মূল কন্টেন্টে যান
এডওয়ার্ড স্নোডেন

এডওয়ার্ড স্নোডেন

সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

এক নজরে

পূর্ণ নাম এডওয়ার্ড জোসেফ স্নোডেন (Edward Joseph Snowden)
জন্ম ২১ জুন ১৯৮৩, এলিজাবেথ সিটি, নর্থ ক্যারোলাইনা, যুক্তরাষ্ট্র
জাতীয়তা মার্কিন-রুশ (২০২২ সালে রুশ নাগরিকত্ব)
পেশা সিস্টেম প্রশাসক, হুইসেলব্লোয়ার, লেখক
শিক্ষা অ্যান আরান্ডেল কমিউনিটি কলেজ (অসম্পূর্ণ); লিভারপুল বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর (অসম্পূর্ণ)
উল্লেখযোগ্য রচনা Permanent Record (আত্মজীবনী, ২০১৯)
স্বীকৃতি স্যাম অ্যাডামস পুরস্কার (২০১৩), দ্য গার্ডিয়ান পাঠক-জরিপে বর্ষসেরা ব্যক্তি (২০১৩)

পরিচিতি

এডওয়ার্ড জোসেফ স্নোডেন (জন্ম ২১ জুন ১৯৮৩) যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার (NSA) সাবেক গোয়েন্দা ঠিকাদার। ২০১৩ সালে তিনি NSA-এর বৈশ্বিক নজরদারি কর্মসূচি-সংক্রান্ত হাজারো গোপন নথি সাংবাদিকদের কাছে প্রকাশ করেন, যা জাতীয় নিরাপত্তা বনাম ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিয়ে বিশ্বব্যাপী বিতর্কের সূত্রপাত ঘটায়। এই ঘটনার পর মার্কিন বিচার বিভাগ তাঁর বিরুদ্ধে ১৯১৭ সালের গুপ্তচরবৃত্তি আইনে অভিযোগ আনে; তিনি তখন থেকে রাশিয়ায় বসবাস করছেন।

জন্ম ও শিক্ষা

১৯৮৩ সালের ২১ জুন নর্থ ক্যারোলাইনার এলিজাবেথ সিটিতে স্নোডেনের জন্ম। শৈশবে তাঁর পরিবার মেরিল্যান্ডে চলে যায়; বাবা ছিলেন কোস্ট গার্ড কর্মকর্তা, মা ফেডারেল আদালতের কর্মচারী। তিনি হাইস্কুল শেষ না করলেও GED অর্জন করেন এবং অ্যান আরান্ডেল কমিউনিটি কলেজে কম্পিউটার বিজ্ঞান পড়েন (১৯৯৯–২০০১ ও ২০০৪–২০০৫)। ২০০৪ সালে তিনি আর্মি রিজার্ভের স্পেশাল ফোর্সেস প্রশিক্ষণে যোগ দেন, কিন্তু প্রশিক্ষণে আঘাত পেয়ে প্রায় চার মাস পর অব্যাহতি পান। পরে লিভারপুল বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার নিরাপত্তায় স্নাতকোত্তর শুরু করলেও তা শেষ করেননি।

কর্মজীবন

২০০৬ সালে তিনি কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থায় (CIA) যোগ দেন; ২০০৯ সালে ডেল-এ যান, যেখানে তিনি NSA-এর কম্পিউটার ব্যবস্থা পরিচালনা করতেন। ২০১৩ সালে দুই মাস বুজ অ্যালেন হ্যামিলটনে কাজ করেন — এই সময়েই তিনি NSA-এর নথি সংগ্রহ করেন বলে জানা যায়।

২০১৩ সালের প্রকাশনা

২০১৩ সালের মে মাসে হংকংয়ে গিয়ে স্নোডেন সাংবাদিক গ্লেন গ্রিনওয়াল্ড, লরা পয়ট্রাস, বার্টন গেলম্যান ও ইউয়েন ম্যাকআস্কিলের কাছে হাজারো গোপন নথি হস্তান্তর করেন। জুনের শুরুতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উঠে আসে PRISM-সহ NSA-এর ব্যাপক তথ্য-সংগ্রহ কর্মসূচির চিত্র — যেখানে টেলিযোগাযোগ কোম্পানি ও ইউরোপীয় সরকারগুলোর সহযোগিতার কথাও ছিল। ২০১৩ সালের ২১ জুন মার্কিন বিচার বিভাগ তাঁর বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তি আইনের দুটি ধারা ও সরকারি সম্পত্তি চুরির অভিযোগ প্রকাশ করে এবং পররাষ্ট্র দপ্তর তাঁর পাসপোর্ট বাতিল করে। মস্কোর শেরেমেতিয়েভো বিমানবন্দরে প্রায় এক মাস থাকার পর ২০১৩ সালের আগস্টে তিনি রাশিয়ায় আশ্রয় পান; ২০২০ সালে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি এবং ২০২২ সালে রুশ নাগরিকত্ব লাভ করেন।

পরবর্তী জীবন

২০১৬ সাল থেকে স্নোডেন ফ্রিডম অব দ্য প্রেস ফাউন্ডেশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন বলে বিভিন্ন জীবনীতে উল্লেখ আছে। ২০১৯ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর আত্মজীবনী পার্মানেন্ট রেকর্ড। তিনি স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ রাশিয়ায় বসবাস করছেন এবং ডিজিটাল অধিকার নিয়ে সক্রিয় আছেন।

পুরস্কার ও স্বীকৃতি

  • স্যাম অ্যাডামস পুরস্কার (২০১৩)
  • দ্য গার্ডিয়ান পাঠক-জরিপে বর্ষসেরা ব্যক্তি (২০১৩)

মূল্যায়ন

স্নোডেনের কর্ম নিয়ে মতভেদ রয়ে গেছে: একদল তাঁকে গোপনীয়তার অধিকার রক্ষায় হুইসেলব্লোয়ার হিসেবে দেখেন, অন্যদিকে মার্কিন কর্তৃপক্ষ তাঁকে গুপ্তচরবৃত্তি আইনে অভিযুক্ত করে রেখেছে। নজরদারি, স্বচ্ছতা ও নাগরিক স্বাধীনতা নিয়ে আধুনিক বিতর্কে তাঁর নাম একটি কেন্দ্রীয় রেফারেন্স হয়ে আছে।

বাংলা সাহিত্যের সঙ্গে থাকুন

নতুন বই, কবিতা ও লেখক আপডেট পেতে আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন।