্রিলার ও অকাল্ট উপন্যাসের বিপুল রচনাসম্ভার তাঁকে ১৯৩০-এর দশক থেকে ১৯৬০-এর দশক পর্যন্ত বিশ্বের সর্বাধিক বিক্রীত লেখকদের একজন করে তোলে। তাঁকে বলা হতো ‘থ্রিলার লেখকদের রাজপুত্র’ (Prince of Thriller Writers)। ১৯৬০-এর দশকে শুধু যুক্তরাজ্যেই তাঁর বই বছরে দশ লাখের বেশি কপি বিক্রি হতো।
জন্ম ও শৈশব
১৮৯৭ সালের ৮ জানুয়ারি লন্ডনের ব্রিক্সটন হিলের ১০ র্যালি গার্ডেন্সে তাঁর জন্ম। বাবা অ্যালবার্ট ডেভিড হুইটলি (মৃত্যু ১৯২৭), মা ফ্লোরেন্স এলিজাবেথ হ্যারিয়েট (নে বেকার)। তিন সন্তানের মধ্যে তিনি ছিলেন জ্যেষ্ঠ ও একমাত্র পুত্র। বাবার মেফেয়ারে ‘হুইটলি অ্যান্ড সন’ নামে মদের ব্যবসা ছিল। পড়াশোনায় মনোযোগ কম থাকায় তিনি ডালউইচ কলেজ থেকে ‘গোপন সংগঠন’ গড়ার অভিযোগে বহিষ্কৃত হন — এ কথা তিনি নিজে The Devil Rides Out-এর ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন। এরপর তিনি ব্রিটিশ মার্চেন্ট নেভির অফিসার ক্যাডেট হিসেবে প্রশিক্ষণ-জাহাজ এইচএমএস Worcester-এ যোগ দেন।
সামরিক জীবন
প্রথম বিশ্বযুদ্ধে তিনি রয়্যাল ফিল্ড আর্টিলারিতে সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট হিসেবে কমিশন পান এবং লুটনের বিস্কট ক্যাম্পে মৌলিক প্রশিক্ষণ নেন। সিটি অব লন্ডন ব্রিগেড ও ৩৬তম (আলস্টার) ডিভিশনে তিনি দায়িত্ব পালন করেন। পাশেনডেলের যুদ্ধে ক্লোরিন গ্যাস আক্রমণে আহত হয়ে তিনি চিকিৎসাজনিত অব্যাহতি পান; এর আগে ফ্ল্যান্ডার্স, ইপ্রেস স্যালিয়েন্ট এবং ফ্রান্সের ক্যামব্রে ও সাঁ-কোঁতাঁতে যুদ্ধ করেন।
কর্মজীবন
১৯১৯ সালে তিনি পারিবারিক মদ-ব্যবসার ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নেন। মহামন্দার কারণে ব্যবসা মন্দা হয়ে পড়লে ১৯৩১ সালে প্রতিষ্ঠানটি বিক্রি করে তিনি লেখালেখি শুরু করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তিনি লন্ডন কন্ট্রোলিং সেকশনের সদস্য ছিলেন — এই গোপন সংস্থা কৌশলগত সামরিক ছলনা ও আবরণ-পরিকল্পনা সমন্বয় করত। তাঁর সাহিত্যিক দক্ষতার কারণে তিনি যুদ্ধ-দপ্তরের পরিকল্পনা কর্মীদের সঙ্গে কাজ করেন এবং যুদ্ধ-ক্যাবিনেটের জয়েন্ট প্ল্যানিং স্টাফের জন্য অসংখ্য প্রতিবেদন লেখেন — যার মধ্যে ছিল ব্রিটেনে সম্ভাব্য নাৎসি আক্রমণ মোকাবিলার প্রস্তাব এবং ‘টোটাল ওয়ার’ শীর্ষক প্রস্তাবনা। তিনি রয়্যাল এয়ার ফোর্স ভলান্টিয়ার রিজার্ভে উইং কমান্ডার হিসেবে সরাসরি কমিশন পান এবং নরম্যান্ডি অভিযানের পরিকল্পনায় অংশ নেন। যুদ্ধে ভূমিকার জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ব্রোঞ্জ স্টার পদকে ভূষিত হন।
সাহিত্যজীবন
তাঁর প্রথম উপন্যাস The Forbidden Territory ১৯৩৩ সালে হাচিনসন থেকে প্রকাশিত হয়ে তাৎক্ষণিক সাফল্য পায় — সাত সপ্তাহে সাতবার পুনর্মুদ্রণ হয়। পরের বছর প্রকাশিত অকাল্ট-বিষয়ক The Devil Rides Out (১৯৩৪) তাঁকে ‘থ্রিলার লেখকদের রাজপুত্র’ খ্যাতি এনে দেয়; জেমস হিল্টন একে Dracula-এর পর এই ধারার সেরা রচনা বলে আখ্যা দেন। তাঁর চারটি প্রধান সিরিজ: ডিউক দ্য রিশলো (ফরাসি বিপ্লব-পটভূমি ও শয়তানবাদ), গ্রেগরি স্যালাস্ট (দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও গুপ্তচরবৃত্তি — এই সিরিজ ইয়ান ফ্লেমিংয়ের জেমস বন্ড কাহিনির অনুপ্রেরণা হিসেবে উল্লিখিত), রজার ব্রুক (নেপোলিয়ন-যুগের ঐতিহাসিক গুপ্তচর কাহিনি) এবং জুলিয়ান ডে। জে. জি. লিংকসের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি চারটি ‘ক্রাইম ডসিয়ে’ রচনা করেন — Murder off Miami, Who Killed Robert Prentice?, The Malinsay Massacre ও Herewith the Clues! — যেখানে পাঠককে সাক্ষ্য, চিঠি ও আলামত ঘেঁটে রহস্য সমাধান করতে হয়। এ ছাড়া তিনি বোর্ড গেম (Invasion, Blockade, Alibi), অকাল্ট-বিষয়ক অকল্পকাহিনি (The Devil and All His Works), রুশ বিপ্লব ও দ্বিতীয় চার্লসের জীবনী এবং আত্মজীবনীমূলক খণ্ড রচনা করেন। হ্যামার স্টুডিও তাঁর উপন্যাস অবলম্বনে চলচ্চিত্র নির্মাণ করে: The Devil Rides Out (১৯৬৮), The Lost Continent (১৯৬৮, Uncharted Seas অবলম্বনে) ও To the Devil… a Daughter (১৯৭৬)।
পুরস্কার ও সম্মাননা
- মার্কিন ব্রোঞ্জ স্টার — দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে লন্ডন কন্ট্রোলিং সেকশনে অবদানের জন্য
সাহিত্য-পুরস্কারের চেয়ে বাণিজ্যিক সাফল্যই ছিল তাঁর প্রধান স্বীকৃতি — ১৯৬০-এর দশকে তাঁর প্রকাশক হাচিনসন বছরে দশ লাখ কপি বিক্রি করত।
মৃত্যু ও উত্তরাধিকার
১৯৭৭ সালের ১০ নভেম্বর লন্ডনের নাইটসব্রিজের ক্যাডোগান স্কয়ারে ৮০ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হয়। টুটিংয়ে দাহ করার পর তাঁর ভস্ম সারের ব্রুকউড সিমেট্রিতে সমাহিত করা হয়। মৃত্যুর পর কপিরাইট-জটিলতায় তাঁর বইয়ের পুনর্মুদ্রণ ব্যাহত হলে জনপ্রিয়তা কিছুটা কমে; তবে ২০০৮ সালে মিডিয়া প্রতিষ্ঠান চোরিয়ন তাঁর সাহিত্য-সম্পদ কিনে নেওয়ার পর ২০১৩ সাল থেকে ব্লুমসবেরি রিডার তাঁর ৫৬টি শিরোনাম পুনঃপ্রকাশ শুরু করে। তাঁর নাতি ডমিনিক হুইটলি ভিডিও-গেম প্রতিষ্ঠান ডোমার্কের সহ-প্রতিষ্ঠাতা।