জয়নাব আল গাজালী
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
এক নজরে
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| পূর্ণ নাম | জয়নাব আল গাজালী (زينب الغزالي) |
| জন্ম | ২ জানুয়ারি ১৯১৭ |
| জন্মস্থান | মিত গামর, দাকাহলিয়া গভর্নরেট, মিশর |
| মৃত্যু | ৩ আগস্ট ২০০৫, মিশর (বয়স ৮৮) |
| জাতীয়তা | মিশরীয় |
| পেশা | ইসলামি কর্মী, লেখিকা |
| শিক্ষা | আল-আজহারের পণ্ডিতদের কাছে ধর্মীয় শিক্ষা |
| উল্লেখযোগ্য কর্ম | মুসলিম মহিলা সমিতির প্রতিষ্ঠা; স্মৃতিকথা আইয়াম মিন হায়াতি (Days from My Life / Return of the Pharaoh) |
| পুরস্কার | নির্ভরযোগ্য সূত্রে কোনো উল্লেখযোগ্য পুরস্কারের তথ্য পাওয়া যায়নি |
পরিচিতি
জয়নাব আল গাজালী (২ জানুয়ারি ১৯১৭ – ৩ আগস্ট ২০০৫) ছিলেন মিশরীয় ইসলামি কর্মী ও লেখিকা। তিনি মুসলিম মহিলা সমিতি (জামা’আতুস সাইয়িদাতিল মুসলিমাত, Muslim Women’s Association)-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং মিশরের ইসলামি নারী-আন্দোলনের অন্যতম অগ্রদূত হিসেবে পরিচিত। ইতিহাসবিদ ইউজিন রোগান তাকে “ইসলামপন্থী নারী-আন্দোলনের অগ্রদূত” এবং সাইয়্যেদ কুতুবের অন্যতম প্রভাবশালী শিষ্য হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
জন্ম ও শৈশব
১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি মিশরের দাকাহলিয়া গভর্নররেটের মিত গামর শহরে তার জন্ম। তার বাবা ছিলেন আল-আজহারে শিক্ষিত স্বাধীন ধর্মীয় শিক্ষক ও তুলা ব্যবসায়ী; তিনি মেয়েকে ইসলামি নেতৃত্বের পথে এগিয়ে যেতে উৎসাহ দিতেন। জয়নাব আল-আজহারের পণ্ডিতদের কাছে ধর্মীয় শিক্ষা লাভ করেন। কৈশোরে কিছুদিন তিনি মিশরীয় নারীবাদী ইউনিয়নে যোগ দেন, কিন্তু শিগগিরই সরে আসেন — তার ভাষায়, ইসলাম নারীকে পারিবারিক ক্ষেত্রে এমন অধিকার দিয়েছে যা অন্য কোনো সমাজ দেয়নি।
সংগঠন-জীবন
আঠারো বছর বয়সে তিনি মুসলিম মহিলা সমিতি প্রতিষ্ঠা করেন। এই সংগঠন নারীদের জন্য সাপ্তাহিক পাঠচক্র চালাত — ইবনে তুলুন মসজিদে তার বক্তৃতায় তিন থেকে পাঁচ হাজার শ্রোতা উপস্থিত হতেন। এছাড়া সংগঠনটি একটি পত্রিকা প্রকাশ করত, এতিমখানা পরিচালনা করত, দরিদ্র পরিবারকে সহায়তা দিত এবং পারিবারিক বিরোধ মীমাংসায় মধ্যস্থতা করত। তার দাবি অনুযায়ী, ১৯৬৪ সালে সরকারি নির্দেশে সংগঠনটি বিলুপ্ত হওয়ার সময় এর সদস্যসংখ্যা ছিল প্রায় ত্রিশ লাখ। মুসলিম ব্রাদারহুডের প্রতিষ্ঠাতা হাসান আল-বান্না তার সংগঠনকে ব্রাদারহুডের সঙ্গে একীভূত করার প্রস্তাব দিলে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখতে; তবে তিনি আল-বান্নার প্রতি ব্যক্তিগত আনুগত্যের শপথ নেন। সংগঠনটি আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রাদারহুডের সঙ্গে যুক্ত না হলেও, ১৯৫৪ সালে নাসের সরকার ব্রাদারহুড নিষিদ্ধ করার পর তিনি এর পুনর্গঠন প্রচেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
কারাবাস ও মুক্তি
১৯৬৫ সালে তার কর্মকাণ্ডের জন্য তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ২৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। কারাগারে তিনি নির্যাতনের শিকার হন বলে তার স্মৃতিকথায় বর্ণনা করেছেন। ছয় বছর কারাভোগের পর ১৯৭১ সালে আনোয়ার সাদাতের শাসনামলে তিনি ক্ষমা পেয়ে মুক্তি পান।
রচনাবলি
কারাজীবনের অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখা তার স্মৃতিকথা আইয়াম মিন হায়াতি ইংরেজিতে Days from My Life (১৯৮৯) ও Return of the Pharaoh (১৯৯৪, “ফারাও” বলতে প্রেসিডেন্ট নাসেরকে বোঝানো হয়েছে) নামে প্রকাশিত হয়। ১৯৭৬–১৯৭৮ সালে তিনি আল-দাওয়া পত্রিকায় নারী ও শিশু বিভাগের সম্পাদক ছিলেন এবং ইসলামি সাময়িকীগুলোতে ইসলাম ও নারী-বিষয়ে নিয়মিত লিখতেন।
ব্যক্তিগত জীবন
তিনি দুইবার বিবাহ করেন; তার কোনো সন্তান ছিল না — সন্তানহীনতাকে তিনি নিজের ভাষায় “আশীর্বাদ” বলেছেন, কারণ এটি তাকে জনজীবনে অংশ নিতে মুক্তি দিয়েছিল। কারাবাসকালে তার দ্বিতীয় স্বামীর মৃত্যু হয়।
উত্তরাধিকার
মুক্তির পর তিনি কায়রোর মসজিদ ও নিজ বাসায় পাঠদান চালিয়ে যান, মুসলিম দেশগুলোতে বক্তৃতা দেন এবং ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি পর্যন্ত লেখালেখি অব্যাহত রাখেন। সত্তরের দশকে পাকিস্তান সফরে তিনি আফগান মুজাহিদিনের প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানান। ২০০৫ সালের ৩ আগস্ট ৮৮ বছর বয়সে কায়রোয় তার মৃত্যু হয়। মিশরের ইসলামি নারী-সক্রিয়তার ইতিহাসে তিনি এক স্বতন্ত্র ও বহুল-আলোচিত ব্যক্তিত্ব হিসেবে স্মরণীয়।