মূল কন্টেন্টে যান
চেতন ভগত

চেতন ভগত

সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

এক নজরে

বিষয় তথ্য
পূর্ণ নাম চেতন প্রকাশ ভগত
ইংরেজি রূপ Chetan Prakash Bhagat
জন্ম ২২ এপ্রিল ১৯৭৪
জন্মস্থান নয়াদিল্লি, ভারত
জাতীয়তা ভারতীয়
পেশা ঔপন্যাসিক, কলামিস্ট, চিত্রনাট্যকার, প্রাক্তন ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকার
শিক্ষা আইআইটি দিল্লি — মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিটেক (১৯৯৫); আইআইএম আহমেদাবাদ — এমবিএ (১৯৯৭)
উল্লেখযোগ্য রচনা ফাইভ পয়েন্ট সামওয়ান (২০০৪), ওয়ান নাইট @ দ্য কল সেন্টার (২০০৫), দ্য থ্রি মিসটেকস অব মাই লাইফ (২০০৮), ২ স্টেটস (২০০৯), রেভোলিউশন ২০২০ (২০১১), হাফ গার্লফ্রেন্ড (২০১৪), ওয়ান ইন্ডিয়ান গার্ল (২০১৬)
পুরস্কার টাইম ম্যাগাজিনের বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তি (২০১০); ফিল্মফেয়ার সেরা চিত্রনাট্য পুরস্কার (২০১৪, কাই পো চে!); সোসাইটি ইয়াং অ্যাচিভার্স অ্যাওয়ার্ড (২০০৪); পাবলিশার্স রেকগনিশন অ্যাওয়ার্ড (২০০৫)

পরিচিতি

চেতন ভগত (২২ এপ্রিল ১৯৭৪) ভারতের সর্বাধিক বিক্রীত ইংরেজি ভাষার ঔপন্যাসিকদের একজন — “দ্য নিউইয়র্ক টাইমস”-এর ভাষায় তিনি ভারতের ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি বিক্রীত ইংরেজি ঔপন্যাসিক। প্রকৌশলী ও ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকার থেকে পূর্ণসময়ের লেখক হওয়ার যাত্রা তাকে ভারতীয় তরুণদের কাছে আইকন বানিয়েছে। তরুণ ও নাগরিক ভারতের গল্প তিনি বলেন সহজ-সরল, সরাসরি ভাষায়; তার উপন্যাসের বড় অংশ বলিউড চলচ্চিত্রে রূপায়িত হয়েছে। ২০১০ সালে টাইম ম্যাগাজিনের বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় তিনি স্থান পান।

জন্ম ও শৈশব

১৯৭৪ সালের ২২ এপ্রিল নয়াদিল্লির এক মধ্যবিত্ত পাঞ্জাবি পরিবারে চেতন ভগতের জন্ম। তার বাবা ভারতীয় সেনাবাহিনীর একজন লেফটেন্যান্ট কর্নেল ছিলেন এবং মা নয়াদিল্লির ভারতীয় কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটে বিজ্ঞানী হিসেবে কাজ করতেন। ধৌলা কুয়ানের আর্মি পাবলিক স্কুলে পড়াশোনার সময়ই স্কুল পত্রিকায় লেখালেখির মাধ্যমে তার লেখক-সত্তার বিকাশ শুরু হয়।

শিক্ষাজীবন

১৯৯৫ সালে তিনি আইআইটি দিল্লি থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিটেক ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর আইআইএম আহমেদাবাদ থেকে ১৯৯৭ সালে ব্যবসায় প্রশাসনে (মার্কেটিংয়ে বিশেষায়িত) স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পান — সেখানে তিনি “সেরা বিদায়ী ছাত্র” উপাধিতে ভূষিত হন। ২০১৮ সালে আইআইএম আহমেদাবাদ তাকে শিল্প ও বিনোদন বিভাগে “ইয়াং অ্যালামনাই অ্যাচিভার্স অ্যাওয়ার্ড” প্রদান করে।

কর্মজীবন

এমবিএর পর চেতন ভগত ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকিংয়ে যোগ দেন। হংকংয়ে তিনি গোল্ডম্যান স্যাকস ও ডয়চে ব্যাংকে প্রায় এক দশক কাজ করেন (২০০৬ সালে ডয়চে ব্যাংকের স্ট্র্যাটেজিক ইনভেস্টমেন্ট গ্রুপের ভাইস প্রেসিডেন্ট হন)। হংকংয়ে কর্মরত অবস্থাতেই তিনি প্রথম উপন্যাস লেখা শুরু করেন। ২০০৮ সালে পরিবারসহ ভারতে ফিরে এসে তিনি ব্যাংকিং ছেড়ে দেন এবং পূর্ণসময়ের লেখক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।

সাহিত্যজীবন

তার প্রথম উপন্যাস ফাইভ পয়েন্ট সামওয়ান (২০০৪) — তিন “গড়পড়তা” আইআইটি ছাত্রের গল্প — প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে তাকে রাতারাতি খ্যাতি এনে দেয়। এরপর একে একে প্রকাশিত হয় ওয়ান নাইট @ দ্য কল সেন্টার (২০০৫), দ্য থ্রি মিসটেকস অব মাই লাইফ (২০০৮), ২ স্টেটস: দ্য স্টোরি অব মাই ম্যারেজ (২০০৯), রেভোলিউশন ২০২০ (২০১১), হাফ গার্লফ্রেন্ড (২০১৪), ওয়ান ইন্ডিয়ান গার্ল (২০১৬), দ্য গার্ল ইন রুম ১০৫ (২০১৮), ওয়ান অ্যারেঞ্জড মার্ডার (২০২০) ও ৪০০ ডেজ (২০২১)। অ-কল্পকাহিনীমূলক বইয়ের মধ্যে আছে হোয়াট ইয়ং ইন্ডিয়া ওয়ান্টস (২০১২), মেকিং ইন্ডিয়া অসাম (২০১৫) ও ইন্ডিয়া পজিটিভ (২০১৯)।

তার বহু উপন্যাস বলিউড চলচ্চিত্রে রূপ পেয়েছে: ফাইভ পয়েন্ট সামওয়ান থেকে ৩ ইডিয়টস, ওয়ান নাইট @ দ্য কল সেন্টার থেকে হ্যালো, দ্য থ্রি মিসটেকস অব মাই লাইফ থেকে কাই পো চে!, এবং ২ স্টেটস ও হাফ গার্লফ্রেন্ড। কাই পো চে!-এর জন্য তিনি ২০১৪ সালে ফিল্মফেয়ারের সেরা চিত্রনাট্য পুরস্কার পান। উপন্যাসের বাইরে তিনি টাইমস অব ইন্ডিয়া, হিন্দুস্তান টাইমস ও দৈনিক ভাস্করে সমাজ-রাজনীতি নিয়ে নিয়মিত কলাম লেখেন, টিভি অনুষ্ঠানে বিচারকের ভূমিকা পালন করেছেন এবং একজন জনপ্রিয় বক্তা হিসেবে পরিচিত।

ব্যক্তিগত জীবন

আইআইএম আহমেদাবাদে পড়ার সময় পরিচিত অনুষা সূর্যনারায়ণের সঙ্গে ১৯৯৮ সালে তার বিবাহ হয়। এই দম্পতির দুই পুত্র — ঈশান ও শ্যাম।

পুরস্কার ও সম্মাননা

সোসাইটি ইয়াং অ্যাচিভার্স অ্যাওয়ার্ড (২০০৪); পাবলিশার্স রেকগনিশন অ্যাওয়ার্ড (২০০৫); টাইম ম্যাগাজিনের “বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তি” তালিকা (২০১০); ফিল্মফেয়ার সেরা চিত্রনাট্য পুরস্কার (২০১৪, কাই পো চে!); আইআইএম আহমেদাবাদের ইয়াং অ্যালামনাই অ্যাচিভার্স অ্যাওয়ার্ড (২০১৮, শিল্প ও বিনোদন বিভাগ)।

বর্তমান অবস্থা ও উত্তরাধিকার

চেতন ভগত বর্তমানে মুম্বাইয়ে বাস করেন এবং লেখালেখি, চিত্রনাট্য ও ডিজিটাল মাধ্যমে সক্রিয়। সমালোচকদের কাছে তিনি বিতর্কিত হলেও ভারতের তরুণ পাঠকদের মধ্যে ইংরেজি বইপড়ার অভ্যাস জনপ্রিয় করার ক্ষেত্রে তার অবদান অনস্বীকার্য — এ কারণেই তাকে ভারতের প্রথম সত্যিকারের “মাস-মার্কেট” ইংরেজি ঔপন্যাসিক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

বাংলা সাহিত্যের সঙ্গে থাকুন

নতুন বই, কবিতা ও লেখক আপডেট পেতে আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন।