মূল কন্টেন্টে যান
কাজী বাহাউদ্দীন শাদ্দাদ

কাজী বাহাউদ্দীন শাদ্দাদ

সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

এক নজরে

পূর্ণ নাম বাহাউদ্দিন ইউসুফ ইবনে রাফি ইবনে শাদ্দাদ (بهاء الدين ابن شداد)
পরিচিত নাম কাজী বাহাউদ্দীন শাদ্দাদ
জন্ম ৫ মার্চ ১১৪৫ (৫৩৯ হিজরির ১০ রমজান), মসুল (বর্তমান ইরাক)
মৃত্যু ৮ নভেম্বর ১২৩৪ (৬৩২ হিজরির ১৪ সফর), আলেপ্পো (বর্তমান সিরিয়া)
বংশ কুর্দি বংশোদ্ভূত
পেশা ঐতিহাসিক, ইসলামি আইনবিদ, কাজি
প্রধান রচনা আন-নাওয়াদিরুস সুলতানিয়া (সুলতান সালাহউদ্দিনের জীবনী)

পরিচিতি

বাংলা পাঠকের কাছে কাজী বাহাউদ্দীন শাদ্দাদ নামটি পরিচিত মূলত সুলতান সালাহউদ্দিন আইয়ুবির জীবনীকার হিসেবে — ‘মহাবীর সালাহউদ্দিন আইয়ুবি’ শিরোনামে বাংলা বইটি এই নামেই প্রচলিত। পরিচয় যাচাইয়ে দেখা গেছে, এই নামে আলাদা কোনো আধুনিক বাংলাদেশি লেখকের অস্তিত্বের নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি; নামটি আসলে দ্বাদশ শতকের খ্যাতনামা ঐতিহাসিক বাহাউদ্দিন ইবনে শাদ্দাদের, যিনি ছিলেন আলেপ্পোর কাজি। ফলে এই জীবনীতে ঐতিহাসিক ইবনে শাদ্দাদের যাচাইযোগ্য জীবনকথাই তুলে ধরা হলো; প্রচলিত বাংলা সংস্করণের প্রকাশক বা অনুবাদক সম্পর্কে যাচাইযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।

জন্ম ও শিক্ষা

ইবনে শাদ্দাদ ৫৩৯ হিজরির ১০ রমজান (৫ মার্চ ১১৪৫ খ্রিষ্টাব্দ) বর্তমান ইরাকের মসুলে জন্মগ্রহণ করেন। মসুলে তিনি কুরআন, হাদিস ও ইসলামি আইনের ওপর শিক্ষা অর্জন করেন। এরপর বাগদাদের নিজামিয়া মাদ্রাসায় গমন করে সেখানে তিনি ‘মুইদ’ (সহকারী অধ্যাপক) হন। আনুমানিক ১১৭৩ সালের দিকে তিনি মসুলে ফিরে ‘মুদাররিস’ (অধ্যাপক) হিসেবে নিয়োগ পান।

কর্মজীবন

১১৮৮ সালে হজ থেকে ফিরে আসার পর সুলতান সালাহউদ্দিন তাঁকে তলব করেন; সুলতান ইতঃপূর্বে ইবনে শাদ্দাদের লেখা পড়েছিলেন এবং তাঁর গুণের কদর করতেন। এরপর ইবনে শাদ্দাদ স্থায়ীভাবে সালাহউদ্দিনের অধীনে কাজে যোগ দেন। সালাহউদ্দিন তাঁকে ‘কাজি আল-আসকার’ (সেনাবাহিনীর বিচারক) হিসেবে নিয়োগ দেন। এই পদে থাকার ফলে ইবনে শাদ্দাদ এক্রের অবরোধ ও আরসুফের যুদ্ধের প্রত্যক্ষদর্শী হওয়ার সুযোগ পান এবং তৃতীয় ক্রুসেডের একটি প্রাঞ্জল বিবরণ লিখে যেতে সক্ষম হন। সুলতান সালাহউদ্দিন ও ইবনে শাদ্দাদ ঘনিষ্ঠ বন্ধু হয়ে ওঠেন; সুলতান তাঁকে বেশ কয়েকটি উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক ও বিচারিক দপ্তরে নিয়োগ দেন এবং মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত ইবনে শাদ্দাদ তাঁর একজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও অন্যতম প্রধান উপদেষ্টা ছিলেন। সালাহউদ্দিনের মৃত্যুর পর ইবনে শাদ্দাদ আলেপ্পোর কাজি হিসেবে নিয়োগ পান।

সাহিত্যজীবন ও রচনাবলি

ইবনে শাদ্দাদের প্রধান ও সর্বাধিক পরিচিত রচনা ‘আন-নাওয়াদিরুস সুলতানিয়া ওয়াল-মাহাসিনুল ইউসুফিয়া’ — সুলতান সালাহউদ্দিনের জীবনী। সুলতানের ঘনিষ্ঠ সহচর ও উপদেষ্টা হিসেবে তাঁর এই জীবনী প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার ওপর রচিত এবং ক্রুসেডযুগের ইতিহাসের অন্যতম প্রধান প্রাথমিক উৎস হিসেবে গণ্য। অন্যান্য রচনার নির্ভরযোগ্য তালিকা যাচাই করা যায়নি।

ব্যক্তিগত জীবন

তাঁর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবন সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য সূত্রে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

মৃত্যু ও উত্তরাধিকার

৬৩২ হিজরির ১৪ সফর (৮ নভেম্বর ১২৩৪ খ্রিষ্টাব্দ) ৮৯ বছর বয়সে তিনি আলেপ্পোয় মৃত্যুবরণ করেন। সালাহউদ্দিনের জীবনীকার হিসেবে তাঁর রচনা পরবর্তী প্রজন্মের ইতিহাসবিদ ও গবেষকদের কাছে ক্রুসেডযুগের অপরিহার্য উৎস হিসেবে রয়ে গেছে।

বাংলা সাহিত্যের সঙ্গে থাকুন

নতুন বই, কবিতা ও লেখক আপডেট পেতে আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন।